তিন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া

14
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া তিন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের আগে দিয়ে পিয়ংইয়ং এ পদক্ষেপ নিল।
গতকাল বুধবার ট্রাম্প এক টুইটে সানন্দে এ কূটনৈতিক জয়ের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চমৎকার তিনজন ভদ্রলোককে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন, যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য সবাই অপেক্ষায় আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই তিন নাগরিক সুস্থ আছেন এবং কিমের সঙ্গে আলোচনায় দুই নেতার বৈঠকের সময় এবং স্থান ঠিক হয়েছে বলেও টুইটে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পম্পেও উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন। আর এর পথ ধরেই তিন মার্কিনি মুক্তি পেল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন বন্দিদেরকে মুক্তি দেওয়ার এ পদক্ষেপ আসন্ন কিম-ট্রাম্প বৈঠকের জন্য ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার সকালেই তিনজনকে নিয়ে ওয়াশিংটনের বাইরে এন্ড্রুজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে পম্পেওর।
ট্রাম্প অধীর আগ্রহে তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং নিজে তাদেরকে স্বাগত জানাবেন বলে টুইটে জানিয়েছেন।
মুক্তি পাওয়া তিন মার্কিনি হলেন, কিম হক-সং, টনি কিম এবং কিম ডং-চুল। গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে তাদেরকে বন্দি শিবিরে রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই তাদের মুক্তি দাবি করে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর সঙ্গে উত্তর কোরিয়া সফর করা সাংবাদিকরা জানান, মুক্তি পাওয়ার এক ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনজনকে নিয়ে রওনা দিয়েছে বিমান।
কোরিয়ান বংশোদ্ভুত এ তিন মার্কিনির মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন বন্দি ছিলেন ৬৪ বছর বয়স্ক কিম ডং-চুল। ২০১৫ সালের অক্টোবরে তাকে আটক করা হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে উত্তর কোরিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তার ১০ বছরের জেল হয়।
এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিলে পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে আটক হন ৫৯ বছর বয়স্ক টনি কিম। উত্তর কোরিয়ার পতনের লক্ষ্যে অপরাধমূলক ও বৈরি কর্মকান্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এর দু’সপ্তাহ পরই আটক হন কিম হক-সং। তাকেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
পম্পেওর সঙ্গে উত্তর কোরিয়া সফর করা এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিমের সঙ্গে বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং দুপক্ষই যৌথভাবে শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা করার ব্যাপারে আরো সহযোগিতা করতে একমত হয়েছে।
তাছাড়া, এ বিষয়ে বিস্তারিত খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার জন্য আবারো বৈঠক করা নিয়েও মতৈক্য হয়েছে।