তাবলিগের দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

45
এমএনএ রিপোর্ট : ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ঢাকায় আসা নিয়ে সংকট নিরসনে তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিরা, আলেম এবং কাকরাইল মারকাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে এই উত্তেজনার কারণে মাওলানা সাদ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
সাদবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে নতুন করে বিশৃংখলা এড়াতে কাকরাইল মসজিদ এলাকায় গতকাল বুধবার রাত থেকেই নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকারের যে সিদ্ধান্ত, তাতে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাচ্ছেন না। তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে রাখা হয়েছে।’
বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা ও তাবলিগ জামাতের একাংশের আন্দোলনের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদ যাতে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল তাবলিগ জামাতের একাংশ।
গতকাল বুধবার সাদের আগমনের খবর পেয়ে সকাল থেকে বিমানবন্দর চত্বরে বিক্ষোভ করেন তাবলিগের একাংশের সমর্থক মুসল্লিরা। পরে মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে যাবেন না পুলিশের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় তাকে পুলিশ পাহারায় বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা। সেখান থেকে মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
একপর্যায়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ছয়জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
তুরাগ নদের তীরে টঙ্গীতে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে অংশ নিতে এর মধ্যেই মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। মুসল্লিদের পদচারণায় ময়দানের অনেকাংশ মুখর হয়ে উঠেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশের তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফ ও কওমী মাদরাসা বোর্ডের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী উপস্থিত রয়েছেন।
এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বৈঠকে।
ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বৈঠকে অংশ নিলেও পৌঁনে চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে যান।