ঢাকা শহরে যানজট : একটি রাজধানীর অগ্রযাত্রার প্রতিবন্ধক

843
মীর মোশাররেফ হোসেন পাকবীর : ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৯ মিলিয়ন এবং এটি বিশ্বের ১৭৪ টি দেশের জনসংখ্যা থেকেও বেশি। ঢাকা শহরে বসবাসকারীদের জন্য সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়ে বড় সমস্য যানজট। এটি আমাদের স্বাস্থ্য, মানসিকতা, আর্থিক অবস্থা এবং দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। প্রতি বছরে ধীর গতির যানচলাচলের দরুণ জ্বালানি অপচয়ের কারণে ৩৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের ক্ষতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারকে এই জনবহুল ক্রমবর্ধমান মেগাসিটি থেকে যানজট দূরীকরণের জন্য একটি সূদূর প্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আমরা যদি ঢাকা শহরের নাগরিকদের কাছে এই নগরীর সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় কি তা জানতে চাই- তাহলে এর উত্তর অবশ্যই হবে যানজট। ঢাকায় বসবাসকারীদের এ নগরীর ভয়াবহ যানজট তাদের সহ্য সীমার শেষ পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। এটি তাদের আচার-আচরণে ও কর্মকান্ডে প্রতিনিয়তই প্রকাশ পায়। এই যানজটের সমস্যা আমাদেরকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে। আর এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে যেগুলোকে এখনই পর্যবেক্ষণ ও সুরাহা করা দরকার।
ঢাকা শহরের ৭.৫% এলাকা হচ্ছে রাস্তা যা বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতন নূন্যতম ২৫ ভাগ হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু শহরের ভিতরে নতুন রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে খুব কম সুযোগই বর্তমানে রয়েছে। কারণ এর জন্য প্রচুর বিল্ডিং এবং স্থাপনা ভাঙ্গতে হবে।
অনেকক্ষেত্রে ঢাকা শহরের ট্রাফিক পুলিশ খুব একটা দক্ষ নয়। তারা আইন বাস্তবায়নে খুব একটা উৎসাহিত নয় বরং ঘুষ নেয়া এবং গাড়ির চালক অথবা মালিকদের অযথা জরিমানা করার দিকে তাদের নজর থাকে বেশি।
যানবাহনের চালকেরা বিশেষত গণপরিবহনের চালকেরা সম্পূর্ণভাবে অপ্রশিক্ষিত অথবা নূন্যতম প্রশিক্ষিত। তারা সম্পৃক্ত কর্তৃপক্ষকে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স লাভ করে এবং ট্রাফিক নিয়মের প্রায় কোন জ্ঞানই তাদের নেই। অন্যের সমস্যা নিয়ে তাদের কোনই মাথাব্যাথা নেই। ফলে রাস্তার যেকোন জায়গায় তারা গাড়ি থামিয়ে রাখে, সামান্য ফাঁকা পেলেই গাড়ী ঢুকিয়ে দেয় এবং আরও অনেক কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করে যার প্রেক্ষিতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ী চলাচল করার সময়ে তখন রাস্তার উপর দিয়ে লোক চলাচল ও পারাপারের কারণেও  যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রাস্তা পারাপারের সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা, অন্যদের সাথে গল্পগুজব করতে করতে রাস্তায় চলাচল, ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করা – এসবই আইন-কানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের অনীহারই প্রকাশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোও ঢাকার রাস্তায় যানজট, বাযুদূষণ ও নাগরিক বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। যানবাহন চলাচলের রাস্তায় উপযোগী কিনা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে থাকে আর দুর্নীতি এই অনুপযুক্ত যানবাহনগুলোর মালিকদের বাঁচিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টকে কিছু উদ্যোগ নিতে দেখা যায় কিন্তু এগুলো আসলে লোক দেখানো। এগুলো আসলে সমস্যা সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টা নয়।
আন্তঃজেলা যানবাহনের জন্য কোন বাইপাস না থাকার কারণে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে করে সারাদিনই বিশেষত রাতের বেলায় মারাত্মক যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও সারাদিনে ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে ৭০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করে যা অতিরিক্ত যানজটের সৃষ্টি করে।
এখানে উল্লেখ্য যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফ্লাইওভার তৈরির মাধ্যমে যেমন- মালিবাগ, মহাখালি, খিলগাঁও এলাকায়, ট্রেন চলাচলের সময় সৃষ্ট যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা শহরের যানজটের পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে- শিক্ষার অন্বেষায় শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে মানুষের চলাচল। এছাড়াও সারাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজারও লোক তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। আজকাল পিতামাতারা তাদের সন্তানের উন্নত লেখাপড়ার ব্যাপারে বেশ সচেতন ও চিন্তিত। কারণ তারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে শহরের ছেলেমেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে।
বৈদেশিক আয় আধুনিক কৃষি এবং গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের সাথে সাথে মানুষেরা এখন ঢাকা শহরে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য  লাভ করেছে। মফস্বলে এবং গ্রামাঞ্চলে আধুনিক শিক্ষা সুবিধার অনুপস্থিতির দরুণ মানুষজনকে উন্নত লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যা ঢাকা শহরে যানজট বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
রাজধানীর উত্তরায় বসবাসরত একজন ছাত্রকে প্রায়শই দেখা যায় মতিঝিল বা বেইলি রোডের কোন স্কুলে পড়াশোনা করতে। ঢাকা শহরে এক থানা থেকে আরেক থানায় প্রচুর ছাত্র দৈনিক চলাফেরা করে। উন্নত দেশগুলোতে বাচ্চারা কখনোই পড়াশোনার জন্য নিজের এলাকার বাইরে যায় না। বেশ কিছু দেশে যদি নিজ এলাকার স্কুলগুলো পূর্ণ না থাকে তাহলে পড়াশোনার জন্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার অনুমতিও দেয়া হয় না।
ঢাকা শহরের সবচেয়ে ভালো স্কুলগুলোর খুব সীমিত সংখ্যক শাখা রয়েছে। কিন্তু মা-বাবারা তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনেই ছোটে। সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রচন্ড যানজটের মধ্য দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চলাচল করতেও তারা দ্বিধা করে না। তারা প্রায়শই এই চলাচলের জন্য নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করে যা ঢাকার রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও প্রতিদিনই বাড়িয়ে চলেছে।
গণপরিবহনের রুটগুলো ঢাকা শহরে খুবই অপরিকল্পিত। যেমন- একটি বাস গাজীপুর থেকে শুরু করে কাঁচপুর অথবা নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চলাচল করে; যদিও তাদের শহরের ভেতরে প্রবেশ করা উচিৎ নয়। শুধুমাত্র শহরের ভেতরে চলাচলের জন্য বাস অথবা হিউম্যান হলার সার্ভিস থাকা প্রয়োজন। যেহেতু এই গণপরিবহনগুলো সারাদিন একাধিকবার শহরের ভেতর প্রবেশ করে ও শহরের উপর দিয়ে চলাচল করে বিধায় এগুলো ঢাকা শহরে যানজট সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
যানজটের আরও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে অবৈধভাবে দখলকৃত ফুটপাত। হকার, দোকানদার, ভিক্ষুক, রাস্তার উপরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী- এরা ফুটপাতের বেশিরভাগ জায়গাই দখল করে ফেলে এবং মানুষকে রাস্তার উপরে হাটাচলা করতে হয়। এই রাস্তার উপরে চলাচলকারী পথচারীরা সড়কের প্রায় ৩০ শতাংশ দখল করে রাখে। এই অবৈধ ফুটপাত দখল এবং শহরের রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং যানজট সৃষ্টিতে মারাত্মক ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিশ্বের তৃতীয় বসবাস অনুপযোগী শহর হবার পেছনে এই শহরের যানজটের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে। যানজট কমাতে ও ঢাকা শহরকে বসবাস উপযোগী করে তুলতে বেশ কিছু স্বল্প  ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দরকার রয়েছে।
ঢাকার বাইরে সরকারকে অবশ্যই মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি থানায় অত্যন্ত পক্ষে দুই থেকে তিনটি ভালো স্কুল ও কলেজ, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নূন্যতম একটি ভালো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে হবে। এই প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার মান ও সুবিধা ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর মত হওয়া অত্যাবশকীয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো শিক্ষক ও পর্যাপ্ত সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে ছাত্রদেরকে উন্নত শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসতে না হয়।
আমাদেরকে শহরের সবচেয়ে ভালো স্কুল এবং কলেজগুলোকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অথবা থানায় শাখা খোলার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে এ ব্যাপারে আদেশ প্রদান করতে হবে। বিশেষত  যেসব এলাকাগুলোতে  শহর বাড়ছে যেমন- পূর্বাচল বা ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় এসব স্কুল-কলেজের শাখা খোলা দরকার। প্রতিটি থানায় মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। এর পরে সরকারকে শিক্ষার্থীদের জন্য আইন করতে হবে যেন তারা তাদের নিজ থানার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্ততপক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে। এটি ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাপক হারে কমিয়ে আনবে এবং মা-বাবাদের দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের গাড়ির খুব একটা প্রয়োজন পড়বে না।
ফুটপাত অবশ্যই দখলমুক্ত করতে হবে এবং এর কোন বিকল্প নেই। সরকারকে ফুটপাতের উপর থাকা ব্যবসাগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাস্তা শুধুমাত্র যানবাহনের জন্য থাকবে। রাস্তা পারাপারের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশকে সে সকল স্থানসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে করে সাধারণ জনগণ যান চলাচলকে বিঘ্নিত না করেই রাস্তা পারাপার করতে পারে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং ঢাকা শহরের খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ ইতিমধ্যে সরকার সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাফল্যের সাথে বেশ কিছু বড় বড় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। হাতিরঝিল প্রকল্পের কথা উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে। যা আশপাশের এলাকার যানবাহনের চলাচলকে ব্যাপক হারে ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প, দেশের সর্ববৃহৎ রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ সাফল্যের সাথে শেষ করেছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু  প্রকল্পেও সেনাবাহিনী দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের যানজট হ্রাস করতে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা- যা যানজটেরও একটি বড় কারণ, দূর করতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাবলিক বাসগুলোকে সরকার অথবা কোনো কো-অপারেটিভ সোসাইটি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। বাস মালিকেরা তাদের গাড়ীগুলোকে ঐ কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে নিবন্ধন করবে এবং তার জন্য মাসিক ভাড়া পাবে। এগুলোর চলাচলের জন্য শহরের ভেতরে সুনির্দিষ্ট কিছু রুট থাকবে।
এই বাসগুলোতে সকলপ্রকার সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বাসচালক এবং তার সহযোগীর নূন্যতম উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন ও জনসেবার উপরে প্রশিক্ষিত হওয়া বাধ্যতামূলক। এতে করে তাদের আইন ও যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাসচালক অথবা তার সহযোগীর দৈনিক কার্য-সময় কখনোই আট ঘন্টা অতিক্রম করতে পারবে না। চমৎকার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদের যথাযথ বেতন ও সুবিধাদি প্রদান করা জরুরি। এতে করে সাধারণ মানুষ কমমাত্রায় ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত হবে কারণ তাদের কাছে ভালো বিকল্প থাকছে। তার উপর প্রতিটি বাস দাঁড়াবার স্থানে যাত্রী ছাউনি স্থাপন বা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন এবং বাসগুলো শুধুমাত্র ঐ জায়গাগুলোতেই থামবে। যেহেতু বাস মালিকেরা মাসিক ভিত্তিতে টাকা পাবে, তাই চালকেরাও যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো-নামানোতে নিরুৎসাহিত বোধ করবে।
ঢাকা শহরকে ঘিরে থাকা চারটি নদীর অভ্যন্তরে একটি রিং রোড তৈরি করা খুব দরকার। এটি ঢাকা শহরে সার্বিক রাস্তার পরিমান বৃদ্ধি করবে এবং একই সাথে ঢাকা শহরের ভিতর দিয়ে আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এই রিং রোডের মাধ্যমে শহরের পরিধিও বৃদ্ধি পাবে যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহনের চাপ কমে আসবে।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ বিভিন্ন বিশেষ দিবসের জন্য শহরের একটি বিশেষ যানচলাচলের রুট পরিকল্পনা করে থাকেন। এটি যান চলাচলকে সুপরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে যানজটকে কমিয়ে আনে। এই বিশেষ পদ্ধতিটি অফিস শুরু এবং শেষ হওয়ার সময় ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঐ সময়গুলোতে অস্থায়ীভাবে একমুখি করে দেয়া উচিৎ যাতে দ্বিমুখি যানবাহনের চাপ কমে আসে।
বাংলাদেশ সরকার যদি বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে অভূতপূর্ব উন্নতি করতে পারে, তবে তারা ঢাকা শহরের যানজটও নিরসন করতে পারবে। এজন্য যানজটের সমস্যা সমাধানে সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ঢাকা শহরের অগ্রযাত্রা কখনোই সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দৃশ্যমান করা সম্ভবপর হবে না।
লেখক : প্রধান সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) ।