ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০০৫ সালের ট্যাক্স রিটার্ন ফাঁস

46

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০০৫ সালের আয়কর নথি ফাঁস করে দিয়েছে দেশটির টেলিভিশন নেটনওয়ার্ক এমএসএনবিসি।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনটির ‘দ্য রেচেলে মাদো শো’তে ট্রাম্পের আয়কর নথি প্রকাশ করা হয়।

আয়কর বিবরণীর ফাঁস হওয়া প্রথম দুই পৃষ্ঠায় দেখা গেছে, ২০০৫ সালে ট্রাম্প ১৫ কোটি ডলার আয় করেন এবং ওই বছর তিনি কোটি ৮০ লাখ আয়কর দেন।

এ বিবরণ থেকে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের লোকজন গড়ে মোট উপার্জনের ২৭.৪ শতাংশ আয়কর দিলেও ট্রাম্প দিয়েছেন ২৪ শতাংশ।

ট্রাম্পের নথি ফাঁসের কাজটি করেছেন ডিসিআররিপোর্ট ডট ওআরজি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও নিউইয়র্ক টাইমসের সাবেক রিপোর্টার ডেভিড জনস্টন।

যুক্তরাষ্ট্রের এমএসএনবিসি ট্রাম্পের ওই ট্যাক্স রিটার্নের দুটি পৃষ্ঠা প্রকাশ করার পর হোয়াইট হাউজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, এমএসএনবিসি নিজেদের খবরের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেপরোয়া হয়ে গেছে।

খবরের জনপ্রিয়তা বাড়াতে আইনের তোয়াক্কা না করে তারা এক দশকের পুরনো আয়কর বিবরণী নথি প্রকাশ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী দেশটির কোনো নাগরিকের ফেডারেল আয়কর বিবরণী ফাঁস করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এমএসএনবিসি বলছে জনস্বার্থে তারা ট্রাম্পের বিবরণী প্রকাশ করেছে।

এমএসএনবিসিকে রিটার্নের ওই অংশ দিয়েছেন পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড কে জনস্টন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, একটি সূত্র থেকে তিনি ওই পৃষ্ঠা দুটি পেয়েছেন, যার নাম গোপন রাখা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফাঁস’ হওয়া ওই দুই পৃষ্ঠা পুরো রিটার্নের একটি অংশ মাত্র। ট্রাম্পের আয় সে সময় কত ছিল, তাও অংশ দেখে বোঝা যায় না।

কিন্তু ট্রাম্পের সম্পদ আর তার আয়করের বিষয়ে সাংবাদিকরা এতোটাই কম তথ্য এ যাবতকালে পেয়েছেন যে ওই দুই পৃষ্ঠা পাওয়াই যথেষ্ট ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই দুই পৃষ্ঠার তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প ‘ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স’ হিসেবে দিয়েছেন ৫.৩ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে তিনি আরও ৩১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন ‘অলটারনেটিভ মিনিমাম ট্যাক্স’ হিসেবে।

ধনী ব্যক্তিদের কর এড়ানোর পথ বন্ধ করতে অর্ধশতক আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অলটারনেটিভ মিনিমাম ট্যাক্স’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ট্রাম্পের যে ৩৮ মিলিয়ন ডলার কর দেওয়ার তথ্য ওই দুই পৃষ্ঠায় পাওয়া যায় তাতে তার ক্ষেত্রে করের হার দাঁড়ায় ২৪ শতাংশ। এই হার সাধারণ আমেরিকানদের তুলনায় বেশি হলেও ধনীদের দেওয়া করের চেয়ে কম।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ট্যাক্স রিটার্ন ‘ফাঁস’ করা ফৌজদারি অপরাধ। তবে এক যুগ আগে দেওয়া ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি অপরাধ হবে কীনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমএসএনবিসির উপস্থাপক র‌্যাচেল ম্যাডো।

তার ভাষ্য, তারা ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করেছেন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায়, যেখানে জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের অধিকার দেওয়া রয়েছে।

এমএসএনবিসি ট্যাক্স রিটার্নের ওই অংশ প্রকাশের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ একে ‘অবৈধ’ বলেছে।

হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে এমএসএনবিসিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “রেটিং বাড়ানোর জন্য তোমরা আইন ভঙ্গ করে এমন একটি গল্প সামনে নিয়ে আসছো, যেখানে এক দশক আগে দেওয়া ট্যাক্স রিটার্নের মাত্র দুটি পৃষ্ঠা আছে।”

নির্বাচনী প্রচারের সময়ে বিরোধীদের তীব্র চাপের মুখেও নিজের আয়করের তথ্য প্রকাশ করেননি রিপাবলিকান ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জনসম্মুখে নিজেদের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করলেও নিউ ইয়র্কের ধনকুবের ট্রাম্প তা করেননি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা তাদের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করে আসছেন।

কিন্তু বিবরণী প্রকাশে কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালে নিজের আয়ের বিবরণী প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।

এতে গুঞ্জন ওঠে ট্রাম্প আয় অনুযায়ী আয়কর দেন না এবং তা গোপন রাখতেই বিবরণী প্রকাশ করেননি তিনি।

এখন ২০০৫ সালের আয়কর নথি ফাঁস হওয়ায় আয়ের বিবরণ প্রকাশে ট্রাম্পের উপর চাপ বাড়লো।