নুসরাত হত্যার আসামি শামীম ৫ দিনের রিমান্ডে

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : ফেনীতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তার সহপাঠী মোহাম্মদ শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

এছাড়া এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদ শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

তিনি বলেন, আসামি নূর উদ্দিন ও আবদুর রহিম শরিফের স্বীকারোক্তিতে নুসরাতের সহপাঠী মোহাম্মদ শামীমের নাম এসেছে।

“তাকে রিমান্ডে নিলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।”

শামীম সোনাগাজী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে।

তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলাম বলেন, এছাড়া এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে গতকাল বুধবার রাতে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, আজ বৃহস্পতিবার আবদুল কাদেরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ মামলায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১২ জন রিমান্ডে রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ।

মামলা আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, সহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

এদিকে এ হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন করেছে একাধিক সংগঠন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে এনসিটিএফ নামে একটি সংগঠন ও ফেনী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন শহরের শান্তি কোম্পানি সড়ক এলাকায়। মহিপাল সরকারি করেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মহিপাল এলাকায়।

এ সময় ওইসব সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নুসরাত হত্যায় জড়িত সবার বিচার দাবি করেছেন।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদ্রাসায় একদল তরুণ-তরুণী তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে হত্যার জন্য আগুন দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

x

Check Also

যে অডিও রেকর্ডের কারণে ফেঁসে যান তুরিন আফরোজ

এমএনএ রিপোর্ট : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ওয়াহিদুল হকের মোবাইল ফোনে থাকা দুই অডিও রেকর্ডের ...

Scroll Up