নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের টার্গেট দিল টাইগাররা

60

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ।

দারুণ শুরুর পর ছন্দপতন। ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতে ফের উইকেট পতনের মিছিল। ইনিংস মেরামতের পর শেষ দিকে আবার ধস। সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফসেঞ্চুরি এবং মোসাদ্দেক হোসেনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং সত্ত্বেও ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের মাঝারি মানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছে মাশরাফির দল।

আজ বুধবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ক্লনটার্ফ ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার সৌম্য এবং মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা সত্ত্বেও শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রানে আটকে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য ৬৭ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। এছাড়া মুশফিক ৫৫, মাহমুদউল্লাহ ৫১ ও মোসাদ্দেক করেন ৪১ রান। তামিম ২৩ রান করলেও সাকিব (৬) ও সাব্বির (১) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হামিশ বেনেট। দুটি করে উইকেট নেন জেমস নিশাম ও ইশ সোধি। মিচেল স্যান্টনার নেন একটি উইকেট।

উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ও সৌম্য মিলে ৭৭ রান তোলে দারুণ কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ২ রানের ব্যবধানে তামিম ও সাব্বিরের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। ইনিংসের ১৬তম ওভারে জেমস নিশামের বলে কলিন মানরোর তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল। ৪২ বলে ব্যক্তিগত ২৩ রান করেন এই ওপেনিং ব্যাটসম্যান।

পরের ওভারেই মিচেল স্যান্টনারের (১৭তম ওভারের) চতুর্থ বলে বোল্ড হন সাব্বির রহমান। তিনি ৪ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলেন ৩৮ রানের জুটি গড়া সৌম্য-মুশফিক। তবে সৌম্য সরকারের অনবদ্য ফিফটি ও মুশফিকুর রহিমের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় মাশরাফি বাহিনী। তবে দলীয় ১১৭ রানের মাথায় বল আকাশে তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সৌম্য। সাজঘরের ফেরার আগে নিজের নামের পাশে ৬১ রান যোগ করেন তিনি। এর জন্য সৌম্যকে খেলতে হয়েছে ৬৭ বল। এর মধ্যে ৫টি চারের মার থাকলেও কোনো ছক্কা মারতে পারেননি তিনি। কিছুক্ষণ পরে ইস সৌদির বলে তুলে মারতে গিয়ে মিড-অফে জিমি নিশামকে ক্যাচ দিয়ে অনেকটা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফিরে যান সাকিব আল হাসান। প্যাভিলনে ফেরার আগে ১৪ বল খেলে মাত্র ৬ রান করেন সাকিব। ফলে ফের চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ দল।

চাপের মুখে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন। কিন্তু অর্ধশতক করার পর পরই আউট হন মুশফিক। ৬৬ বল খেলে ৫৫ রান করেন বাংলাদেশি উইকেটকিপার। এর মধ্যে ৪টি চার ও ১টি ছয়ের মার রয়েছে। মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ৬১ রানের জুটি গড়লে মজবুত ভিত পায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লার ৫৬ বলে ৫১ আর মোসাদ্দেকের ৪১ বলে ৪১ রানের সুবাদে টাইগারদের স্কোর আড়াইশ পার হয়। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে ২৫৭ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ ১৭ বলে মাত্র ১৫ রান করতে সক্ষম হয় টাইগাররা; হারায় ৪ উইকেট।

কিউইদের হয়ে হামিশ বেনেট ৩১ রানে ৩টি উইকেট নেন। আর ২টি করে উইকেট পান জেমস নিশাম আর ইস সোধি। বাকি উইকেটটি নেন স্যান্টনার।

এর আগে আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাশরাফি ছিলেন না। তবে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। যেহেতু এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অধিনায়ক ফিরছেন, দলের একজনকে একাদশের বাইরে যেতেই হতো। তাসকিন আহমেদ একাদশের বাইরে আজ সে কারণেই।

স্লো-ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ছিলেন মাশরাফি। যে কারণে শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। নিষেধাজ্ঞা শেষে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়ক হয়েই ফিরেছেন মাশরাফি।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাশরাফি ছিলেন না। তবে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ওয়ানডে ম্যাচে এখনো কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই হতাশা কাটানোর লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে মাশরাফির দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রতিটি দল একে অন্যের বিপক্ষে দুবার করে লড়বে। তিন জাতি সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সামনে রেখে ২৫ মে ইংল্যান্ডের বিমান ধরবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। গ্রুপে মাশরাফিদের অপর দুই প্রতিপক্ষ হলো অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ

লুক রঞ্চি, টম লাথাম, জর্জ ওয়ার্কার, রস টেইলর, নেইল ব্রুম, নিশাম, মানরো, হামিশ বেন্নেত, স্যান্টনার, স্যাথ রেঞ্চ, ইস সৌদি।