নিরাপত্তার কারণে জনবিচ্ছিন্ন করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

33

এমএনএ রিপোর্ট : নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে জনগণের কাছ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না যান, সে ব্যাপারে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি জনগণই সব ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী এসএসএফকে উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের সেবা দেওয়া সম্ভব না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আপনাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সরকারের সব কাজ জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণের ইচ্ছা ও নিজেদের দায়িত্ব পালনে সমন্বয়ের জন্য তিনি এসএসএফের প্রতি আহ্বান জানান।

জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনীতি- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরকে যদি জনগণ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়..ওই যে বলে না জলের মাছ যদি ডাঙায় ফেলা হয়, মাছ যেমন দাপিয়ে দাপিয়ে মরে যায় আমাদের অবস্থা সে রকম হবে।

মানুষের সাথে না থাকতে পারলে, মানুষকে না দেখতে পারলে আমাদের বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা থাকে না।

১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে বার বার প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

হত্যার জন্য নিজের ওপর বার বার আঘাত আসার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তবে নিজের জন্য তিনি কখনো চিন্তা করেন না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রতিদিন দেশবাসী, নিজের সন্তান ও তার সঙ্গে যারা থাকে, বিশেষ করে নিরাপত্তার দায়িত্বে, তাদের জন্য দোয়া করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভিআইপিদের সঙ্গে জনগণের স্বাভাবিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে যেন তাঁদের কোনো দূরত্ব তৈরি না হয়। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই ভিআইপিদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নিয়মানুবর্তী, সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে হবে।

বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান; যারা বাংলাদেশ সফরে আসেন তাদের কাছে এসএসএফ সদস্যদের প্রশংসা শুনে নিজের গর্বের কথা জানিয়ে বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শফিকুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।

উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।