ঢাকায় এলো মেট্রোরেলের রেপ্লিকা কোচ

এমএনএ রিপোর্ট : মেট্রোরেলের একটি রেপ্লিকা কোচ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। আজ সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মেট্রো রেলের ডিপোতে নমুনা কোচটি খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে মেট্রোরেল ছিল না। মানুষকে ধারণা দিতেই এটা আমরা ডিপোতে বসাব। মেট্রোরেলের এক্সিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে এই ‘মক-আপ ট্রেন’ রাখা হবে। এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, এটি রাখা হচ্ছে যাতে মানুষ জানতে পারে ট্রেনে কীভাবে টিকেট কাটতে হবে, কীভাবে উঠতে হবে, দরজা কোন দিকে, কীভাবে নামতে হবে। এখানে সম্পূর্ণ ট্রেন থাকবে না, একটা অংশ থাকবে। মার্চে তথ্য কেন্দ্রটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে তারিখ এখনও ঠিক করা হয়নি।

তিনি বলেন, অন্যান্য আরও জিনিস এক্সিবিশন সেন্টারে থাকবে। আমরা সেগুলো একটা একটা করে আনব। এগুলো আনার পর মার্চের প্রথম দিকে সেন্টারটি চালুর একটা দিন ঠিক করতে পারব‌।

জাপানের মিৎসুবিশি ও কাওয়াসাকি থেকে তৈরি করিয়ে আনা ওই নমুনা কোচটি দেখতে হবে মূল কোচগুলোর মতই। মূল কোচগুলো ১৫ জুন বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে জানান এম এ এন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে জাপানে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। দেশে আসার পর এগুলো অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের (ওসিসি) সঙ্গে মিলে চলতে পারছে কিনা তার জন্য ট্রায়াল রান দেয়া হবে। অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে মিল রেখে চলতে পারছে কিনা তা দেখতে ট্রায়াল রান চলবে। এভাবে একটা একটা করে ট্রেন আসবে এবং ট্রায়াল রানের মাধ্যমে প্রস্তুতি সারা হবে।’

এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘কোচটি জাপানের মিৎস্যুবিশি ও কাওয়াসাকি থেকে তৈরি করে আনা হয়েছে। এই কোচ শুধু প্রদর্শন করা হবে, যুক্ত হবে না যাত্রী পরিবহন বহরে। মূল কোচগুলো যে উপাদান দিয়ে যেভাবে তৈরি করা হবে এটিও সেভাবেই তৈরি হয়েছে। উত্তরায় মেট্রোরেলের যে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে এটি সাধারণ মানুষের দেখার ও শেখার জন্য প্রদর্শিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপোর পাশে ভিজিটর সেন্টার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শন কেন্দ্রের ভেতরেই রাখা হবে নমুনা ট্রেনটি। সেখানেই দর্শনার্থীদের টিকিট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, ট্রেন থেকে নামা- এ সব বিষয়ে ধারণা দেয়া হবে।’

উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল-৬ বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাপান সরকারের সহযোগিতা সংস্থা জাইকা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন বর্ষ-২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছে সরকার।

এর আগে গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সংসদে ওবায়দুল কাদের জানান, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেট্রোরেলের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক (রেলকোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ইতিমধ্যে ৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে

x

Check Also

আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার। নতুন সূর্যালোকে আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up