জেরুজালেমে নির্বিচার গুলিতে ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত

13
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলের সেনাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,০০০ জন আহত হয়েছেন।
ভূমি দিবস উপলক্ষে গত ছয় সপ্তাহ ধরে গাজায় ইসরাইলবিরোধী যে বিক্ষোভ চলছে তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বাইতুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস খোলার দিনে এ ভয়াবহ হামলা চালানো হলো।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়া ছাড়াও প্রায় ২০০০ জন আহত হয়েছেন।
গাজা সীমান্তজুড়ে অবস্থান নেয়া দখলদার ইসরাইলি স্নাইপাররা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার উদ্যোগকে পুরো নগরীর ওপর ইসরায়েলের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন হিসাবেই দেখছে। যে জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
আজ সোমবারের বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৪ বছরের এক বালক এবং হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিও আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তিকে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়তে দেখা যায়।
‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের অংশ হিসাবে গাজার শাসনক্ষমতায় থাকা হামাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিরা গত ছয় সপ্তাহ ধরে সীমান্তে বিক্ষোভ করে আসছে। বিক্ষোভকারীরা বেষ্টনি ভাঙার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভে ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
আজ সোমবার বিকালে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জারেড কুশনার ইসরায়েল পৌঁছেছেন। তারা দুজনই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।
কুশনার-ইভাঙ্কা দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মিউচিন ও উপ-পরাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল প্রশংসা করলেও ফিলিস্তিনিরা মার্কিন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে এর প্রবল বিরোধিতা করেছে। দূতাবাস উদ্বোধনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদের জন্য জেরুজালেমে জমায়েত হচ্ছে তারা।
জেরুজালেমকে নিজেদের ‘শাশ্বত ও অখণ্ড’ রাজধানী বলে বিবেচনা করে ইসরায়েল। অপরদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম দাবি করে। তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।
গত বছর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কয়েক দশক ধরে অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।