জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস আজ

23
এমএনএ রিপোর্ট : আজ ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। চলচ্চিত্র ও অভিনয় জগতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন পরিষদ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মেলা উদ্বোধন, টক শো, সেমিনার , আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র শিল্পীদের পরিবেশনায় সংস্কৃতি অনুষ্ঠান এবং সম্মাননা প্রদান। এ সব কর্মসূচি চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) পালিত হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের এই দিনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই দিনকে স্মরণ করে ২০১২ সালে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও উদযাপন করা হবে দিনটি; সেই সঙ্গে উদযাপিত হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) প্রতিষ্ঠা দিবসও।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ আয়োজন করেছে দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা ও ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র কার্নিভাল, সেমিনার, চলচ্চিত্রের আড্ডা, প্রীতি সম্মিলনী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ উপলক্ষে আজ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।
আজ সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। উদ্বোধনীর পরই অভিনেতা ও কলাকুশলী এবং সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের লোকদের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এফডিসি প্রাঙ্গণ থেকে বের হবে।
দিনটিকে আলাদাভাবে রঙিন করে তুলতে বর্ণিল আয়োজন করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সংগঠন চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। নানা আয়োজনে সাজবে এফডিসি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকবে গান ও তারকাদের নাচ। আর এ আয়োজন উপলক্ষে গত শনিবার থেকেই এফডিসির কালার ল্যাব ফ্লোরে চলেছে নাচের মহড়া।
এবারে নাচতে দেখা যাবে চিত্রনায়ক সাইমন, শিপন, বিপাশা কবির, জয় চৌধুরী, রোমানা নীড়, জনসহ আরও অনেকেই। চলচ্চিত্র দিবসের বিশাল আয়োজনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্টেজ মাতাবেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকবেন আরও থাকবেন সিনিয়র শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের দিন শুরুতে কবুতর ওড়ানোর মধ্যদিয়ে দিনটির শুরু করা হবে। সকালে এফডিসি থেকে একটি র‌্যালি বের হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এরপর সবার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান শুরু করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র কার্নিভাল, সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী, মশিহউদ্দিন শাকের, মোরশেদুল ইসলাম ও ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি লাইলুন নাহার স্বেমি।
ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ‘হীরালাল সেন-উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের উপেক্ষিত জনক’, অনুপম হায়াত, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’ এবং বেলায়াত হোসেন মামুন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক মো. বদরুল আনম ভূঁইয়া।
এ ছাড়া জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সংগীতানুষ্ঠান এবং রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চারু প্রাঙ্গণে প্রীতি সম্মিলনী ও চলচ্চিত্রের আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এর পাশাপাশি আলাদা আয়োজন থাকবে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের। প্রতি বছর বিএফডিসির আয়োজনেই দিবসটি পালিত হয়। কিন্তু এবার মতানৈক্যের কারণে এফডিসির বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন ডাকে চলচ্চিত্র পরিবার। এতে তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি করেন তারা। সংগঠনের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক জানান, বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা চলচ্চিত্র দিবস পেয়েছি। আর তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেই আমাদের আয়োজন সাজাবো। চলচ্চিত্র স্বাধীনতার অনেক বড় হাতিয়ার। অনেকে এটা বুঝতে পারেননি জানতেও পারেননি। বঙ্গবন্ধু যেটা করে দিয়ে গেছেন সেটা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।