টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেন মাশরাফি

249

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস করতে নেমে অবসরের ঘোষণা দিলেন মাশরাফি নিজেই। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পরই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেবেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই অধিনায়ক।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা আবিষ্কার মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর টাইগারদের সীমিত ওভারের এই দলপতির অবসর নিয়ে নানারকমের কথাবার্তা আর গুঞ্জন সত্যি হলো।

টসের সময় ডিন জোন্স টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করলে মাশরাফি বলেন, ‌বাংলাদেশের হয়ে এটিই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আমি বিসিবি, আমার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব, সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। গত ১৫-১৬ বছর ধরে আমাদের সমর্থন জানানোয় দর্শক-সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানাই।

চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ের গুঞ্জন রটেছিল। সেই গুঞ্জন অবশ্য ধোপে টেকেনি। তবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েই দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

২০০১ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেন মাশরাফি। সে বছর ওয়ানডে ও টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফলতা ও ব্যর্থতার রাজসাক্ষী তিনি। গত দেড়-দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট তার হাত ধরেই বদলে গেছে। অভিষেকের পর প্রায় ১৬ বছর ধরে খেলেছেন দাপটের সঙ্গেই।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় মাশরাফির। বাংলাদেশেরও সেটি প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছিল। প্রথম ম্যাচে ২৬ বলে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পাশাপাশি ১ উইকেট নেয়া ম্যাশ ম্যাচ-সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫২ ম্যাচে ৩৯ উইকেট নেন মাশরাফি। সেইসঙ্গে ২৩টি ছক্কায় ৩৬৮ রান করেন তিনি। মাশরাফির অধীনে ২৬ ম্যাচ খেলে ৯টিতে জয় পায় বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস করতে নামার আগেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দর্শক-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এক স্ট্যাটাস দেন মাশরাফি। মাশরাফির স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ”বাংলাদেশ টিম কে টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান দলটি একটি ভাল দল এবং দলে কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় আছে। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত চমৎকার দলের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ।”

বিদায়বেলায় মাশরাফি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর ভক্ত-পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিও, ”আমি আমার সকল ভক্ত, পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমাকে সবসময় সমর্থন করার জন্য। এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার ফ্যানদের কে খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ফ্যান এর কাছে তাদের কে প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা ভাল খেলছি। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ সামনের দিনগুলো তেও ভাল ক্রিকেট খেলবে।”

আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেয়ার জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময় যাতে অনেক তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে এবং বিসিবি তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আমি বাংলাদেশ এর টি-টোয়েন্টি টিম এর নতুন অধিনায়ক কে আগাম অভিনন্দন জানাই এবং আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সময় সামনে আসবে।

শীঘ্রই আবার দেখা হবে। সকলের জন্য আমার আন্তরিক ভালবাসা।