টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার রানের মাইলফলকে ক্রিস গেইল

17

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : খুব কাছে এসেও কম অপেক্ষা করতে হয়নি ক্রিস গেইলকে। একে তো ব্যাটে রান পাচ্ছিলেন না তার ওপর একাদশেও নিয়মিত জায়গা হচ্ছিল না। যে কারণে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার রানের মাইলফলক গড়তে অপেক্ষা প্রলম্বিত হচ্ছিল এই ক্যারিবিয়ান দানবের। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। আজ মঙ্গলবার আইপিএলের ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে নেমেই রেকর্ড গড়ে ফেললেন গেইল।

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার গেইল যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ৯,৯৯৭ রান। মাইলফলক থেকে মাত্র ৩ রান দূরে ছিলেন তিনি। ধাওয়াল কুলকর্নির করা ইনিংসের প্রথম ও পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৯,৯৯৯ রানে পৌঁছেন গেইল।

মাইলফলকে পৌঁছতে দরকার ১ রান। কিন্তু স্ট্রাইক পেতে গেইলকে অপেক্ষা করতে হয় আরো ১৩ বল। বাসিল থাম্পির করা চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে কোনো রান নিতে পারেননি গেইল। পরের বলেও নেই রান। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়েই গড়েন ইতিহাস।

আইপিএলের দশম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সানরাইজার্সের বিপক্ষে ২১ বলে ৩২ রান করেছিলেন গেইল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে চরম ব্যর্থ হন তিনি। ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে আউট হন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। তৃতীয় ম্যাচে দলে জায়গা পেলেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে করেছিলেন ২২ রান। যে কারণে একাদশে জায়গা হারান গেইল। মঙ্গলবার ইনজুরির কারণে এবি ডি ভিলিয়ার্স খেলতে না পারায় একাদশে ফিরেই ১০ হাজার রানের রেকর্ড গড়েন জ্যামাইকান দানব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বিশ্বের বিভিন্ন লিগে এখন পর্যন্ত ২৮৯ ম্যাচে ১০০০২ রান করেছেন গেইল। ১৮টি সেঞ্চুরি এবং ৬০টি হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে এই রান করেন তিনি। স্বীকৃতি টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর দৌড়ে অন্যদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন গেইল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার রান বেশি করেছেন তিনি। ৭,৫২৪ রান নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছেন ম্যাককালাম।

গেইল-ম্যাককালাম ছাড়া ৭ হাজার রান করেছেন আর মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান। তারা হলেন- ব্রাড হজ (৭৩৩৮), ডেভিড ওয়ার্নার (৭১৫৬) ও কিয়েরন পোলার্ড (৭,০৮৭)। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৩,৮৪৭ রান করেছেন। সাকিব আল হাসান করেছেন ৩,৬৭৮ রান।

এই ম্যাচের আগে সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো না হলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ছোট্ট ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে প্রভাব জাগানিয়া ব্যাটসম্যান। বছরের পর বছর ধরে মাতিয়ে আসছেন ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্ত। ম্যাচের পর ম্যাচ তুলোধুনো করেছেন বোলারদের। বিস্ফোরক ব্যাটিংকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়।

শুধু ১০ হাজারে প্রথম ব্যাটসম্যান বলেই নয়, টি-টোয়েন্টিতে তার রেকর্ড প্রায় সব দিক থেকেই বলা যায় অতিমানবীয়। ১০ হাজার কেন, টি-টোয়েন্টিতে ৮ হাজার রানও নেই আর কারও। ৭ হাজার ৫২৪ রান নিয়ে দুইয়ে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

তার ১৮ সেঞ্চুরির ধারেকাছেও নেই কেউ। এখন অনেকটা পেছনে থেকে দুইয়ে ম্যাককালাম, সেঞ্চুরি ৭টি। গেইলের ৬০টি অর্ধশতকও টি-টোয়েন্টির রেকর্ড।

প্রায় এক যুগের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার বিবেচনায় তার ৪০.৪৭ গড় ও ১৪৯.২০ স্ট্রাইক রেট একরকম অবিশ্বাস্য। ক্যারিয়ারে ছক্কা ও চার মারার পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি। ৭৬৪টি মেরেছেন চার, ছক্কা ৭৩৬টি। বিশ্বরেকর্ড এই দুটিও।

টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড তার (৩০ বলে)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (১৭৫*), এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা (১৭টি), এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি রান (১ হাজার ৬৬৫), সব রেকর্ডই গেইলের।

নিজেকে গেইল দাবি করেন ‘ওয়ার্ল্ড বস’। সেটি না হলেও টি-টোয়েন্টির বস তিনিই!