জিপি-রবির টুজি-থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

এমএনএ রিপোর্ট : রাজস্ব বকেয়া আদায়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি’র টু-জি ও থ্রি-জি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

আজ বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসি দুই মোবাইল অপারেটরের প্রধানকে চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খাঁন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর ৪৬(২) ধারা মোতাবেক মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির ২-জি ও ৩-জি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দুই অপারেটর অনুকূলে পাঠানো হয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির রাজস্ব পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তাগাদা দেয়ার পরও দীর্ঘদিনের এ পাওনা পরিশোধ না করায় গত ০৪ জুলাই বিটিআরসি পাঁচটি আইআইজি প্রতিষ্ঠানকে গ্রামীণফোন এবং রবির অনুকূলে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের জয়ের মধ্যস্থতায় দুই অপারেটরের ব্যান্ডউইথ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে গ্রাহকের সমস্যা হওয়ায় ১৩ দিনের মাথায় ওই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে বিটিআরসি। এরপর ২২ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবিকে বিভিন্ন প্রকার সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ কিছু বন্ধ করার ব্যবস্থা করলাম। উদ্দেশ্যে হলো সরকারি টাকা যেনো উদ্ধার হয়ে যায়। এটা পাবলিক ডিমান্ড, রাষ্ট্রীয় টাকা। এটা কারও মাফ করারও ক্ষমতা নেই। কম নেওয়ারও সুযোগ নেই।

পাওনা টাকা আদায় না হলে বিটিআরসি অপারেটর দু’টিতে প্রশাসক নিয়োগ করার চিন্তা করছে বলে জানা যায়।

তবে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণফোন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, বিটিআরসির নোটিশটি অযৌক্তিক এবং একইসঙ্গে একটি বিতর্কিত অডিট দাবির বিষয়ে আমাদের গঠনমূলক সমাধান প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের অনীহার আরেকটি বহি:প্রকাশ।

গ্রামীণফোন বলছে, নোটিশটি পর্যালোচনা করার পরেই গ্রামীণফোন উত্তর দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যায্য যেকোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। না তারা এক টাকা দিয়েছে, না কানে তুলছে যে সরকারের কাছে তাদের দেনা আছে।’

তিনি বলেন, ‘গা যেহেতু করছে না, আমরা তো জাতীয় অর্থ পানিতে ফেলে রাখতে পারি না। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে পারি না। আমাদের দিক থেকে বিটিআরসিকে বলা হয়েছে তোমরা চূড়ান্ত নোটিশ দাও।’

১৬ কোটি ৮২ হাজার নিবন্ধিত মোবাইল সিমের মধ্যে ৭ কোটি ৪৭ লাখ সিম গ্রামীণফোনের। আর রবির ৪ কোটি ৭৬ লাখ সিম রয়েছে। এ হিসাবে মোট গ্রাহকের ৪৬.৪৯ শতাংশ গ্রামীণফোন এবং ২৯.৬৫ শতাংশ রবির গ্রাহক। এছাড়া ৯ কোটি ৪৪ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ৮ কোটি ৮৬ লাখ মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এটা মোট গ্রাহকের ৯৩.৮৭ শতাংশ।

x

Check Also

বেশি ভাত খাওয়ার খেসারত ডায়াবেটিস

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : বেশি বেশি ভাত খাওয়ার অভ্যাসেই যত সর্বনাশ হচ্ছে। ভাত খাওয়ার খেসারত ...

Scroll Up