ডিএসইর মূলধন কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও মন্দা গেছে দেশের পুঁজিবাজারে। আলোচ্য সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় শেয়ারবাজারেই প্রধান সূচক কমেছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি হারে। তবে ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই বড় পতন হয়েছে। প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারায় ৯৭ পয়েন্ট। ৪ হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট নিয়ে গত রবিবার লেনদেন শুরু করা সূচকটি দি শেষে ছিল ৪ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে। এর পরের কার্যদিবসে বাজারে রেকর্ড ধস নামে। সোমবার ডিএসইএক্স ২৭৯ পয়েন্টে কমে ২০১৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। এদিন লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৮ পয়েন্টে। এরপর দুই কার্যদিবস বাজারে উত্থান দেখা যায়। মঙ্গলবার সূচক বাড়ে ১৪৮ পয়েন্ট। আর বুধবার বাড়ে ৭৫ পয়েন্ট। বাজারে অস্থিরতার ধারা অব্যাহত রেখে শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার ফের বড় পতন হয়। ওইদিন ১০১ পয়েন্ট কমে দিন শেষে ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়ায় ৪ হাজার ১২৯ পয়েন্টে। সার্বিকভাবে এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ২৫৫ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০ গত সপ্তাহে প্রায় ৮১ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৬২ পয়েন্ট। অন্যদিকে পাঁচ কার্যদিবসে ৫৮ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৯৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৫ পয়েন্ট। আর চলতি বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করা নতুন সূচক সিডিএসইটি গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে অবস্থান করছে ৮১৫ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৮৬৪ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ১৫ হাজার ৩৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। রোববার এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন শুরু হয় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৭ কোটি ৬ লাখ টাকা বাজার মূলধন নিয়ে। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৪১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৪১০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৬০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৩২৬টির, অপরিবর্তিত ছিল সাতটির আর লেনদেন হয়নি দুটির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১৪ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। ১২ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দখলে মোট লেনদেনের ৮ শতাংশ আর ব্যাংক খাতের দখলে ৭ শতাংশ ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড।

এক্সচেঞ্জটিতে গত সপ্তাহে দরবৃদ্ধিতে (সমাপনী দরের ভিত্তিতে) শীর্ষে ছিল কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সসিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, সি পার্ল বিচ রির্সোট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, এপেক্স ফুডস লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। আর দরপতনে শীর্ষে ছিল সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সায়হাম টেক্সটাইলম মিলস লিমিটেড, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক লিমিটেড, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড, জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড, ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেড, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড ও ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফিন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতে গত সপ্তাহে সিএসসিএক্স ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ৪৬১ পয়েন্ট কমে গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৭ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৮ হাজার ১২৩ পয়েন্ট। এছাড়া নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই৩০ ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৫২৯ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১ হাজার ৫৫৬ পয়েন্ট।

সিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ১৩২ কোটি ২১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ২৬১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৯টির বাজারদর।

x

Check Also

আজ মঙ্গলবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ৩১ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার। নতুন সূর্যালোকে আজ মঙ্গলবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up