‘জি’ নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক নির্দেশনা পাওয়ার পর চ্যানেলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, খুব সহসাই বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভারতের সকল চ্যানেল।

গতকাল সোমবার (১ এপ্রিল) তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দুই পরিবেশক সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পরই জাদু ভিশন জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।

জি বাংলা, জি বাংলা সিনেমা, জি সিনেমা ও জি টিভিসহ এই নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যে ক’টি বিদেশি চ্যানেল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তার মধ্যে কলকাতা হতে নিয়ন্ত্রিত জি বাংলা অন্যতম।

ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘জাদু ডিজিটালের’ কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা শামীমা মিতু গণমাধ্যমকে জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো ‘সাময়িকভাবে’ বন্ধ করা হয়েছে। ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন,২০০৬’ এর উপধারা-১৯(১৩) এর বিধান অনুযায়ী,বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুর রাজ্জাক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফিরোজ খান জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চ্যানেলগুলো বন্ধ করতে বলা হয়নি। ক্যাবল অপারেটরদের কাছে এসব চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে কি-না তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আগামী সাতদিনের মধ্যে ক্যাবল অপারেটরদের জানাতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ।

তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে নির্দেশনা এসেছে। তাই আমরা গতকাল জি বাংলাসহ জি নেট ওয়ার্কের সকল চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছি। এখন ভারতের বাকি চ্যানেলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে ক্যাবল ব্যবসার জন্য এটাকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে কোয়াবের এই নেতা বলেন, কোনো বিষয়কে এইভাবে প্রতিরোধ করে ফল পাওয়া যাবে না। আপনি কীভাবে ইউটিউব বন্ধ করবেন? আমাদের প্রথমে বলা হলো দেশি বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। পরে বলা হলো কোনো বিদেশি বিজ্ঞাপনও দেখানো যাবে না। এভাবে কোনো পে চ্যানেল চালানো সম্ভব না।

কোনও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব চ্যানেল বন্ধ রাখা হবে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো উপায় দেখছি না। হ্যাঁ হয়ে যাবে বন্ধ। বিবিসি সিএনএন- ও বন্ধ হয়ে যাবে। আর বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর সাবস্ক্রাইবার দিয়ে আমরা চ্যানেল ব্যবসা চালাবো। চিন্তা করুন কী হচ্ছে অবস্থা।

গত শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র।

সেখানে তথ্যমন্ত্রী কেবল অপারেটরদের উদ্দেশে বলেন, ডাউন লিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু এ–সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মানা হলে বছরে দেশে ৫০০ কোটি টাকা বাড়বে। তিনি টেলিভিশনে বিদ্যমান সমস্যার কথা ইঙ্গিত করে বলেন, ‘টিভিশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আসুন সবাই একযোগে কাজ করি।’

x

Check Also

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চীনের সঙ্গে চলমান ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি ...

Scroll Up