ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিনের পদত্যাগ

70

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। ট্রাম্পের বাছাইকৃত শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি।

অভিষেকের পর মাস না পেরোতেই হোঁচট খেতে হল ট্রাম্প প্রশাসনকে। রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিচার বিভাগ একটি তদন্ত শেষে জানায়, রাশিয়ার কূটনীতিকের সঙ্গে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল তা জানতে চাইলে ফ্লিন তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তিকর উত্তর দেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে বলে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিল দেশটির বিচার বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফ্লিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তিকর তথ‌্য দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ফ্লিনের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে কাজ করা অবৈধ। আর ফ্লিন গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের আগেই রাশিয়ান অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে দেখা করেছেন।

এসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লিনের এ বিষয়ে দেয়া বক্তব্যে অসামঞ্জস্যতা থাকার কথা হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিল বিচার বিভাগ।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিন ভোটের প্রচারের দিনগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। কখনো কখনো ট্রাম্পের প্রচার সমাবেশে সূচনা বক্তব‌্য নিয়েও আসতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এই প্রধানকে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দায়িত্বের বাইরের কারও কূটনৈতিক যোগাযোগ করার এখতিয়ার নেই। আর গতবছর শেষ দিকে ফ্লিন যখন রুশ দূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনও নতুন প্রশাসনে তার নিয়োগ পাকা হয়নি।

গত ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ফ্লিনের রুশ যোগাযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ফ্লিন রাশিয়ার ব্ল‌্যাকমেইলের শিকার হতে পারেন।

ডেমোক্রেট নেতারা তখন ফ্লিনের অপসারণ দাবি করলেও ফ্লিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রুশ দূতের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও পরে ফ্লিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।

এ নিয়ে বিতর্কের মধ‌্যে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার সোমবার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পনিজে বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। ফ্লিনের সঙ্গে পেন্সের কী কথা হয়েছে- তাও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে জেনেছেন।

পদত‌্যাগপত্রে ফ্লিন লিখেছেন, রাশিয়ার দূতের সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপের বিষয়ে ‘অসম্পূর্ণ তথ‌্য’ দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটা ‘ইচ্ছাকৃত নয়’।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, মাইকেল ফ্লিনের পদত‌্যাগের ফলে আপাতত জেনারেল কিথ কেলগ ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে নেবেন।