তাইওয়ানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪, নিখোঁজ ১৫০

14
এমএনএ ইন্টারন্যাশন্যাশনাল ডেস্ক : গতকাল মঙ্গলবার রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চল। ভেঙে পড়েছে দুটি আবাসিক হোটেল ও একটি সামরিক হাসপাতাল। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে দেড় শতাধিক। আরও কিছু বাড়িঘরও ভেঙে গেছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১.৫০-এ ভূমিকম্প হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ও ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্দর শহর হিউয়ালিয়েন থেকে ২১ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে ছিল উত্‍‌পত্তিস্থল।
মার্কিন ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, এদিন কম্পনের তীব্রতা ছিল রিক্টার স্কেলে ৬ দশমিক ৪।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি উদ্ধারকাজ চালানো শুরু হয়। এ সময় হুয়ালিয়েন শহরে হোটেল ও আবাসিক এলাকা থেকে দেড় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়। ভূমিকম্পে শহরটির বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে গেছে এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে উপদ্রুত অঞ্চলের রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোয় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে আছে এবং কিছু সুউচ্চ ভবন হেলে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে একটি বহুতল আবাসিক ভবনও রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ভবনটির চারদিক ঘিরে রয়েছেন। ভবনটির জানালাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং ভবনটি ৪০ ডিগ্রি কোণ করে ভূমিতে ঢুকে গেছে।
ভয়াবহ একটি ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলের ভেতরও অন্তত দুজন আটকা পড়ে আছেন। আহতদের মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দা, চেক প্রজাতন্ত্র, জাপান, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও আছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ৫ মাত্রার পরাঘাত হতে পারে বলে সরকার দ্বীপটির বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। বুধবার সকাল থেকেই ছোট ছোট পরাঘাত বাসিন্দাদের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
হুয়ালিয়েনে প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাস। ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে শহরটির রাস্তাগুলো ভেঙে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরটির প্রায় ৪০ হাজার বাড়ি পানিবিহীন ও ছয় শতাধিক বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের ভিডিওতে ভূমিকম্পের পর তাইওয়ানের রাস্তায় বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। ওই সময় পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা সড়কে উদ্বিগ্ন মুখে ঘোরাঘুরি করা লোকজনকে সাহায্যের চেষ্টা করছিলেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিমজ্জিত একটি গাড়ির পাশে উদ্ধারকর্মীদের কাছাকাছি একটি ভবনের জঞ্জাল সরাতেও দেখা যাচ্ছিল।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ নির্মাতা ও অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি প্রাথমিকভাবে ভূমিকস্পের কারণে তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে।
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, যেটিকে তার ভূখণ্ডের অংশ মনে করে চীন। দ্বীপটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। গত রবিবারও কাছাকাছি এলাকায় ৬.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
আজ বুধবার ভোররাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ভূমিকম্পের পর জরুরি উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য তাইওয়ানে সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঘনঘন ভূমিকম্প হচ্ছে তাইওয়ানের এই অঞ্চলে। তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, যেটিকে তার ভূখণ্ডের অংশ মনে করে চীন। দ্বীপটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।
২০১৬ সালে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে শতাধিক লোক নিহত হয়েছিল।