তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী!

18
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলো পরস্পরকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সমর বিশারদরা মনে করছেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে এখন পৃথিবী!
তাহলে পৃথিবী কি সত্যিই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খুব কাছে? বিশ্বময় উত্তেজনা বাড়ছে সিরিয়াকে ঘিরে। এমনকি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই লেগে যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ডেইলি মিররের একটি প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কা করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র জোট ন্যাটো সিরিয়ায় আইএসআইএসের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। আবার একইভাবে আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলার কঠোর হামলার দাবি করেছে রাশিয়া। আকাশের সঙ্গে সঙ্গে মাটিতেও সমান তালে যুদ্ধ চলছে। বাশার আল আসাদের সেনা শুধু আইএসআইএসের বিরুদ্ধেই লড়ছে না, তারা আমেরিকার প্রশিক্ষণ দেওয়া আসাদ বিরোধীদের লক্ষ্য করেও অভিযান চালাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটেই এমন দাবি করেছে ডেইলি মিরর।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে সিরিয়ার আকাশ। কেউ কেউ বলছেন, যেসব দেশ সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে সেসব দেশের যুদ্ধ বিমান, ড্রোনের মধ্যে যে কোনও সময় সংঘর্ষ হতে পারে। এতে নতুন করে তৈরি হতে পারে সংকট। এরইমধ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু পরিত্যাগ করতে হয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান এড়াতে হয়েছে কয়েকবার। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড কাতার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, ইউএস এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাশিয়ার এসইউ-৩৪ এর কতটা কাছাকাছি।
সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার নেতৃত্বে থাকা লে জেনারেল চার্লস ব্রাউন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো ২০ মাইলের মতো দূরত্বে থাকছে। এ বিমানগুলির যে গতি তাতে ৩০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এর জেরেই বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, আমেরিকা ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের মধ্যে ধাক্কা লাগলেই শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
এসবের প্রেক্ষাপটে প্রতীয়মান হয় যে, এ যুদ্ধে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট আসাদ বিরোধীদের নানাভাবে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।
সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বশেষ এই টুইটে বলেছেন, ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’ – কারণ যে মিসাইল আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।’
এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন হচ্ছে – পৃথিবী কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক লিনা খাতিব বলছেন, সিরিয়ার সংঘাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে।
অন্যদিকে আমেরিকার কাছে উত্তর কোরিয়াও একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ। লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ’র গবেষক স্টিভ স্যাং মনে করেন উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মস্কোর ইন্সটিটিউট অব পলিটিকাল স্টাডিজ’র গবেষক সার্গেই ম্যারকভ মনে বলছেন, পশ্চিমা নেতারা নিজেদের রাশিয়ার চেয়ে শক্তিশালী মনে করে।
পৃথিবীতে এখন নানা ধরনের দ্বন্দ্ব কিংবা সংঘাত চলছে এবং এর সঙ্গে নানা দেশ জড়িত।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক লিনা খাতিব বলেছেন, এক ধরনের শীতল যুদ্ধ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এর সঙ্গে আরো একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে, পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলো এখন যারা পরিচালনা করছে তারা সবাই জাতীয়তাবাদী। সেজন্য যে কোনো সংকটের ক্ষেত্রে তারা পিছপা হতে চাইছেন না।
একথা মনে করেন দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক শশাঙ্ক জোসি।
এমন প্রেক্ষাপটে উদ্বিগ্ন হবার মতো পরিস্থিতি কি রয়েছে?
মস্কোর ইন্সটিটিউট অব পলিটিকাল স্টাডিজ’র গবেষক সার্গেই ম্যারকভ মনে করেন, যদি রাশিয়ার কোনো সৈন্যকে আমেরিকা হত্যা করে তাহলে কেবল উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসতে পারে।
লিনা খাতিব মনে করেন, যদি বৃহৎ শক্তিগুলোর পরস্পরের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরস্পরের স্যাটেলাইটে সাইবার আক্রমণ করে তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে।
লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের গবেষক স্টিভ স্যাং-এর মতে কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে আমেরিকা যদি তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সেটা হবে খুবই ভয়ঙ্কর একটি বার্তা। এর অর্থ হচ্ছে সে অঞ্চলে একটি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
যদিও উত্তেজনা বাড়ছে কিন্তু একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই কাজ করছেন। পৃথিবীজুড়ে যেসব শান্তিকামী নাগরিক সমাজ রয়েছে তারা সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃ্ষ্টি করছে যাতে তারা সংঘাতে না জড়িয়ে পড়ে।
শশাঙ্ক জোসির মতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এ ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যে কোন ধরনের বড় যুদ্ধ থামানোর জন্য জাতিসংঘ একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন জোসি।