দেশের মোবাইল ফোনে ফোর জি সেবা চালু

এমএনএ রিপোর্ট : চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট পরিসেবা বা ফোর জি যুগে প্রবেশ করল দেশের মোবাইল ফোন প্রযুক্তি। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরকে সরকারের পক্ষ থেকে ফোর জি লাইসেন্স হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, টেলিটক, বাংলালিংক ও রবির প্রতিনিধিদের হাতে ওই লাইসেন্স তুলে দেন বিটিআরসির চেয়ার‌ম্যান শাহজাহান মাহমুদ। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের এমডি অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস এবং টেলিটকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী গোলাম কুদ্দুস লাইসেন্স গ্রহণ করেন।
এর পরপরই গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির ফোর জি সেবা চালু হয়ে যায়।
ফোর জি চালু হওয়ায় ইন্টারনেটের গতি অনেক বাড়বে বলে জানাচ্ছেন টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টরা। অপারেটররা বলছে, এই সেবা চালুর মানে হল ‘ইন্টারনেট এক্সপ্রেসওয়েতে’ উঠে যাওয়া। দেশের ইন্টারনেট গ্রাহকরা এখন ধীর গতির ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
গ্রামীনফোন কর্মকর্তারা জানান, এই মুহূর্তে দুটি শহরে ১০০’ সাইটে (বিটিএস) তাদের ফোর জি সেবা চালু রয়েছে। রবির ফোর জি সেবা চালু হয়েছে সাতটি শহরে ১৭৯ সাইটে (বিটিএস) এবং বাংলালিংক ফোর জি সেবা দিচ্ছে চার শহরে ২০০ সাইটে (বিটিএস)।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক লাইসেন্স পেলেও ফোর জি সেবা এখনও চালু করতে পারেনি।
এরআগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্লাবে ফোর জির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ফোর জি তরঙ্গের নিলাম এবং তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা বিক্রি করে পাঁচ হাজার ২৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাচ্ছে সরকার। নিলাম আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।
তিনি জানান, দুই অপারেটর বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন নিলামে অংশ নিয়ে মোট তিন হাজার ৮৪৪ কোটি টাকায় ফোর জি তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে। এছাড়া গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক ও রবির কাছ থেকে টু জি ও থ্রি জি সেবার জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দিয়ে (যাতে ওই তরঙ্গ যে কোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যায়) সরকার আরও ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ০৮ কোটি টাকা পেয়েছে বলেও ওইদিন জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
চারটি ব্লকে ১৮০০ মেগাহার্টজে এবং পাঁচটি ব্লকে ২১০০ মেগাহার্টজের নিলাম হয়। উভয় নিলামে অংশ নিয়ে বাংলালিংক এক হাজার ১১৯ কোটি টাকায় ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং এক হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ১০.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয়।
অন্যদিকে শুধু ১৮০০ মেগাহার্টজের নিলামে অংশ নেওয়া গ্রামীণফোন ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয়।
ফোর জি তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটর আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত নিলামে অংশ নেয় শুধু বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি তাদের হাতে থাকা তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর করে ফোর জি সেবা প্রদান করছে।
তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা পেতে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফোর জি সেবায় আসতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটককে ওই সময়ের মধ্যেই এ সুবিধা নিতে হবে।
আপনার সিমটি ফোরজি কিনা জানবেন যেভাবে :
গ্রাহকের সিমটি ফোরজি কি না তা জানা যাবে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর দেওয়া নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে।
গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীরা *১২১*৩২৩২# ডায়াল করলে ফিরতি এসএমএসে পেয়ে যাবেন তার সিমটি ফোরজি কি না।
রবির গ্রাহকরা *১২৩*৪৪# ডায়েল করলে এবং বাংলালিংকের গ্রাহকেরা মোবাইল ফোন থেকে 4G লিখে ৫০০০ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি ম্যাসেজে ফোরজি সিমের বিষয়ে তথ্য পাবেন।
গ্রাহকের সিমটি যদি ফোরজি না হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে পরিবর্তন করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।