দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রানের জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ৭১৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। যেখানে লিড দাঁড়িয়েছে বরাবর ২০০। ইতোমধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এর আগে সফরকারীদের প্রথম ইনিংসে চতুর্থ দিন তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন রোশেন সিলভা। তবে ২৩০ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৯ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। লিটন দাশের ক্যাচে পরিণত করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এ স্পিনার। চতুর্থ উইকেট জুটির ১৩৫ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে তাইজুল ইসলামের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি (৮৭)। ১৮৫ বলে তিনটি চারের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান চান্দিমাল। আর দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল।
মেহেদি হাসান মিরাজের তৃতীয় শিকারে মাঠ ছাড়েন নিরোশান দিকভেলা। ৬১ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬২ রান করে উইকেটরক্ষক লিটন দাশকে ক্যাচ দেন তিনি।
ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটটি পেতে বেশ কষ্টই করতে হলো সানজামুল ইসলামকে। ১৪৪ রানের বিনিময়ে অভিষেকে প্রথম উইকেট নিয়ে লজ্জার রেকর্ড থেকে বাঁচলেন এ বাঁহাতি। ৩২ রানে থাকা দিলরুয়ান পেরেরাকে এলবির ফাঁদে ফেলেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে দুবাই টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে ১৬৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পাওয়া ইংল্যান্ড স্পিনার আদিল রশিদ সেই বাজে রেকর্ডের মালিক।
দ্বিতীয় সেশন থেকে ফিরেই সুরাঙ্গা লাকমালকে (৯) বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম।পরের ওভারে ২৪ রানে থাকা রঙ্গনা হেরাথকে এলবির ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি এ স্পিনারের ব্যক্তিগত চতুর্থ উইকেট তুলে নেন।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রানের জবাবে সফরকারীরা তৃতীয় দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ৫০৪ রান করে।
তৃতীয় দিন লঙ্কান দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান কুশাল মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা তাদের ক্যারিয়ার সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেন। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন মেন্ডিস (১৯৬)। আর ১৭৩ করেন ডি সিলভা।
গতকাল স্বাগতিক বোলারদের এই দুটি সাফল্যই ছিল। কেননা পরের দুই ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভা ও অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রোশেন (৮৭)। চান্দিমাল ছিলেন ৩৭ রানে।
লঙ্কান ব্যাটিং দৃঢ়তায় কিছুটা ঢাকা পড়ে যায় প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের কীর্তি। যেখানে মুমিনুল হক ১৭৬ রানে বীরোচিত এক ইনিংস খেলেছিলেন।
বাংলাদেশ একাদশ : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
শ্রীলংকা একাদশ : দিনেশ চান্ডিমাল (অধিনায়ক), দিমুথ করুনারত্নে, ধনানঞ্জয়া ডি সিলভা, কুসল মেন্ডিজ, নিরোশান ডিকবেলা, রোশান সিলভা, দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ, সুরঙ্গ লাকমাল, লক্ষন সান্দাকান ও লাহিরু কুমারা
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস : ১৯৯.৩ ওভারে ৭১৩/৯ ডিক্লে. (করুনারত্নে ০, মেন্ডিস ১৯৬, ধনঞ্জয়া ১৭৩, রোশেন ১০৯, চান্দিমাল ৮৭, ডিকভেলা ৬২, দিলরুয়ান ৩২, হেরাথ ২৪, লাকমল ৯, কুমারা ২*; মুস্তাফিজ ৩২-৬-১১৩-১, সানজামুল ৪৫-২-১৫৩-১, মিরাজ ৪৯-০-১৭৪-৩, তাইজুল ৬৭.৩-১৩-২১৯-৪, মোসাদ্দেক ৩-০-২৪-০, মুমিনুল ২-০-৬-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : (প্রথম দিন ৩৭৪/৪) ১২৯.৫ ওভারে ৫১৩ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৩*, মোসাদ্দেক ৮, মিরাজ ২০, সানজামুল ২৪, তাইজুল ১, মুস্তাফিজ ৮; লাকমল ২৩.৫-৪-৬৮-৩, কুমারা ১৫-১-৭৯-০, দিলরুয়ান ২৭-৪-১১২-১, হেরাথ ৩৭-২-১৫০-৩, সান্দাকান ২২৩-১-৯২-২, ধনঞ্জয়া ৫-০-১২-০)