জয় পেতে ১৮২ রানের টার্গেটে খেলছে বাংলাদেশ

55

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে জয় পেতে আইরিশদের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেটে খেলছে বাংলাদেশ।

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের দৃঢ়তায় ‘উড়ন্ত’ সূচনা পেয়েছে টাইগাররা। তবে দারুণ খেলতে থাকা তামিম হাফসেঞ্চুরি থেকে তিন রান দূরে থাকলে ফিরে গেলে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১২৫ রান। সৌম্য ৪৭ বলে ৬০ ও সাব্বির রহমান ১৯ বলে ৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ৫৪ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৪৭ রান করে আউট হয়ে ফিরেন তামিম।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই অলআউট হয় আইরিশ ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির হানায় আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি যায় ভেস্তে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ‘আত্মাহুতি’র কারণে হেরে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টানা দুই ম্যাচেই হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। আজ শুক্রবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ‘ক্ষুধার্ত বাঘ’ হয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। এর উত্তাপ পায় আইরিশরা। মোস্তাফিজুর রহমান ও অভিষিক্ত সানজামুল ইসলামের বোলিং তোপে পড়ে টাইগারদের সামনে মাত্র ১৮২ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়েছে আয়ারল্যান্ড।

ডাবলিনের ম্যালাহাইড স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি। শুরুর দিকে বাংলাদেশি বোলারদের আক্রমণের মুখে চাপে পড়লেও মাঝপথে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে স্বাগতিকরা। কিন্তু মোস্তাফিজ, সানজামুল ও মাশরাফির দারুণ বোলিংয়ে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন এড জয়সে। এছাড়া নেইল ও’ব্রায়েন ৩০, জর্জ ডকরিল ২৫ ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড করেন ২২ রান।

বাংলাদেশের সেরা বোলার মোস্তাফিজ। ৯ ওভারের স্পেলে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন কাটার মাস্টার। এছাড়া মাশরাফি ও অভিষিক্ত সানজামুল দুটি এবং সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

ইনিংসের প্রথম ওভারে কোনো রান দেননি রুবেল হোসেন। পরের ওভারে আক্রমণে এসে সেই সুযোগ কাজে লাগান মোস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের করা দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে শর্ট থার্ডম্যানে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়ে পল স্টারলিং (০) যখন সাজঘরে ফেরেন তখনও রানের খাতা খুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় উইকেটে ৩৭ রান তোলে ইনিংস মেরামত করেন পোর্টারফিল্ড ও জয়সে। তবে মোসাদ্দেক প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান। নবম ওভারে তার হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। তৃতীয় বলে পোর্টারফিল্ডকে কট এন্ড বোল্ড আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন মোসাদ্দেক।

অ্যান্ডি ব্যালব্রিনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন জয়সে। তবে ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যালব্রিনকে (১২) বোল্ড করে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন সাকিব।

বিপদের মুখে ভড়কে না গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নেইল ও’ব্রায়েন ও জয়সে। সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মোস্তাফিজ। স্টাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে থার্ডম্যানে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে নেইল ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ড।

সেই চাপ আরো বাড়িয়ে দেন অভিষিক্ত সানজামুল। ২৯তম ওভারে অভিষিক্ত বোলারের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। ওভারের শেস বলে সানজামুলকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জয়সে। আয়ারল্যান্ডের দলীয় রান তখন ৬ উইকেটে ১২৬ রান।

কিছুক্ষণ পর দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় মোস্তাফিজের বলে কেভিন ও’ব্রায়েন মোসাদ্দেকের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। এক ওভার পর আক্রমণে এসে গ্যারি উইলসনকে উইকেটের পেছনে মুশফিককে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন দুর্দান্ত বোলিং করা মোস্তাফিজ।

১৩৬ রানে ৭ উইকেট পড়ার পরই ব্যারি ম্যাকার্থি ও ডকরিল দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই দুজন অষ্টম উইকেটে ৩৫ রান তোলেন। দলীয় ১৭১ রানের মাথায় ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে পথের কাঁটা দূর করেন সানজামুল।

বাকি গল্পটুকু মাশরাফির। দারুণ বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না টাইগার দলনায়ক। এ নিয়ে সমর্থকদেরও একটা আক্ষেপ ছিল। একই ওভারে জোড়া আঘাত হেনে সেই আক্ষেপ দূর করার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের যবনিকা টানেন মাশরাফি। ম্যাশের করা ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডকরিল। পরের বলে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পিটার চেজের ক্যাচ দিয়ে বাংলাদেশকে উল্লাসে মাতান মুশফিক।

বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের একাদশে একটি করে পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসানকে বাদ দিয়ে সানজামুল ইসলামকে অভিষেক ক্যাপ পরিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এড জয়সেকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন আইরিশ তারকা সিমি সিং।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ১৫১ রান তোলে। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই দলকেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৫১ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করে নিউজিল্যান্ড। বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশের। মাশরাফিদের করা ২৫৭ রান ১৫ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় টম ল্যাথামের দল।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও সানজামুল ইসলাম।

আয়ারল্যান্ড একাদশ: উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালব্রিন, পিটার চেজ, জর্জ ডকরিল, এড জয়েস, টিম মুরতাগ, ব্যারি ম্যাকার্থি, কেভিন ও’ব্রায়েন, নেইল ও’ব্রায়েন, পল স্টারলিং, ও গ্যারি উইলসন

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
আয়ারল্যান্ড : ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ (জয়েস ৪৬, নিয়াল ৩০, ডকরেল ২৫, পোর্টারফিল্ড ২২; মোস্তাফিজুর ৪/২৩, মাশরাফি ২/১৮, সানজামুল ২/২২, মোসাদ্দেক ১/২১, সাকিব ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ ০/১৩, রুবেল ০/৪১)