নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে নাখোশ মিয়ানমার

43
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের সভাপতির এক বিবৃতিতে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিবৃতির জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরিষদের কার্যালয়ের পাল্টাবিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি দিয়েছে, মিয়ানমার তা দেখেছে। তারা মনে করছে, এ বিবৃতি বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
আজ বুধবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির এ বিবৃতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান আলোচনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত নিরসন ও পরিস্থিতির উন্নয়নে মিয়ানমারের প্রচেষ্টার বিষয়টি আংশিক উঠে এসেছে।
সু চি তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জোরালো অবস্থান নেওয়া রাষ্ট্রগুলোকে সাধুবাদ জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এখন বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধান করতে পারে। সভাপতির বিবৃতিতে ওই বিষয়ের গুরুত্ব এড়ানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ ঘনিষ্ঠ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর মিয়ানমারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর ওই সফরে সন্তোষজনক চুক্তিতে পৌঁছানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে নির্ঝঞ্ঝাটে দ্রুতগতিতে যে আলোচনা চলছে, ওই বিবৃতিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর বৈঠকে বসেছিলেন। তাঁরা চুক্তিতে পৌঁছেছেন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজে সই করেছেন, যা ইতিবাচকভাবে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে বলা হয়- রাখাইন রাজ্যে যাতে সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা হয়, মিয়ানমার সরকারের প্রতি সেই আহ্বান জানাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।
সেই সঙ্গে রাখাইনে বেসামরিক প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ও দায় পূরণে মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
এর জবাবে বুধবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান আলোচনার জন্য ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’ হতে পারে।
বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, মানবিক কারণে আপাতত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ সমস্যার পেছনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই; সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে নিহিত।
আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়েই গত ৩১ অক্টোরব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেরির জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরের মহা পরিচালক জ তাই।
তবে এ মাসের শুরুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে এসে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা মিয়ানমার সরকারেরই দায়িত্ব।
আর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) এক সর্বসম্মত প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বহুপক্ষীয় উদ্যোগের বিরোধিতায় সু চি তার বিবৃতিতে বলেছেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের আলোচনা ‘মসৃণভাবে ও প্রত্যাশা অনুযায়ীই’ চলছে।