তিশার সাথে সম্পর্কটা একান্তই ব্যক্তিগত : হাবিব

49

এমএনএ বিনোদন রিপোর্ট : মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার সঙ্গে গায়ক ও সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ তাঁর সম্পর্কটাকে একান্তই ব্যক্তিগত বললেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে হাবিব এ কথাটি জানান। গুঞ্জন রটেছে সঙ্গীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের কারণ এক মডেল ও অভিনেত্রী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হাবিবের সাবেক স্ত্রী রেহান চৌধুরীর দেওয়া একটি পোস্টের কারণে তানজিন তিশার সঙ্গে হাবিবের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

ফেসবুকে স্ট্যাটাসে রেহান লেখেন, ‘পিয়া বিপাশা আমাকে হার্ট করেছিল। দেখ, বছর হয়নি দুইবার তোমার নাম আসল। এখন তানজিন তিশা তোমার পালা। আসবে ভেরি সুন।’

গত বছর একটি গানের মডেল হওয়ার মধ্য দিয়ে তানজিন তিশার সঙ্গে হাবিবের পরিচয়। এর পর তাঁদের দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের মুখরোচক কথা ছড়াতে থাকে। তারা লিভ টুগেদার করছেন বলে কিছু কিছু গণমাধ্যমে এমন ভবরও বেরিয়েছে। সাবেক স্ত্রী রেহানের মুখ খোলার কারণে হাবিব ও তানজিন তিশার সম্পর্কের ব্যাপারটি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সবাই।

একটি কনসার্টে অংশ নিতে হাবিব এই মুহূর্তে গায়ক বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদসহ অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। তাই রেহানের কথার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাই করতে হাবিবের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না সংবাদকর্মীদের।

বিষয়টি নজরে এলে হাবিব তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমাকে নাকি কিছু সাংবাদিক ভাইয়েরা খুঁজে পাচ্ছেন না! কনসার্টের জন্য আমি এখন অস্ট্রেলিয়াতে আছি। কিছুটা দুঃখজনক যে একটি বিষয় নিয়ে আবারও কথা বলতে হচ্ছে। আপনাদের করা একটি নিউজ দেখলাম, যেখানে বলা হয়েছে যে তানজিন তিশার কারণে আমার সঙ্গে রেহানের ডিভোর্স হয়। কথাটি ঠিক নয়। কারণ, এক হাতে তালি বাজে না।’

হাবিব এ-ও লেখেন, ‘তানজিন তিশার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক, সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এটি নিয়ে কিছু বলতে আমি বাধ্য না। আমার ডিভোর্সের কয়েক মাস পর এসব কথা রেহানই বা কেন বলল, এটাও আমার কাছে আশ্চর্যজনক। বলার হলে আরও আগেই বলত। ডিভোর্সের কারণ যা-ই হোক না কেন, আমি তো জোর করে ডিভোর্স করতে বলিনি তাকে। সমঝোতার মাধ্যমেই তা হয়।’

এদিকে হাবিবের এই পোস্ট নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে রেহানও পাল্টা একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বাহ! বেশ লিখেছেন হাবিব ওয়াহিদ, আসলেই বিচ্ছেদের আগে কেন বলিনি। কারণ, আমি জানতাম শ্রদ্ধা কী জিনিস আপনি তা একটু হলেও বোঝেন। কিন্তু সেটা তো আরও প্রমাণ করলেন বিচ্ছেদের পর। আপনারা আমাকে অপমান করার কে? আমি তো ভালোই ছিলাম আমার ছেলেকে নিয়ে। বলেন, আপনার গার্লফ্রেন্ডের সমস্যা কী আমাকে নিয়ে? এখন আবার স্ট্যাটাস দেন?’

রেহান আরও লেখেন, ‘প্রেম করছেন ভালো কথা, কিন্তু অন্যদের শান্তি নষ্ট করছেন কেন? আপনার সন্তানকে মানুষ করছি আমি, ডজন খানেক প্রেম করছি না। এত কিছুর পরও আমাদের সন্তানকে আদর-মমতা দিয়ে আগলে রেখেছি। আর কিছু বলব না, আগে আপনারা আমাকে মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি দিন। তারপর দেখবেন সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে। আর আপনার ফেসবুক স্ট্যাটাস মানেই যে সবকিছু সত্য, তা-ও কিন্তু ভুল। সো বি হ্যাপি আর আমাকে তৃতীয় পক্ষের কাউকে দিয়ে নির্যাতন বন্ধ করুন জনাব হাবিব ওয়াহিদ।’

২০১১ সালে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের মেয়ে রেহান চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাবিব ওয়াহিদের। পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে ২০১২ সালে ২৪ ডিসেম্বর তাঁদের ঘর আলোকিত করে আসে একমাত্র সন্তান আলিম। এ বছরের ১৯ জানুয়ারি তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে প্রথম লুবায়না নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন হাবিব। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর।