নির্বাচনী সহিংসতায় নয়জন নিহত

এমএনএ রিপোর্ট : পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আজ শনিবার নির্বাচনী সহিংসতায় জামালপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় এক চেয়াম্যান প্রার্থীসহ নয়জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে জামালপুরে এক কিশোরসহ চারজন, নোয়াখালীতে দুইজন, চট্টগ্রামে এক সদস্য প্রার্থীসহ দুইজন ও কুমিল্লায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু হয়।

এ সময় ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে।

UP-Poll-14কুমিল্লা : কুমিল্লার তিতাসে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নাগেরছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

জামালপুর : জেলার দেওয়ানগঞ্জে দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত ও দুই পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবেরচর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৫), একই গ্রামের আজমত আলীর ছেলে নবীরুল ইসলাম (১৬), শেখপাড়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে মাজেদ আলী (১৫) ও একই গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫)।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন মো. ইয়াসিন (৪২) এবং অন্যজন বাবুল শীল। পটিয়া উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াসিন ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এবং বাবুল শীল দুই সদস্য প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় মো. ইয়াসিনকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

UP-Poll-8নোয়াখালী : জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সৈয়দ আহমদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। উপজেলার ৬ নম্বর রাজগঞ্জ ইউনিয়নে কেন্দ্র দখলের সময় সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় আহত উত্তর জিরতলী গ্রামের মিলন ড্রাইভারের ছেলে শাকিল (১৭) বিকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

পঞ্চম ধাপের এ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩২৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪২ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ১৫টি রাজনৈতিক দলের ১৭২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ১৫২২ জন প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থী আছে ৭২৬ ইউপিতে, ৬২৯ ইউপিতে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ১৭৭টি, জাসদ ২১টি, বিকল্পধারা ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩টি, ইসলামী আন্দোলন ১২২টি, জেপি ২টি, ইসলামী ফ্রন্ট ১১টি, এলডিপি ৬টি, সিপিবি ৫টি, জেএসডি ১টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৭টি এবং অপর একটি দল ১ ইউপিতে প্রার্থী দিয়েছে।

x

Check Also

কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পাঁচটি মোবাইল ফোন!

এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : আধুনিক যুগে মুঠোফোন ছাড়া মানুষ প্রায় অচল।কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই মুঠোফোন হয়ে ...

Scroll Up