দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি

40

এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর দেওয়া তথ্য মতে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এমন তথ্য দিয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিলে। এর এক মাস পরেই তা এসে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজারে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহক সংখ্যা প্রকাশ করেছিল বিটিআরসি। ওই তথ্য অনুযায়ী, তখন কার্যকর ইন্টারনেট সংযোগ ছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের পর হঠাৎ করে কমে গিয়েছিল মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। গত এপ্রিলে কার্যকর ইন্টারনেট সংযোগ ছিল ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬৯। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের তথ্য প্রকাশ না করলেও অপারেটরগুলো বিটিআরসির কাছে যে পরিসংখ্যান জমা দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত রয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ সিম। তবে সেখানে থ্রিজি বা টুজি বিষয়ে আলাদা তথ্য নেই।

গত এপ্রিল মাসের হিসেবে এই মাইলফলক পার করেছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সংস্থাটির হিসেবে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ৭ কোটি ৮০ লাখ এবং মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৫০ লাখ। এই ৭ কোটি গ্রাহকদের মধ্যে ৯৩.৬৯ শতাংশ গ্রাহক মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এছাড়া ৬.১৭ শতাংশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) এবং ০.১৪ শতাংশ গ্রাহক ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের গ্রাহক।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে গ্রামীণফোনের মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ২ কোটি ৯৬ লাখ, রবি ও এয়ারটেলের ২ কোটি ১৮ লাখ, বাংলালিংকের ১ কোটি ৫৫ লাখ এবং টেলিটকের ৪ লাখ ৪৮ হাজার।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) থেকে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে গ্রাহকরা সংযোগ নিয়েছেন ৪৪ লাখ ৪০ হাজার। আর আরও এক লাখ চার হাজার ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে তিনটি ওয়াইম্যাক্স অপারেটর ও রাষ্ট্রায়ত্ত ল্যান্ডফোন কোম্পানি বিটিসিএলের মাধ্যমে। দেশের মোট সংযোগের বিপরীতে প্রায় চারশ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে।

দেশে বিদ্যমান ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলা লায়নের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫৫১ জন এবং ওপর ওয়াইম্যাক্স অপারেটর কিউবির মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৫৯ জন। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১ হাজার ২১ জন।

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটররা। তারা বলছে ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা হয়ে উঠেছে এবং ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর পর থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর গ্রোথও ভালো।

সম্প্রতি দেশের শীর্ষ তিন মোবাইল ফোন অপারেটরের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে দেশে ডাটা ইউজেসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অপারেটররা বলছে, ডাটার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও ইউনিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চোখে পড়ার মত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দেশে তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

এদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, বিশ্বের খুব অল্প দেশই আছে এই বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। দেশে এখন ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের পরিমাণ ৪৪.৪৩ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে দেশে ৬ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মাইলস্টোন পার করে গত বছরের আগস্টে। ৫ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক হয়েছিল ২০১৫ সালের আগস্টে এবং ৪ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। উল্লেখ্য, বিটিআরসি আগে প্রতিমাসে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট গ্রাহকের পরিসংখ্যান তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলেও সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো নতুন আপডেট প্রকাশ করেনি।