ঢাবির হল সংসদে নির্বাচিত হলেন যারা

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবির) বিভিন্ন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৬৬ ভাগ সাফল্য এসেছে ছাত্রলীগের। এ ‍নির্বাচনকে ছাত্রলীগের জয়জয়কার বলা হচ্ছে। তবে ছাত্র হলগুলোতে আধিপত্য দেখাতে পারলেও ছাত্রী হলগুলোর ভিপি জিএস পদের অধিকাংশতেই ব্যর্থ ছাত্রলীগ। ফলে এ পদগুলো চলে গেছে স্বতন্ত্র প্যানেলের দখলে।

১৮টি হলের মধ্যে ১২টিতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগ ও ৬টিতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪টিতে ছাত্রলীগ ও ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এসব হলে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল ছিল। কোথাও তাদের প্রার্থীরা জয়ের মুখ দেখেনি।

হল সংসদে ভিপি-জিএসসহ ১৩টি পদ আছে। ভিপি-জিএস ছাড়া একটি এজিএস, ৬টি সম্পাদকীয় এবং ৪টি সদস্য পদ রয়েছে। হল সংসদে ছাত্রলীগ একচেটিয়া জিতলেও ছাত্রী হলে তার বিপরীত চিত্র। ছাত্রী হল সংসদগুলোতে শীর্ষ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের খবর পাওয়া গেছে। তাদের বেশির ভাগই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থক।

এরআগে নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট কারচুপির অভিযোগে ছাত্রলীগ বাদে বাকি প্যানেলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। বিলম্বিত ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ভোটগ্রহণের কারণে রোকেয়া ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট শেষ করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ওই দু’টির একটির ফল ঘোষণায় মধ্যরাত পার হয়ে যায়।

ছাত্রীদের পাঁচটি হলের মধ্যে শামসুন্নাহার, কবি সুফিয়া কামাল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী- এ তিন হলেই ভিপি-জিএস উভয় পদেই জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়াও ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ভিপি পদটিও জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিকি হায়দার আশা। এসব হলের অন্যান্য পদেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে জয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে ছাত্রদের ১২টি হলের মধ্যে অমর একুশে হল ও ফজলুল হক হলে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এরা হচ্ছেন মেহেদী হাসান সুমন ও মাহমুদুল হাসান তমাল। এর বাইরে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের জিএস পদে জয় পেয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুল ইসলাম। বাকিগুলোর ভিপি-জিএসসহ বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) ডাকসু নির্বাচন শেষে হলগুলোর নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা হল সংসদ রিটার্নিং অফিসাররা এই ফল ঘোষণা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হলের সংখ্যা ১৯টি। এর মধ্যে স্যার ফিলিপ হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য হওয়ায় এটি ভোটের আওতাধীন নয়। অবশিষ্ট ১৮টি হল সংসদে গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শামসুন্নাহার হল

ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ, জিএস আফসানা ছপা, এজিএস ফাতিমা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনজনই স্বতন্ত্র প্যানেল ছিলেন। তবে তারা কোটা আন্দোলনের সমর্থক সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা। এ হলে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ১৩টি পদের ৮টিতেই স্বতন্ত্র প্যানেল জয়ী হয়েছে। বাকিগুলোতে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্যানেলটি আট জনেরই ছিল। এরা সবাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যানেলের শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল

এ হলের ভিপি ও জিএসসহ মোট পাঁচটি পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভিপি হয়েছেন সুস্মিতা দে, জিএস হয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশান। বাকি আট পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। এই হলেই সিল মারা ব্যালটের বস্তা পাওয়া যায়।

বেগম রোকেয়া হল

এ হলে ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। ভিপি হয়েছেন ইশরাত জাহান তন্বী, জিএস সায়মা আক্তার প্রমি এবং এজিএস ফালগুনী দাস তন্বী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনটি বাদে ১০টি পদ পেয়েছে ছাত্রলীগ। রোকেয়া পরিষদ নামে সাধারণ ছাত্রীদের প্যানেল অপর তিনটি পদ পেয়েছে।

কবি সুফিয়া কামাল হল

এ হলে ভিপি ও জিএস পদে জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা। ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন তানজিনা আক্তার সুমা। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন মুনিরা শারমিন। তারা কোটা আন্দোলনের সমর্থক সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল

এ হলে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থী রিকি হায়দার আশা। তিনি ক্যাম্পাসে ও হলের জনপ্রিয় একজন বিতার্কিক। জিএস পদে সারা বিনতে কামাল ও এজিএস পদে সাবরিনা স্বর্ণা জিতেছেন। তারা দু’জনই ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থী। এই হলে ১০ পদে ছাত্রলীগ জয়ী হলেও রিকির মতো সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে তাসলিন হালিম মিম ও সাহিত্য সম্পাদক পদে খাদিজা জয়ী হন। এই দুজনও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। বাকি সব পদে জয়ী ছাত্রলীগ।

অমর একুশে হল

অমর একুশে হলে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান সুমন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। তবে জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের আহসান হাবীব। অন্য পদগুলোতেও ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল

সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত। জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুল ইসলাম। এজিএস পদে সুরাপ মিয়া নির্বাচিত হয়েছেন। জিএস স্বতন্ত্র, বাকি সব পদে জিতেছে ছাত্রলীগ।

কবি জসীমউদ্দীন হল

ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের ফরহাদ আলী। এই হলে জিএস নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের ইমাম হাসান ও এজিএস পদে সাইফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছে। এই হলে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জয়ী হয়েছেন।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল

ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থী শহিদুল হক শিশির। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মেহেদী হাসান মিজান ও এজিএস পদে সাদিল আব্বাস নির্বাচিত হয়েছে। এই হলে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জয়ী হয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল

ভিপি পদে ছাত্রলীগের আকমল হোসেন, জিএস পদে মেহেদী হাসান শান্ত, এজিএস পদে জুলফিকার হাসান পিয়াস নির্বাচিত হয়েছেন। এই হলে সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও একটি সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। অন্য সব পদে জিতেছে ছাত্রলীগ।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল

এ হলে পূর্ণ প্যানেলে জিতেছে ছাত্রলীগ। এখানে ছাত্রলীগ থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শরিফুল ইসলাম শাকিল, জিএস পদে হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং এজিএস পদে আবদুল্লাহ আল মুমিন আবির জয়ী হয়েছেন।

বিজয় একাত্তর হল

এ হলে ১৩টি পদের সব কটিতেই জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। এই হলে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন সজিবুর রহমান সজিব, জিএস পদে নাজমুল হাসান নিশান, এজিএস পদে আবু ইউনুস নির্বাচিত হয়েছেন।

সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল

এ হলেও পূর্ণ প্যানেলে জয়ী ছাত্রলীগ। ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোজাহিদ কামাল উদ্দীন (এম এম কামাল)। জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন জুলিয়াস সিজার তালুকদার এবং এজিএস নওশের আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

জগন্নাথ হল

জগন্নাথ হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ছাত্রলীগ জয়ী হয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন উৎপল বিশ্বাস। জিএস পদে জয়ী হয়েছেন কাজল দাস এবং এজিএস পদে অতুনু বর্মন নির্বাচিত হয়েছেন।

মাস্টার দা সূর্যসেন হল

এই হলের ছাত্র সংসদে ভিপি পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের মারিয়াম জামান খান সোহান। জিএস পদে জিতেছেন একই প্যানেলের সিয়াম রহমান এবং এজিএস পদে সালাম মোরশেদ নির্বাচিত হয়েছেন। প্যানেলের বাইরে বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে জুলহাস সুজন, সাহিত্য সম্পাদক পদে আল সাদী নির্বাচিত হয়েছেন। ওই দুই পদ দুটি বিজয়ীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

স্যার এ এফ রহমান হল

এ হলে হলে ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়ী হয়েছে। ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল আলীম খান ও জিএস পদে জয়ী হয়েছেন আবদুর রহিম সরকার, এজিএস পদে আল আমিন নির্বাচিত হন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল

এ হলে ছাত্রলীগের পূর্ণ প্যানেল জয়ী হয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন হোসাইন আহমদ সোহান। জিএস পদে জয়ী হয়েছেন ইরফানুল হাই সৌরভ এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন সোহেল আহমদ মিলন।

ফজলুল হক মুসলিম হল

এ হলে ভিপিসহ পাঁচটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকী আটটি পদে জিতেছে ছাত্রলীগ। ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল। জিএস পদে মাহফুজুর রহমান এবং এজিএস পদে সাহিনুর রহমান ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

x

Check Also

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় : কাদের

এমএনএ রিপোর্ট : ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (ক্যাব) দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন ...

Scroll Up