দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনির ‘সন্ধান’

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় লোহার খনির অস্তিত্ব রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা। ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে এ উপজেলার ইসবপুর গ্রাম থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা শেষে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ইসবপুরে ম্যাগনেটাইট (এক ধরনের আকরিক লোহা) খনির সন্ধান মিলেছে। এটিই দেশের প্রথম লোহা খনি। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে হাকিমপুর উপজেলার মুর্শিদপুর গ্রামে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে জরিপ কার্যক্রম চালায় জিএসবি। জরিপে সেখানে ১ হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় মূল্যবান ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া যায়। আর ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতায় পাওয়া যায় চুনাপাথর। এর ওপর ভিত্তি করেই খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত ১৯ এপ্রিল উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়। মুর্শিদপুর থেকে ড্রিলিংয়ের স্থানটি কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জিএসবির ৩০ সদস্যের একটি দল ড্রিলিং করে এ স্থান থেকে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করে। পরে এসব নমুনা পাঠানো হয় জয়পুরহাট বিসিএসআইআরের পরীক্ষাগারে। সেখানে পরীক্ষায় নমুনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লোহা পাওয়া গেছে।

জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ১ হাজার ৩৮০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত ড্রিলিং কার্যক্রম চলাকালে আমরা এখানে খনির অস্তিত্বের বিষয়ে আশার আলো দেখতে পেয়েছিলাম। যেসব নমুনা ভূগর্ভ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোটামুটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এখানে ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতি বেশ ভালো। এখানে যৌগটির পুরুত্ব প্রায় ৩০০ ফুটের বেশি। একই রকম পুরুত্ব যদি আরো পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকে, তাহলে এখানে বড় ধরনের রিজার্ভ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। এ কারণেই এখানে আগ্নেয় শিলায় লৌহ পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এখানে উন্নত মানের লোহার খনি রয়েছে।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দুই মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গতকাল ১৮ জুন, মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, ভূগর্ভের ১ হাজার ৭৫০ ফুট নিচে ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের একটি স্তর পাওয়া গেছে। যা এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।

খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, “বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আকরিকে লোহার শতাংশ ৬৫-এর ওপরে। কানাডা, চীন, ব্রাজিল, সুইডেন ও অষ্ট্রেলিয়ার খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। জয়পুরহাটে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগার থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।”

“খনিটির ব্যাপ্তি ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১ হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে,” যোগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ মাসুম আরও জানান, জিএসবি ২০১৩ সালে ইসবপুর গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুরে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১ হাজার ৩৮০ থেকে দেড় হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে আশার আলো দেখা যায়। এ খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন।

তখন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

এ অঞ্চলটি ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এ সন্ধান পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বের গ্রাম ইসবপুরের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ৪ মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করেছিল জিএসবি।

জিএসবির উপপরিচালক মাসুদ রানা জানান, ৩০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ৩ ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

x

Check Also

এবার পুরান ঢাকায় চালু হচ্ছে চক্রাকার বাস

এমএনএ রিপোর্ট : চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পুরান ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা ...

Scroll Up