ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে তৃতীয় ড্রিমলাইনার বোয়িং ৭৮৭-৮ গাঙচিলের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ফিতা কেটে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন এই উড়োজাহাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটে যাত্রী নিয়ে আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হবে গাঙচিল।

১৫তম বিমান হিসেবে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার গত ২৫ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যুক্ত হয়। ২৫ জুলাই বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে থেকে সরাসরি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বিমানটি ।

এর আগে গতকাল বুধবার বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, এই উড়োজাহাজ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঢাকা-আবুধাবী রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাঙচিল যেন ডানা মেলে উড়তে পারে ভালোভাবে। সবাই যত্ন নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে গত ২৫ জুলাই দেশে আসে ‘গাঙচিল’। এর মধ্য দিয়ে বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫।  ‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমানে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে।

বিমানের চারটি ড্রিমলাইনারের নাম বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে আকাশবীণা, হংসবলাকা ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসেছে। চতুর্থ ড্রিমলাইনারের নাম রাজহংস।

‘আকাশবীণা’ নামের প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে আসে। ‘হংসবলাকা’ নামের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আসে গত বছরের ডিসেম্বরে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করে।

ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। বাকি একটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আসবে বলে বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ‘রাজহংস’ নামের চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি আগামী মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত হবে।

২৭১ আসনের বোয়িং ৭৮৭-৮ গাঙচিল ড্রিমলাইনারটি অন্য বিমানের তুলনায় জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে। এই ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। এটিতে অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ হয়।

গাঙচিলের আসনসংখ্যা ২৭১। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসে আসন রয়েছে। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিক এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র।

অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াই–ফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। বিমানে ওয়াই–ফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনা মূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

x

Check Also

পেঁয়াজের দাম বাড়ল কেজিতে ৪০ টাকা

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ায় দেশের বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে ...

Scroll Up