দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করুন : প্রধানমন্ত্রী

17
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়তে উন্নয়ন অংশীদারদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ মঙ্গলবার ইতালির রোমে স্থানীয় সময় সকালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (আইএফএডি-ইফাদ) ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়তে উন্নয়ন অংশীদারদের আরও উদার হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে হবে। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ফ্রাজিলিটি টু লং টার্ম রেসিলেন্স : ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনোমি।’ এতে সভাপতিত্ব করেন ইফাদ প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট ফাউসন হোউংবো।
শুরুতেই তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় সবাইকে ইফাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতিয়েরেস। এ সময় সংস্থাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে আইএফএডি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
শেখ হাসিনা বলেন, আইএফএডির সহায়তার ও সহযোগিতার মডেলটি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক ভিন্ন। আইএফএডির এই মডেল মানবতায় এখনকার মতে অনাগত দিনগুলোতেও কাজ করে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা স্থাপন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না। গ্রামীণ সামাজিক ও জলবায়ুগত স্থিতিশীলতার উন্নয়নে একটি ব্যাপকভিত্তিক টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদীভাবে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে সুশাসন থাকায় বাংলাদেশ ভাগ্যবান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্কতার সাথে চার বছরের আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধি হিসেব করে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করেছি এবং গত নয় বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনা করে চাহিদা ও প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় করেছি।’
বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা ভঙ্গুরতা কাটিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের সামাজিক ও অর্থনীতির উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করেছি। বিগত নয় বছর ধরে তা বাস্তবায়ন করেছি।
বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, সৌভাগ্যক্রমে উন্নয়ন অংশীদাররা আগ্রহ ও উদারতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন এবং আমরা যৌথভাবে গর্ব করার মতো অগ্রগতি করেছি। আশা করছি, এ ধরনের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ইফাদে’র সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ইফাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বে ইফাদে’র মডেল জাতিসংঘের অন্য সংস্থা ও সংগঠনগুলোর চেয়ে ভিন্ন। আশা করি, মানবকল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় থাকবে।
বৈঠকে পেরুর রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দেশটির কৃষি ও সেচ মন্ত্রী জোসে বার্লি আরিস্টা আর্বিডল উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
বৈঠকে ইফাদে’র পরবর্তী চেয়ারপারসন হিসেবে নেদারল্যান্ডসের হ্যানস হুগারভর্সটকে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী দুই বছর গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৪ সালে বিশ্ব খাদ্য সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত আর্থিক সংস্থা হিসেবে ইফাদ গঠিত হয়। মূলত কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই সংস্থা।