নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গ ধর্ষণের শামিল

41
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নাবালিকা (১৮ বছরের কম বয়সের) স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গ ধর্ষণের শামিল। আর এ কারণেই তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
আজ বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মদন বি লকুর ও বিচারপতি দীপক গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় দেন। আদালত বলেছেন, ১৮ বছরের কম বয়সী নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর শারীরিক সংসর্গ ধর্ষণের মতো অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবে। তবে আজ ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ নিয়ে কোনো রায় দেননি দেশটির শীর্ষ আদালত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় বলা হয়েছে, ভারতীয় আইনের ৩৭৫ ধারায় ১৮ বছরের কম বয়সী স্ত্রীর সম্মতিতে শারীরিক সংসর্গ স্থাপনে পুরুষের ছাড় ছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই ধারা বাতিলের জন্য একটি পিটিশন দাখিল করে শীর্ষ আদালতে। ওই আবেদনের ওপর আজ এ রায় দেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মদন বি লকুরের বেঞ্চ এ দিন ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয়, নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক সব সময়ই ধর্ষণ। কারণ, এতে নাবালিকার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।
আদালত বলেছে, সেখানে বলা হয়, ধর্ষণের আইনে ওই ছাড় দেওয়া বৈষম্যমূলক, মেয়ে শিশুদের জন্য শারীরিকভাবে মর্যাদাহানিকর এবং অসাংবিধানিক। কোনও ব্যক্তি যদি তার ১৮ বছরের কম বয়সের স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে তবে তা অপরাধ। নাবালিকা স্ত্রী এক বছরের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।
সু্প্রিম কোর্ট বাল্য বিবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আইনগুলো প্রণয়ন করা হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী সেগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সরকার এ মামলার শুনানিতে যুক্তি দিয়েছিল, বিয়ের বয়স নিয়ে আইন থাকলেও ভারতে বাল্যবিয়ে একটি বাস্তবতা এবং যাদের বিয়ে হয়ে গেছে, সেটা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আদালত সরকারের ওই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বাল্যবিয়ে বন্ধে আরও উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ভারতের ২ কোটি ৩০ লাখ বালিকা বধূর অধিকারের প্রশ্নেই সায় দিল আদালত।
ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে যারা বিবাহিত, তাদের ৪৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগেই।