জিপি-রবিতে প্রশাসক নিয়োগে বিটিআরসির চিঠি

এমএনএ রিপোর্ট : অডিট আপত্তি অনুসারে পাওনা টাকা না পাওয়ায় গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠানোর জন্য বিটিআরসি’র সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে দুই অপারেটরে প্রশাসক নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। বিটিআরসি সব দিক বিবেচনা করে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করবেন।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীণফোন ও রবিতে চারজন করে মোট আটজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ দিকে প্রশাসক নিয়োগের চূড়ান্ত চিঠি পাঠানোর আগেই বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত বিটিআরসি’র পাওনা আদায় প্রক্রিয়ার উপর দুই মাসের অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

অন্য দিকে এর আগে বিটিআরসি’র অডিট আপত্তি বিষয়ে রবি গত ২৫ আগস্ট জেলা জজ আদালতে একটি মামলা করেছে। তবে গ্রামীণফোনের মত নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রবিও উচ্চ আদালতে যাবে কি’না সে ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার রবির কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিটিআরসি সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে অডিট আপত্তি অনুযায়ী গ্রামীণফোন ও রবির কাছে প্রায় সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠায়। আজ বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে বিভাগে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে জানান, অপারেটরদের যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানোটা মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বিটিআরসি যখন কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সেটা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে সেটাই স্বাভাবিক। অপারেটরদের কাছে যে টাকা পাওয়া যাবে সেটা জনগণের টাকা। এ পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা হিসেবে দুই অপারেটরে প্রশাসক নিয়োগের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন বিটিআরসি সার্বিক বিবেচনায় যোগ্য ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেবেন। সরকারি কর্মকর্তাকেই প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, এই প্রশাসকরা শুধুমাত্র অপারেটরদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের কাজটি সম্পন্ন করবেন। তারা অপারেটরের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করবেন না। দৈনন্দিন কাজ অপারেটরদের নিজস্ব ব্যবস্থাপকরাই সম্পন্ন করবেন। বকেয়া পাওনা আদায় হয়ে গেলেই দুই অপারেটরে প্রশাসকদের দায়িত্বপালনের মেয়াদও শেষ হবে।

এ ব্যাপারে বিটিআরসি সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং নির্দেশনা আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিটিআরসিতে আসেনি। তবে এর আগে প্রশাসক নিয়োগের যে প্রস্তাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয় সে অনুসারে গ্রামীণফোন ও রবিতে চারজন করে মোট আটজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। চারজনের মধ্যে প্রধান নির্বাহী পদমর্যাদার একজনকে মুখ্য প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। তার যোগ্যতা হবে ন্যূনতম টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে বিশ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং পদমর্যাদা হবে সরকারের সচিবের সমান। এর বাইরে একজন আইনবিদ, একজন প্রকৌশলী এবং একজন বিপণন (মার্কেটিং) বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ দেওয়া হবে প্রশাসক হিসেবে।

এ দিকে মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক চলার সময়ই উচ্চ আদালতে গ্রামীণফোনের একটি আবেদনের শুনানি চলে। শুনানি শেষে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা আদায় প্রক্রিয়ার উপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বিচারপতি আব্দুল হাকিম এবং বিচারপতি ফাতেমা নজীব সমন্বয়ে গঠিতহ হাইকোর্ট বেঞ্চ।

গ্রামীণফোনের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, গত ২ এপ্রিল বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে চিঠি দিয়ে প্রায় ২৭টি খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে। এই চিঠির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গ্রামীণফোন নিম্ন আদালতে একটি মামলা করে। গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত গ্রামীণফোনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন না মঞ্জুর করেন। পরে ওই না মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। সেই আপিলের উপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট পাওনা আদায় প্রক্রিয়ার উপর দুই মাসের অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেয়। আগামী ৫ নভেম্বর আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিটিআরসি’র মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি পরিচালক জাকির হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা সংবাদ মাধ্যমের খবরে দেখেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি আনুষ্ঠানিকভকাবে পাওয়ার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিটিআরসি।

বিটিআরসি’র অডিট আপত্তি অনুযায়ী গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং রবির কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই বকেয়া পাওনা আদায়ে চলতি বছরের ২ এপ্রিল প্রথম চিঠি দেয় বিটিআরসি। এরপর গত ৪ জুলাই দুই অপারেটরের জন্য ব্যান্ডউইথ সীমিত করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এই নির্দেশনার পর দুই অপারেটরের পক্ষ থেকে সালিশ অনুযায়ী পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তাব দেয়। তবে টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাংবাদিকদের জানান বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জহুরুল হক। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ব্যান্ডউইথ সীমিত করার নির্দেশনা প্রত্যাহার করে দুই অপারেটরের জন্য সব ধরনের ‘অনাপত্তি’ প্রদান স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। বর্তমানে এই নির্দেশ বলবৎ রয়েছে এবং দু’টি অপারেটর নতুন করে যন্ত্রপাতি আমদানি, স্থাপন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কিংবা সনতুন প্যাকেজ চালু করতে পারছে না। পরবর্তী সময়ে ‘অনাপত্তি পত্র’ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেই দেশের দুই শীর্ষ মোবাইনফোন অপারেটরের লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। এই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দেয়নি দুই অপারেটর। তবে পূর্বের পদক্ষেপগুলোর পরও বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় প্রশাসক নিয়োগের পদক্ষেপে যাচ্ছে বিটিআরসি।

x

Check Also

প্রসিকিউটর পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ

এমএনএ রিপোর্ট : পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক ...

Scroll Up