ইসরাইলের নতুন রাজধানী হচ্ছে জেরুজালেম

31
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : হোয়াইট হাউজের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেবে বলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার এক ফোনালাপে আব্বাসকে একথা বলেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। মার্কিন ওই কর্মকর্তাও জানান, এখনই তেল আবিব থেকে দূতাবাস সরানো হবে না। আজ বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বুধবার এই বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। জেরুজালেমকে রাজধানী দাবি করে আসছে ইসরাইল আর পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় দেশটির জনগণ।
মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান প্রাচীন এই শহর জেরুজালেম। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ৪ ডিসেম্বর সময়সীমা পার হয়ে গেছে। গত সোমবার দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা না দেয়ায় দেশটির আইন অনুযায়ী আরো ছয় মাসের মধ্যে দূতাবাস সরছে না। দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করলেও আশঙ্কা রয়েছে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প।
তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু দাইনাহ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পের একটি ফোন পেয়েছেন। ফোনে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে প্রেসিডেন্ট আব্বাস ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এর পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছে জর্দান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ন্যায়সম্মত হবে না বলে মনে করছে আরব লীগ। এমন হলে রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ। নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল। এরই মধ্যে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক পত্রিকা মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের নিরাপত্তার ভার ইসরায়েলের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব বলে কিছু থাকবে না।
গত সোমবার ভোরের দিকে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি এক টুইটে জানান, ইসলায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রচেষ্টাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে এ সিদ্ধান্ত।
আগের দিন আবর বিশ্বের শীর্ষ সংগঠন আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কায়রোয় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতায় ধসে পড়তে পারে- এ কথা বিবেচনায় না নিয়ে কেউ কেউ জোর করে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। আবুল গেইত আরও বলেন, এ ইস্যুর ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে আরব এবং ট্রাম্প যদি এ ধরনের ঘোষণা দিয়েই ফেলেন, তখন অবস্থান কী হবে সে বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য আরব ফিলিস্তিন ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আরব লীগ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএসবি জানিয়েছে, তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের জন্য ভবনের নকশা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিলে তা ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান হুমকির মুখে পড়বে বলে ফিলিস্তিনি নেতারা আগেই সতর্ক করেছেন। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে দুটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশের মর্যাদা দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাই দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল।