ধনকুবেরদের মেলা যে দেশে

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ। শুধু ক্ষমতাধর দেশই নয়, এ দেশে রয়েছে ধনকুবেরদের মেলা। দেশটি ব্যবসা-বাণিজ্যেও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে। দেশটি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার, ই-মার্কেট ও টেকনোলজি ব্যবসা শক্তিশালী বলেই ধনকুবেরদের মেলা ওই দেশে। গত এক দশকে মার্কিন অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্থ ৫ জন ধনীর কাজ ও সম্পদের মূল্যায়ন করেছে।

বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস হচ্ছেন পৃথিবীর শীর্ষ ধনী। ৬১ বছর বয়সে এসে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাইক্রোসফটের মাধ্যমে বিল গেটস গোটা বিশ্বের চেহারাই বদলে দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও তার বন্ধু মিলে তৈরি করেন মাইক্রোসফট নামে সফটওয়্যার কোম্পানি। মাইক্রোসফট শুরুর দিকে অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করত না। তাদের প্রথম পণ্য ছিল ‘মাইক্রোসফট বেসিক’ নামক প্রোগ্রামিং ভাষা। অ্যাপল ২ এবং কমোডোর ৬৪- ইত্যাদি জনপ্রিয় কম্পিউটারে এই প্রোগ্রামিং ভাষাটি ব্যবহূত হয়।

১৯৮০ সালে আইবিএমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে মাইক্রোসফট। উত্তরাধিকারী কোনো সম্পদ ছাড়াই বিল গেটস নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমে ৩১ বছর বয়সেই বিলিয়নিয়ার হন। এখন তিনি যদি প্রতিদিন ১০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করেন তবে তার সম্পদ শেষ হতে ২১৮ বছর লেগে যাবে। শুধু মুনাফা থেকেই বিল গেটস প্রতিদিন আয় করেন ১১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম লাখ কোটিপতি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব। এ সময়ে বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ ছাড়াবে এক ট্রিলিয়ন ডলার (১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি)।

জেফ বেজোস

মাত্র এক দিনের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ২৭ জুলাই ২০১৭ অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে গেলে তার সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটসের থেকেও তার সম্পদ বেশি ছিল ১.৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এক দিন পর দুজনই আগের অবস্থানে ফিরে যান। বিজনেস ইনসাইডারের মার্চ মাসে করা এই রিপোর্ট অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ৭৩.১ বিলিয়ন হলেও জুলাইয়ে দাঁড়ায় ৮৪.৭ বিলিয়ন ডলারে।

মার্ক জাকারবার্গ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও ফেসবুকের মতো হু-হু করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। শুধু জনপ্রিয়তাই নয় বেড়েছে সম্পদের পরিমাণ। তিনি একজন আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার।

২০০৪ সালে কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। কলেজে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ফেসবুকের পেছনে সময় দেওয়া ছিল ১৯ বছর বয়সী এই ছেলেটির কাছে নেশার মতো। মার্ক জুকারবার্গ এখন বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৫৮.৫ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হন।

ওয়ারেন বাফেট

দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই টাকা-পয়সা রোজগারের দিকে ঝুঁকেছিলেন তিনি। কাজ করেছেন দাদার মুদি দোকানে। স্কুলপড়ুয়া এই বালক কোমল পানীয় বিক্রি করেছেন, ম্যাগাজিন বিক্রি করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেছেন চুইংগাম, চকলেট। এই হকার বালকটিই অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তিনি ওয়ারেন বাফেট।

এই মার্কিন ব্যবসায়ী এখন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। ৮৬ বছর বয়সী বাফেটের এখন মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার ব্যবসা ছড়িয়ে আছে নানা দিকে। বিভিন্ন ব্যবসার শেয়ার কিনে সম্পদের প্রাচুর্যে তিনি নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। ১১ বছর বয়সেই তিনি শেয়ার কিনেছিলেন। এই ধনকুবের আমেরিকার রাজনীতিতেও বেশ প্রভাব রাখেন।

চার্লস কোচ ও ডেভিড কোচ ব্যবসায়ী দুই ভাই

চার্লস কোচ ও ডেভিড কোচ আমেরিকান শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী। বড় ভাই চার্লস কোচের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ নভেম্বর। কোচ ইন্ডাস্ট্রির সহ-মালিক এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ৮২ বছরের চার্লস কোচ। দানবীর হিসেবে ডেভিড কোচের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। লিঙ্কন সেন্টার, নিউইয়র্ক প্রেসব্রাইটান হাসপাতাল, আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিসহ তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের তহবিল জোগান। অন্যদিকে তার সহোদর ডেভিড কোচ কোম্পানিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ মে।

দুই ভাইয়ের জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিতা শহর। ৭৭ বছরের ডেভিড কোচও ভাইয়ের মতো দাপুটে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তিনিও মানবমিত্র, রাজনৈতিক কর্মী এবং একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের খনি, জ্বালানি ও রাসায়নিক খাতে কনসালট্যান্টভিত্তিক কোচ শিল্প গোষ্ঠীটির দুই হোতা। কোম্পানির বর্তমান মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলার। চার্লস ও ডেভিড উভয়ে কোম্পানির ৮৪% মালিকানার স্বত্বাধিকারী। ফলে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭.৯ বিলিয়নের মতো।

x

Check Also

টাকার মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি কতটা?

এমএনএ রিপোর্ট : ব্যাংক নোট বা টাকায় নানা ধরণের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া নতুন নয়।  ...

Scroll Up
%d bloggers like this: