ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন কি এবং লেনদেন কীভাবে?

46
এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে বিটকয়েন এখন দারুন জনপ্রিয়। সারা বছর ধরে আপনি হয়ত বিটকয়েন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন শব্দগুলো শুনে আসছেন। আর এই শব্দগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবচেয়ে বিখ্যাত একটি এবং এটি একটি বৈকল্পিক মুদ্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয় যা ডিজিটালভাবে বিদ্যমান। খুব সহজে বললে, বিটকয়েন হলো ডিজিটাল কারেন্সি যা এনক্রিপশন লেয়ারের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। এমনটাই সংজ্ঞা দিয়েছেন বেঙ্গালুরু ভিত্তিক বিটকয়েন এক্সচেঞ্জের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী সাতভিক বিশ্বনাথ। তার ভাষায়, বিটকয়েন হলো স্বর্ণের মতো।
বিটকয়েন একটি বিকেন্দ্রীকৃত মুদ্রা, যার অর্থ হচ্ছে বিটকয়েনের স্থানান্তর ব্যাংকসহ অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের সমর্থন সাপেক্ষে হয় না। এটি একটি পিয়ার টু পিয়ার লেনদেনের যা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই কাজ করে। এটি একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা দেশই এই নেটওয়ার্কের মালিক না যেমনটা কেউ ইন্টারনেটের মালিক না।
বিটকয়েন ‘মাইনিং’ কম্পিউটারে চলমান বিশেষ প্রোগ্রাম ব্যবহার করে অ্যালগরিদমকে ডিক্রিপ্ট করার জন্য কাজ করে এবং প্রতিটি মুদ্রার জন্য কোডটি উন্মোচন করে। বিটকয়েন যখন নতুন ছিল তখন প্রসেসটি দ্রুত এবং সহজ ছিল। বেশিরভাগ গ্রাহক মাইনিং এর মাধ্যমে কারেন্সি পেত।
বিটকয়েন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেখানে মোট কতগুলি বিটকয়েন থাকতে পারে তার একটি ঊর্ধ্ব সীমা আছে। তবে যত বেশি বিটকয়েন মাইন হচ্ছে তত বেশি ফ্রেশ কয়েন বের করার জটিলতাও বেড়ে গিয়েছে। প্রথমদিকে একটি ব্যক্তিগত ল্যাপটপ দিয়ে যে কেউ বিটকয়েনের জন্য মাইন তৈরি করতে পারত এবং একটি সংগ্রহ তৈরি করতে পারত।
সময়ের সাথে সাথে বিটকয়েন মূল্য যত বেড়েছে ডেডিকেটেড মাইনাররা কয়েন মাইনের জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ শুরু করে। আর এখন পর্যন্ত একজন ব্যবহারকারীকে একটি মাইনিং সেট আপ করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং পাওয়ারটি যথেষ্ট উচ্চতর হওয়া প্রয়োজন। এখনকার দিনে একটি বিটকয়েন মাইন করার জন্য আপানার জীবনকালের চেয়ে বেশি সময় লাগবে ফলে মাইনের পরিবর্তে এখন সবাই বিটকয়েন কিনে থাকে।
বিটকয়েন মাইনিং কি?
বিটকয়েন মাইনিং হলো সেই প্রক্রিয়া যার দ্বারা লেনদেন যাচাই করা হয় এবং পাবলিক লেজারে যুক্ত করা যা ব্লকচেইন নামে পরিচিত। এবং নতুন বিটকয়েন প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমেও তা যোগ করা হয়। যেকোনো কেউ ইন্টারনেটে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার এর মাধ্যমে মাইনিং এ অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাইনিং প্রক্রিয়ায় ব্লকে সর্বশেষ লেনদেন কম্পাইলিং করা হয় কঠিন কোনো পাজলের মাধ্যমে। অংশগ্রহনকারী পাজল সমাধান করতে পারলে পরবর্তী ব্লকে যায় এবং পুরস্কারের দাবি জানাতে পারে।
কয়েকমাস আগেই বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারগুলোতে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হামলা চালানো হ্যাকাররা বিটকয়েনে পেমেন্ট চান। কেননা এই অর্থ বিশ্বব্যাপী কোনো সরকারের পক্ষে ট্রেস করা সম্ভব নয়। এছাড়া আরও একটি কারণে বিটকয়েনে আগ্রহ বাড়ছে তা হলো- অতিসম্প্রতি বিটকয়েনের মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখের খবর অনুযায়ী, এক বিটকয়েনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিটকয়েন কি কোনো বিনিয়োগ, নাকি অর্থ?
বর্তমান সময়ে বিটকয়েন বিনিয়োগ এবং অর্থ দুটোই বলা যায়। আপনি এই সেবা অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই পেতে পারেন। এই কারেন্সিতে অন্য দেশের ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট করা সহজ। তাছাড়া বিটকয়েনের দাম বাড়ছেই তাই আপনি যদি এখনকার দামে কোনো বিটকয়েন কিনে থাকেন তাহলে আরও বেশি দামে এই বিটকয়েন পরবর্তীতে বিক্রি করে দিতে পারেন।
কীভাবে কিনা হয় এই বিটকয়েন?
বেশ কিছু উপায়ে বিটকয়েন কিনা হয়ে থাকে। যেকোনো সিরিজ সংখ্যা এবং অক্ষর হিসাবে সংরক্ষিত হয় বিটকয়েন যা পাবলিক ব্লকচেইনে ভেরিফাইড করা হয়। সুতরাং বিটকয়েন পেন ড্রাইভে, কাগজে লিখে অথবা অনলাইন বিটকয়েন ওয়ালেটে রাখা যেতে পারে। এখনকার সময়ে বিটকয়েন কিনা এবং বিক্রি করা খুবই সহজ। বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ রয়েছে যেখানে লগ ইন করে বিটকয়েন পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও যেকোনো কেউ বিটকয়েনে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু প্রথম ক্রেতা হিসেবে এটি সহজ কোনো প্রক্রিয়া নয়।
এবার দেখে নেওয়া যাক বিটকয়েন সম্পর্কিত কিছু কিছু এককের ধারণায়-
· 1 MBTC = 1000000 BTC
· 1 uBTC = 0.00000 BTC
· 1 mBTC = 0.001 BTC
· 1 satoshi = 0.00000001 BTC
বিটকয়েন এক ধরনের পেইজা, পেপাল, মানি বুকার্স এর মতো বিট কয়েন লেনদেন পদ্ধতি বা পেমেন্ট গেটওয়ে। বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই বিভিন্ন গেটওয়ে পেমেন্ট প্রসেস হিসাবে অনেক সাইটে বিটকয়েন পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলো অল্প সময়েই বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে।
খুব বেশি নেই যখন বিশ্বব্যাপী সকল দেশে বিটকয়েন পদ্ধতি চালু হয়ে যাবে। এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে অনেকেই বিটকয়েন আয় করছেন।