দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৭৯ রানের চ্যালেঞ্জ দিল বাংলাদেশ

35
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান করেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে করতে হবে ২৭৯ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিল ২৫১। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচ শেষে তিনি ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ওয়ানডের এক ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ রান। এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সৌম্য সরকার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৯০ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন।
অন্যরা আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে খেললে হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম তিনশ রানের দেখা পেয়ে যেত বাংলাদেশ। এই উইকেটে কেমন ব্যাটিং দরকার ছিল সেটা দেখিয়েছেন ভীষণ চাপে থাকা মুশফিক। টেস্টে দলের বাজে পারফরম্যান্স, নিজের মন্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে থাকা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতেই।
ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খায় অতিথিরা। চোটের জন্য ছিটকে যান তামিম ইকবাল ও মুস্তাফিজুর রহমান। দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলারকে হারানো বাংলাদেশ নামতে পারেনি পূর্ণ শক্তি নিয়ে।
তামিম নেই, বার্জে ফর্মের জন্য বাদ সৌম্য সরকার। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন লিটন দাস। শুরু থেকে তাকে মনে হয়েছে আত্মবিশ্বাসী। ২৯ বলের ছোট ইনিংস তিনি দেখিয়েছেন এখানে রান আছে, শট খেলা সম্ভব।
আঁটসাঁট বোলিং করা কাগিসো রাবাদা ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। তার বলে স্লিপে ফাফ দু প্লেসিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান লিটন।
অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল শুরুতে ভুগছিলেন। মাঝ ব্যাটে খেলতে পারছিলেন না। সিঙ্গেলস বের করতে পারছিলেন না। তার প্রথম ১০ রানের মধ্যে ৮ রান আসে কানায় লেগে পাওয়া দুটি চারে। দুই অঙ্কে যাওয়ার পর নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেন তিনি। আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োকে হাঁকান ছক্কা।
কঠিন সময় পার করে দেওয়া ইমরুল ফিরেন বাজে বলে বাজে এক শটে। সফর জুড়ে থিতু হয়ে ফেরা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান আরেকবার করেন তার পুনরাবৃত্তি। লেগ স্টাম্পের শর্ট বলে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষককে।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সাকিব এবং মুশফিক। তাদের এই জুটিতে ভর করেই ১০০ রান পার করে ফেলে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ প্লাস উইকেট এবং ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব আল হাসান। তবে তাকে বেশি দুর যেতে দেননি স্পিনার ইমরান তাহির। মাত্র ২৯ রান করেই তাহিরের ঘূর্ণিতে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নামার আগে পাঁচ হাজার রান থেকে মাত্র ১৭ রান দুরে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ২০ তম ওভারে প্রিটোরিয়াসকে থার্ডম্যানে ঠেলে দিয়ে একটি রান নিয়ে সাকিব পৌঁছে যান ৫ হাজারি ক্লাবে। সাকিবের আগে ৫ হাজার এবং ২০০ প্লাস উইকেট নেয়া অন্য চার ক্রিকেটার হলেন সনাৎ জয়সুরিয়া, শহিদ আফ্রিদি, জ্যাক ক্যালিস এবং আব্দুল রাজ্জাক।
একই সঙ্গে বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ৫ হাজার রান ও দুইশ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান সাকিব। ১৭৮ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনিই দ্রুততম। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মতো সাকিবও পারেননি নিজের ইনিংস বড় করতে। লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের বলে ফিরেন হাশিম আমলাকে ক্যাচ দিয়ে।
সাকিবের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়া মুশফিক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে উপহার দেন আরেকটি চমৎকার জুটি। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুই জনে গড়েন ৭৩ বলে ৬৯ রানের জুটি।
ফিরতি স্পেলে রাবাদাকে ডিপ উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানো মাহমুদউল্লাহ রান তুলছিলেন দ্রুত। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের স্লোয়ার শর্ট বলে এগিয়ে এসে তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন ডেভিড মিলারের হাতে।
৪০তম ওভারে দুইশ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন আর অভিষিক্ত মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনদের কাছে দলের দাবি ছিল দ্রুত রান তোলা। সেই চেষ্টাতেই রাবাদার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিন জন।
ডেন প্যাটারসনকে ছক্কা কাভার দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ৫২ বলে ফিফটিতে পৌঁছান মুশফিক। তার সেঞ্চুরি আসে ১০৮ বলে- রাবাদার বলে দুই রান নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তার চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল তামিম ও সাকিবের।
প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ৭ রান দেওয়া রাবাদা শেষ পর্যন্ত ৪৩ রানে নেন ৪ উইকেট। দুটি উইকেট নেন প্রিটোরিয়াস। তারাই দেখিয়েছেন লাইন লেংথ ঠিক থাকলে ব্যাটসম্যাদের জন্য কাজটা কতটা কঠিন করা যায়। তার দেখানো পথ ধরে যদি যেতে পারেন বাংলাদেশের বোলাররা আমলা-ডি ভিলিয়ার্সদের জন্য কাজটা সহজ হবে না।
মুশফিকের হাত ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছে বাংলাদেশ। দল তাকিয়ে আছে আরেকটি প্রথমের দিকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম জয়!
৪৫ বলে ২৯ রান করে আউট হওয়া সাকিব পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০০০ হাজার ও ২০০ উইকেটের ডাবলসের রেকর্ড গড়েন। তবে একটা দিক থেকে সবার চেয়ে এগিয়ে সাকিব। দ্রুততম এই ডাবলসের রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৮/৭ (ইমরুল ৩১, লিটন ২১, সাকিব ২৯, মুশফিক ১১০*, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাব্বির ১৯, নাসির ১১, সাইফ উদ্দিন ১৬; রাবাদা ৪/৪৩, প্যাটারসন ০/৬৯, তাহির ১/৪৫, প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, ফেলুকওয়ায়ো ০/৬০, দুমিনি ০/৮)