জাপানে রপ্তানি হচ্ছে ওলকচুর চিপস

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ২০১৮ সালে জাপানে প্রথমবারের মতো রপ্তানি হয়েছিল দেশে উৎপাদিত এক টন ওলকচুর চিপস। পণ্যটির মান ভালো হওয়ায় গত ৬ জুন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে আরো এক টন এ চিপস রপ্তানি করা হয়। জাপানের ওসাকায় অবস্থিত এশিয়া পার্টনারশিপ কোম্পানি লিমিটেডের কাছে চিপসগুলো রপ্তানি করে ঢাকার সিএনএফ এজেন্ট দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে উৎপাদিত ওলকচুর চিপস জাপানে রপ্তানির মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। জাপানিদের কাছে খাদ্যপণ্যটি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া ওলকচুর চিপসের চাহিদা রয়েছে এশিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশে। ফলে জাপানের মতো অন্য দেশের বাজার ধরতে পারলে ওলকচুর চিপস দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওলকচুর ইংরেজি নাম কোনজাক। বৈজ্ঞানিক নাম Amorphophallus konjac। দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ওলকচু সংগ্রহের পর ঢাকায় এ চিপস তৈরি করে। পরিপক্ব ওলকচু পরিষ্কার করে খোসা ছড়ানো হয়। এরপর পাতলা করে কেটে গরম বাতাসে শুকিয়ে তৈরি করা হয় চিপস। প্রতি পাঁচ কেজি কাঁচা ওলকচু থেকে চিপস পাওয়া যায় এক কেজির কিছু বেশি।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের (চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর) তথ্য অনুসারে, পরপর দুই বছর জাপানের ওসাকায় ওলকচুর চিপস রফতানি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তারা আরো চিপস নিতে আগ্রহী। দাই ইচি ইন্টারন্যাশনালের কর্তাব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ থেকে যে ওলকচুর চিপস রপ্তানি করা হচ্ছে, তার কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩ মার্কিন ডলার (প্রায় ২৫০ টাকা)। অথচ জাপানে উৎপাদিত ওলকচু চিপস দেশটিতে বিক্রি হয় ৪-৫ মার্কিন ডলারে। ফলে ভালো মান ও তুলনামূলক কম দামের কারণে জাপানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পরিমাণে খাদ্যপণ্যটি আমদানি করতে চাচ্ছেন।

এ চিপস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নূর হোসেন বলেন, জাপানে উৎপাদিত ওলকচু থেকে আমাদের দেশের ওলকচুর চিপস জাপানিরা বেশি পছন্দ করছে। এজন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান গত বছরের মতো এ বছরও খাদ্যপণ্যটি রপ্তানি করছে। বাংলাদেশে বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলায় ওলকচুর উৎপাদন বেশি হয়। জাপানিরা এটি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে চিপস হিসেবে তাদের কাছে ওলকচুর বিশেষ কদর রয়েছে। দেশটিতে আমরা এ চিপস রপ্তানি করে ভালো সাড়া পেয়েছি। কীভাবে আরো বেশি পরিমাণে পণ্যটি রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ওলকচুর চিপস থেকে বানানো খাবার প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, কপার, জিংক, ফ্যাটি ও ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস। এছাড়া এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের (চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর) রোগতত্ত্ববিধ সৈয়দ মুনিরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, জাপানে ওলকচু চাষ হয় সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার ফুট উপরে। তারা ওলকচুর যে জাতটি চাষ করে, সেটি ওভাল আকৃতির। অন্যদিকে আমাদের দেশে উৎপাদিত ওলকচুতে ৯৭ শতাংশ পানি ও ৩ শতাংশ আঠালো এক জাতীয় পদার্থ থাকে। জাপানিরা ঐতিহ্যগতভাবে ওলকচু খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। প্রায় ৫০০ বছর আগে থেকেই দেশটিতে ওলকচু-জাতীয় খাবার মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পুষ্টিমানের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।

এদিকে কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ওলকচুর চিপসের চাহিদা থাকলে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে কৃষি বিভাগকে। ওলকচুর চিপসের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে এখনই কৃষি মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বিশেষ পদক্ষেপ। মাঠ পর্যায়ে ওলকচুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তাদের ফসলটির গুরুত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হবে, দিতে হবে প্রণোদনা। একই সঙ্গে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তাদের বোঝানো গেলে তারা ওলকচু চাষে আগ্রহী হবেন। এভাবে ওলকচুর চাষ ও এর চিপসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। রপ্তানির মধ্য দিয়ে লাভবান হবে দেশের অর্থনীতি।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ অধিদপ্তরের (সমুদ্রবন্দর) উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের মাধ্যমে শুকনো ওলকচু রপ্তানি শুরু হয়েছে। দেশে এতদিন ওলকচুর প্রচুর উৎপাদন হলেও রপ্তানি হতো না। এমনকি দেশেও কৃষিপণ্যটির খুব একটা চাহিদা নেই। সেখানে জাপানে রপ্তানির মাধ্যমে কৃষিপণ্যটির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত বছর এক টন ওলকচুর চিপস জাপানে রপ্তানি হয়। তবে চলতি অর্থবছর এ রপ্তানির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের পাশাপাশি অন্য দেশেও পণ্যটির বাজার ধরতে পারলে দেশের রপ্তানি খাতে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে।

x

Check Also

সংকটের মুখে পদত্যাগ করলেন অনিল আম্বানি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম) ভারতের অন্যতম শীর্ষ সেলফোন অপারেটর। তবে দেশটির ...

Scroll Up