ঢাকায় আগামীকাল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ

44

এমএনএ রিপোর্ট : আজ শনিবার থেকে ঢাকায় গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিস ‘বন্ধ’ হওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। দিনের অর্ধেকটা যাওয়ার পর ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আজ নয় আগামীকাল থেকে বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ গণমাধ্যমকেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বিকেলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের মিটিং হবে এবং আগামীকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর আগে, আজ সকাল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কেউ কেউ বলেন আজ থেকে এ সার্ভিস বন্ধ, আবার কেউ কেউ বলেন আজকের পর থেকে। এ নিয়ে যাত্রী, গাড়িচালক ও হেলপারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা গেছে। ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা।

গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৫ এপ্রিল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। ওই দিন সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয় গণপরিবহনগুলোকে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা বলছেন, নববর্ষ ও সাপ্তাহিক ছুটির বিষয় থাকায় এমনিতেই আজ রাজধানীতে বাস-মিনিবাসের চলাচল কিছুটা কম। তবে কাল রবিবার থেকে সিটিং, স্পেশাল ও গেটলক নাম নিয়ে বাস-মিনিবাসের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

যানবাহন থেকে অবৈধ হুক অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলা, সিটিং সার্ভিস বন্ধসহ পরিবহন খাতের সমস্যা সমাধানে করণীয় ঠিক করতে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও মালিক-শ্রমিক নেতারা বৈঠকে বসছেন। বিকেল চারটায় এলেনবাড়ীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে।

মালিক-শ্রমিক সূত্রগুলো জানায়, বিআরটিএর নিজস্ব চারজন নির্বাহী হাকিম রয়েছেন। তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকেন। কাল থেকে এসব আদালতে যাতে সিটিং সার্ভিস বন্ধে তৎপরতা চালানো হয়, সে অনুরোধ জানানো হবে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধে মালিক সমিতি পাঁচটি পরিদর্শন দল (ভিজিল্যান্স টিম) গঠন করেছে। কাল থেকে নগরের পাঁচটি স্থানে তারা সড়কে অবস্থান করবে। স্থানগুলো হচ্ছে আসাদগেট, আগারগাঁও (আইডিবি ভবনের সামনে), শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে ও যাত্রাবাড়ীর চাংপাই রেস্তোরাঁর সামনে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ থেকেই অনেক মালিক সিটিং সার্ভিস বাতিল করে নরমাল চালাচ্ছেন। এরপরও বিআরটিএতে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তাদের ভিজিল্যান্স টিম নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে অবস্থান নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবে।

সড়ক পরিবহন সমিতি ৪ এপ্রিল আরও যেসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ এপ্রিলের পর যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। ভাড়ার তালিকা বাসের ভেতর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। ছাদের ওপরে ক্যারিয়ার, সাইট অ্যাঙ্গেল ও ভেতরের অতিরিক্ত আসন খুলে ফেলতে হবে। প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষণ করতে হবে। এক মাসের মধ্যে রংচটা, রংবিহীন, জরাজীর্ণ বাস মেরামত করে রাস্তায় নামাতে হবে।

মোটরযান আইন অনুসারে, সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। চালকের আসনসহ মিনিবাসে ৩১টি আসন থাকবে। এর বেশি আসন হলে তা বাস। আর বিআরটিএ পরিবহন খাতের ২০টি বিষয়ে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে।

সর্বশেষ ব্যয় বিশ্লেষণে প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়ে চলাচল করবে। কিন্তু রাজধানীতে প্রায় সারা দিনই দাঁড়িয়ে যাত্রী যাতায়াত করে। যাত্রীরা সকাল ও বিকেলে অফিসযাত্রা ও ছুটির সময় দরজাতেও ঝুলে যাতায়াত করে।

মতিঝিল থেকে নবীনগর পথে চলে ওয়েলকাম ও স্বজন পরিবহন। সিটিং সার্ভিস নাম দিয়ে চলা এই দুটি কোম্পানির মিনিবাসে উঠলেই সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। অথচ মিনিবাসের জন্য ৫ টাকা এবং বড় বাসের ৭ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে সরকার। এ দুটি পরিবহনে চড়ে ফার্মগেট থেকে আসাদগেট বা শ্যামলী গেলে ১৫ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। বিআরটিএর ভাড়ার তালিকা অনুসারে ফার্মগেট থেকে কলেজগেট পর্যন্ত দূরত্ব ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই দূরত্ব মিনিবাসে ৫ টাকায় এবং বড় বাসে ৭ টাকায় যাতায়াতের সুযোগ আছে।

ঢাকায় মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত আছে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা আর বড় বাসে ১ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বনিম্ন দূরত্বের বেশি যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরকার-নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হার কার্যকর হওয়ার কথা।

অন্যদিকে, লোকাল সার্ভিস নামের বাসগুলোতে সারা দিনই আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অনেক সময় ভেতরে, দরজাতেও দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। অথচ ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়ে চলবে—এমন শর্তে সরকার ভাড়া নির্ধারণ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি ধরলে যাত্রীভাড়া কিলোমিটারপ্রতি অনেক কমে আসবে। অর্থাৎ, সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় করাও বেআইনি। লোকাল বাসে বেশি যাত্রী বহন করলে ভাড়া কমানো উচিত।

জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, বাস সিটিং যাবে, নাকি ভরে চলবে, সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি বেশি নিলে আমরা মেনে নেব না। আমাদের নির্বাহী হাকিমেরা জেল-জরিমানা করবেন। আর মালিক সমিতি চাইলে তাদেরও আমরা সহায়তা দেব। আর হুক-অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলার জন্য সারা দেশেই কাল থেকে অভিযান চলবে।