দেশের যে কোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে সেনাবাহিনী : সেনাপ্রধান

এমএনএ রিপোর্ট : দেশের যে কোনো প্রয়োজন-সংকটে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এগিয়ে আসবে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে খেতাবপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বাহিনীর সদস্যদের সংবর্ধনা এবং পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশ-বিদেশে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এখন পর্যন্ত যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানান সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন সাবেক সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন জেনারেল আজিজ।

গত জানুয়ারি থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা সদস্যদের অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সেনাবাহিনী এখন শুধু তার নিজস্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, “সেনাবাহিনী বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও জাতিগঠনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, শৃঙ্খলা আনয়ন এবং তাদের নিবন্ধন কার্যক্রমসহ সব জায়গায় সেনা সদস্যরা কাজের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

“এছাড়া দেশে জঙ্গি দমনে যেমন সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি বিশ্ব শান্তি রক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা আজ প্রশসিংত।”

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর তিনজন বীরশ্রেষ্ঠ-এর নিকট আত্মীয়, তিনজন বীর উত্তম, ১৪ জন বীর বিক্রম ও ২৭ জন বীরপ্রতীককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০১৭-১৮ সালে ‘শান্তিকালীন’ সময়ে বিভিন্ন প্রশংসনীয় ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নয়জনকে ‘অসামান্য সেবা পদক’ এবং ১৯ জনকে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ দেওয়া হয়।

সেনাপ্রধান জানান, দেশে ও বিদেশে সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘শান্তিকালীন পদক’ চালু করা হয়েছে। এবারই প্রথম ‘অসামান্য সেবা পদক’ ও ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ প্রাপ্তদের কেন্দ্রীয়ভাবে পদক দেওয়া হল।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পাওয়া ৪৭ জন মুত্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যের কাছে গিয়ে খোঁজ খবর নেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খেতাপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধকালীন বীরত্বগাঁথা এবং পদকপ্রাপ্তদের প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এদিকে সকালে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের সাগরিকা হলে এক অনুষ্ঠানে বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত ২১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের পরিবার ছাড়াও পাঁচজন বীর উত্তম, সাতজন বীর বিক্রম, আটজন বীর প্রতীককে সম্মাননা দেওয়া হয় বলে আইসিপিআর জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা নৌ সদস্য ছাড়াও অনেকের পরিবারের সদস্যরা এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের পক্ষে তার মেয়ে নুরজাহান বেগম সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া বীর উত্তম আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী, বীর উত্তম মো. জালাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। বীর উত্তম শহীদ আফজাল মিয়ার পক্ষে মরিয়ম আফজাল সম্মাননা গ্রহণ করেন।

x

Check Also

আজ বুধবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার। নতুন সূর্যালোকে আজ বুধবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up