দামেস্কের পূর্বাঞ্চলে ‘প্রচণ্ড’ বিমান হামলা

69

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে আজ সোমবার প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। গতকাল রবিবার বিদ্রোহীদের হামলার পর আজ সোমবার ভোর থেকে পাল্টা হামলা শুরু করল বাশার বাহিনী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর প্রধান রামি আব্দেল রহমান বলেন, ‘ভোর থেকে বিদ্রোহীদের অধিকৃত জোবারে প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল যে বিরোধী পক্ষগুলো হামলা চালিয়েছিল সরকার ও তার মিত্র বাহিনী তাদের ওপর হামলা শুরু করেছে।’

সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা গাড়িবোমা ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে আক্রমণটি শুরু করে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা হামলা চালাতে গোপন সুড়ঙ্গও ব্যবহার করেছে।

সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বিদ্রোহীদের আক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো বিদ্রোহীদের অবস্থানে ৩০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।

তীব্র লড়াই ও বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত দামেস্কে সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আব্বাসিড স্কয়ারে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

সিরিয়ার রাজধানীর অল্প কয়েকটি এলাকা এখনও বিদ্রোহীদের দখলে আছে। এর মধ্যে জোবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে নিকটবর্তী এলাকা।

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত এই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ দুপক্ষের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। এর একদিকে আছে বিদ্রোহী ও কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো এবং অন্যদিকে সরকারি বাহিনী। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলছে।

অবজারভেটরি জানিয়েছে, রাজধানীর বারজেহ, তিশারিন ও কাবুনে সরকারি বাহিনীর আক্রমণের চাপ কমাতেই জোবার এলাকা দিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলমুখি আক্রমণের উদ্যোগ নেয় বিদ্রোহীরা।

গত বুধবার দামেস্কর কেন্দ্রস্থলে মূল আদালতের চত্বরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। এরপর রাজধানীর পশ্চিমাংশের রাববেহ এলাকায় আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জনেরও বেশি আহত হন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে এসব হামলা চালানো হয়।