জনপ্রিয় অভিনেতা সিরাজ হায়দার আর নেই

40
এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও জনপ্রিয় অভিনেতা এবং পরিচালক সিরাজ হায়দার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টায় রাজধানীর কল্যাণপুরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী মিনা হায়দার, দুই ছেলে, এক মেয়ে ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন প্রয়াত সিরাজ।
সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ওমর সানি লিখেছেন, ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক সিরাজ হায়দার। আজ ভোর ৬ টার দিকে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করে তিনি মারা যান।’
অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরে তার বাসায় ছুটে গেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
প্রয়াত এই অভিনেতার মরদেহ শেষবারের মতো নিয়ে আসা হয়েছিলো তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। এখানে চলচ্চিত্রের মানুষজন তাকে অশ্রুসিক্ত ফুলেল শুভেচ্ছায় শেষ বিদায় জানালেন। এখানে ১টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় সিরাজ হায়দারের জানাজা। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর, উজ্জ্বল, ওমর সানী, জায়েদ খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা বদিউল আলম খোকন, শাহীন সুমনসহ আরও অনেকেই।
জানাজা শেষে সিরাজ হায়দারের পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।
এই অভিনেতার বড় পুত্র লেলিন হায়দার জানান, তার বাবার মরদেহ এফডিসি থেকে নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিমে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সিরাজ হায়দার।
মঞ্চ দিয়ে শুরু করেছিলেন, বৈচিত্রময় সাবলীল অভিনয় দিয়ে মাতিয়ে গেছেন নাটক ও চলচ্চিত্রের আঙিনা। তবে একটা সময় তিনি চলচ্চিত্রেই বেশি নিয়মিত ছিলেন। এখানেই তিনি পেয়েছেন অভিনয়ের খ্যাতি ও তৃপ্তি। তাই তাকে চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবেই চেনেন ও জানেন সবাই।
সিরাজ হায়দারের অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় ১৯৬২ সালে। ওই বছরের ১৪ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নির্মিত ‘টিপু সুলতান’ নাটকে করিম শাহ চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। সে সময় নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৫৫ বছরেরও বেশি সময় অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ভূমিকাতেই অভিনয় করেছেন তিনি।
দীর্ঘ সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন যাত্রা, মঞ্চ, রেডিও, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে। মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন মাত্র উনিশ বছর বয়সে।
১৯৭৬ সালে তিনি ‘রঙ্গনা’ নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন এবং অনেকগুলো নাটকের নির্দেশনা দেন। সিরাজ হায়দার দু’টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। এদের একটি ‘আদম ব্যাপারী’ যা মুক্তি পায়নি, অন্যটির নাম ‘সুখ’।
মুক্তিযুদ্ধের পর চলচ্চিত্র পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের সহকারী হিসেবে ‘জল্লাদের দরবার’ নামক চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম ‘সুখের সংসার’। নারায়ন ঘোষ মিতা পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে তিনি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। সিরাজ হায়দার দুটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। এসবের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির নাম ‘সুখ’। আর ‘আদম ব্যাপারী’ নামের অন্য ছবিটি মুক্তি পায়নি।
অভিনেত্রী মীনা হায়দার সিরাজ হায়দারের স্ত্রী। তাদের ছেলে লেলিন হায়দারও নাটক পরিচালনা করেন।