জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি যেমন দেখেছি

মীর মোশাররেফ হোসেন পাকবীর : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য সন্তান জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ক্লান্তিহীন নিরলস চেষ্টা আর সংগ্রামে বহু চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এক অমানবিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন হারানোর শোকে বিমুূঢ় শেখ হাসিনা ব্যথিত হৃদয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে। তিনি যেদিন দেশে ফিরলেন তখন দেশে বিরাজমান বৈরী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও ছিল থমথমে। তারপর দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় জনগণের অধিকার রক্ষায় গণতন্ত্রের জন্য তিনি সংগ্রামশীল জীবনের পরতে পরতে মোকাবেলা করেছেন দলন-পীড়ন, ষড়যন্ত্র আর কূটকৌশলের বেড়াজাল। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্রের বিকাশে তিনি আজও কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম ক্লান্তিহীন।
ছোটবেলা থেকেই পিতার রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখেছেন এবং ছাত্রীজীবনেও তিনি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিধায় দেশে ফিরে সামরিক স্বৈরশাসকের কুশাসনে নিষ্পেষিত দেশের মানুষের প্রয়োজনে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁর বাবা এই জাতির পিতা, স্বাধীনতার স্থপতি দীর্ঘ সময় জেলে বন্দী জীবন কাটিয়েও বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ করতে পিছপা হননি। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীকে আঙ্গুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন সবসময়। মৃত্যুর ভয়কে কখনো তোয়াক্কা করেননি। সেই বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার রক্তে বঙ্গবন্ধুর রক্তই প্রবাহমান। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার আগে ও পরে তাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা এক চুলও নড়েননি। কাজ করে চলেছেন সাহসিকতার সাথে। তিনি জনগণের সেবায় ও এ দেশের উন্নয়নে যেভাবে কাজ করে চলেছেন, তাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
এখানে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। ওয়ার্ল্ড নিউজপেপার এসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আমি জার্মানি যাই। সেখানে বাংলাদেশ হাই কমিশনে বসে একদিন বিকালে আমি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু কন্যা যে বাড়িটিতে ছিলেন, সেটি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করি। তখন জানতে পারি যে, ওই দিন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন না। তাঁদের সৌভাগ্য যে, তাঁরা জার্মানি ছেড়ে আগেই চলে গিয়েছিলেন। কারণ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কর্ণেল ফারুক-রশিদ এবং তাদের সহযোগীরা বঙ্গবন্ধু-কন্যাদ্বয়কে হত্যার জন্য জার্মানীর ঐ বাড়ীটিতে তাদের দোসরদেরকে পাঠিয়েছিলেন। সেটাই ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা। কিন্তু আল্লাহ্র অসীম রহমতে তাঁরা মাত্রই বেলজিয়ামের উদ্দেশ্যে জার্মানি ছেড়ে যান। সেখানেই তাঁরা বাবা, মা, ভাইসহ গোটা পরিবার হারানোর খবর পান এবং শুরু হয় তাদের পালিয়ে বেড়াবার পালা।
এক বুক দুঃখ নিয়ে দুই বোন ফেরারির মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। বাবা, মা, ভাইদের লাশগুলো দেখারও সুযোগ হয়নি তাদের। বেলজিয়াম থেকে বিশেষ গোপনীয়তায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীর কাছে পৌঁছান তাঁরা। দীর্ঘ ছয় বছর পর দেশে ফিরেন শেখ হাসিনা। ফিরে আসেন সেই দেশে, যে দেশ তাঁর পিতার কারণেই পেয়েছিল এক নতুন পরিচয়, যে দেশে তাঁর পিতাসহ পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে তাঁর কষ্টের কথা শুনতে শুনতে অঝোরে আমার চোখ দিয়ে অশ্রু পড়ছিলো। মনে হচ্ছিল, যে কষ্ট শেখ হাসিনা সে সময় বুকে বহন করছিলেন তা শুধু বাংলাদেশেরই নয়, সারা পৃথিবীর কষ্টগুলোর থেকেও বেশী ছিল। তাঁর সেই ছয় বছরের করুণ ইতিহাস যদি আজো কোন বাঙ্গালী শোনে, তবে নিশ্চিত যে, সেও অঝোরে  কাঁদবে। আর মনে পড়ছিলো ছোট্ট শেখ রাসেলের কথা, ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটে শেষ হয়ে যায় একটি নিরপরাধ শিশুর সম্ভাবনাময় জীবন। আমার জন্মের একই মাসে জন্ম নেয়া শেখ রাসেল আমার থেকে মাত্র এক বছরের ছোট ছিল। এই বেদনা কি ভোলা যায়?
দেশের প্রথিতযশা শিশু সংগঠন, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে দীর্ঘ সময় খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার অনুষ্ঠানে যখনই সুযোগ পান তিনি আসেন। দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের পাশাপাশি তিনি যে একজন স্নেহময়ী মা তখনই তা আমার কাছে দৃশ্যমান হয়। শিশুদের কাছে পেলেই কথা বলতেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শিশুদের কাছে তাদের কুশল জানতে চাইতেন। উপদেশমূলক কথা বলে উৎসাহিত করতেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার মানুষ হতে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে বলতেন। কখনো কখনো শিশুদের কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হতেন শিশু রাসেলের কথা স্মরণ করে। শিশুদের উদ্দেশ্যে বলতেন, শিশু রাসেল তোমাদের মতই শিশু ছিল। কি দোষ ছিল তার? তাকে কেন হত্যা করা হলো? সে তো কোন অপরাধ করতে পারে না। তাহলে কেন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? শেখ রাসেলের কথা বলতে বলতে শেখ হাসিনার চোখ অশ্রু সজল হয়ে উঠতো।
ব্যক্তিগতভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু গুনের কথা বলতে হলে, প্রথমেই বলতে হয় যে, তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী। কঠোর সত্য কথাগুলোও তিনি অত্যন্ত সহজভাবে বলে ফেলেন। অত্যন্ত ধার্মিক আমাদের এই প্রিয় রাষ্ট্রনায়ক। আর তাঁর যে বিষয়টি আমাদের মনে সবচেয়ে বেশী ছোঁয়া দেয়, তা হলো তাঁর ভেতরে থাকা সুনিবিড় মাতৃভাব। একজন স্নেহময়ী জননীর মতোই তিনি সকলকে কাছে টেনে নেন। মানুষকে সহজেই আপন করবার মতো একটি কোমল মনের অধিকারিণী তিনি। কারো কাছে তিনি মায়ের মতো, কারো কাছে তিনি বোনের মত, কারো কাছে খালার মতো- একজন বাঙালি নারীর সকল মমতাময়ী চরিত্রগুলোই তাঁর মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। এর প্রমাণ আমরা পাই, সম্প্রতি তাঁর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে সফরের সময়েও। যেভাবে তিনি আবেগের সাথে অশ্রুসজল চোখে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করা শরণার্থী শিবিরে থাকা শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, তা শুধুমাত্র একজন মা-ই পারে। পৃথিবীর আর কোন রাষ্ট্রনায়ক তাঁর মতো মানবিকতার প্রতিমূর্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর এখানেই জননেত্রী শেখ হাসিনা সকলের থেকে ব্যতিক্রম।
বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার এই প্রবল মাতৃভাব ও মানবিকতার সাথে পরিচয় হয় আমার। ওনার এই গুনাবলী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত করে। তাঁরই দিকনির্দেশনায় এই দেশের শিশু কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশে আরও দৃঢ়চিত্তে কাজ করতে উৎসাহী হয়ে উঠি। তারপর পেরিয়ে গেছে অনেক পথ। আজকে সারা বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের মাঝে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা একটি পরিচিত ও অনুপ্রেরণার নাম। আজও আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যার দেয়া অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ নিয়েই এগিয়ে চলছি।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যে বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন তা অল্প কথায় তুলে ধরা খুব কঠিন। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরীর ঘোষণা দিয়েছেন। জাতির সাথে ওয়াদা করেছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই তার প্রথম লক্ষ্য। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আটকে যান তিনি। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য শেখ হাসিনার প্রত্যয় আরো দৃঢ় হলো। আরও সাহসী হলেন তিনি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করার কাজ চলছে। মানুষ এখন থেকেই যার সুফল দেশের পেতে শুরু করেছে। বলতে দ্বিধা নেই তার নেতৃত্বে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন যখন বিশ্বব্যাংকের মনগড়া অভিযোগে ভেস্তে যেতে লাগলো, তখন শেখ হাসিনা একজন দৃঢ়চেতা সাহসী রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা রাখলেন। বলে দিলেন, বিশ্বব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করবো। শেখ হাসিনার এই দৃঢ়চেতা মনোভাবে অনেক বিশ্বনেতারাই আশ্চর্য হলেন। একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিভাবে এতো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন? শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে অনেকেই দিবাস্বপ্ন বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু জাতি ও বিশ্ববাসীর সামনে আজ তা স্বপ্নও নয়, কল্পনাও নয়, বাস্তব।
পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের না সূচক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর কথায় কথায় মিথ্যা চাপিয়ে দিতে চায়। নতজানু করে রাখতে চায়। তাদের মনে রাখতে হবে বাঙালি জাতিকে কখনো নতজানু করা যায়নি, নতজানু করা যাবে না। বাঙালি জাতি কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না।
জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তিন মেয়াদে বাংলাদেশের নানা দিকে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। অনেক উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তাঁর হাত ধরে শুরু হয়েছে। তন্মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর ঘোষণা ও বাস্তবায়নের শুরু, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের পথে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি বাস্তবায়ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি বাস্তবায়ন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোয় অচিন্ত্যনীয় সাফল্য, নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু, নারীদের উন্নয়নে বিশেষ সাফল্য, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার হারকে ৫৩.৭% (২০০৮) থেকে ৭২.৩% (২০১৭)-এ উন্নীত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ২০০৮-এ ৫.৭৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার থেকে ২০১৭ সালে ৩৩.৪০ বিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত করা, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২০০৮-এ ৬৯৮.৭ ইউএস ডলার থেকে ২০১৭ সালে ১৬০২ ইউএস ডলারে উন্নীত করা, ভারত থেকে ছিটমহল এবং ভারত ও মায়ানমার হতে সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে দেশের সীমা ও আয়তন বৃদ্ধিকরণ, দেশের ভিতরে শক্তভাবে জঙ্গিবাদ দমন করা, পার্শ্ববর্তী দেশের জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
আমরা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারি যে, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে জাতিগত নিধন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া শরণার্থী অনুপ্রবেশের যে সমস্যা এখন সারা পৃথিবীকে উত্তাল করছে, সেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সমস্যার সমাধানও তাঁর কুটনৈতিক বিচক্ষণতার মাধ্যমেই হবে। তাঁর আমলগুলোতে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে অন্য যে কোন সরকারের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। তাঁর এই সার্থকতাই তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের শাসনামলে জননেত্রী থেকে বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তিনি সারা বিশ্ব থেকে অসংখ্য স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। ইউনাইটেড নেশনস-ওমেন প্রদত্ত ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম প্রদত্ত ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো প্রদত্ত ‘ফেলিক্স হওফেত-বইনি শান্তি পদক’, অল ইন্ডিয়া পীস কাউন্সিল প্রদত্ত ‘মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড,’ নরওয়ের এম. কে. গান্ধী ফাউন্ডেশন প্রদত্ত ‘এম. কে. গান্ধী অ্যাওয়ার্ড’, নারীদের উন্নয়নের জন্য ইউনেস্কো প্রদত্ত ‘পীস ট্রী অ্যাওয়ার্ড’, আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবেলায় নীতি নির্ধারণ ও নেতৃত্বের জন্য ‘ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রাইজ’ এবং ইউএন প্রদত্ত ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ’ অ্যাওয়ার্ড, আইটিইউ প্রদত্ত ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ইউএন প্রদত্ত ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী অ্যাওয়ার্ড’- বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই সম্মাননাগুলো তাঁকে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করেছে। ২০১৬ সালে, ফরচুন ম্যাগাজিনের ৫০ জন মহান নেতার তালিকায় তিনি ১০ম স্থানে আসীন হন। এছাড়াও শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মোট ১৪ বার ভাষণ দিয়েছেন। তন্মধ্যে টানা ৯ বার বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি রেকর্ড স্থাপন করেন। বিশ্বের কাছে শুধু নিজেকেই নয় এই দেশকে তথা এইদেশের মানুষকেও একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বাদ পেতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গনে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা দেখে এটা অবশ্যই বলা যায় যে, বাংলাদেশ যথাসময়ে যথার্থ নেতৃত্বই পেয়েছে। এইরূপ নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেবে।
জননেত্রীর জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করি। একবার দুবার নয়, ২০ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহ্র অপার করুণায় ও দেশবাসীর প্রার্থনায় এখনো তিনি সুস্থ্য আছেন এবং নিজের  প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দেশবাসীর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রিয় নেত্রী,  আপনি বেঁচে থাকুন দীর্ঘদিন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ, আসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ এবং উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়ে আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করি। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক আরও বহুদূর। আপনার আত্মত্যাগ ও এদেশের মানুষের জন্য ভালোবাসা এই দেশ, এই জাতি, এই বিশ্ব কোনদিনও ভুলবে না।
লেখক পরিচিতি : প্রধান পৃষ্ঠপোষক – বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার, সম্পাদক – বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘কিশোর বাংলা’, প্রধান সম্পাদক – মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ), পরিচালক – জাতীয় ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য ডেইলী অবজারভার’ এবং চেয়ারম্যান – বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ অব কোম্পানীজ’।