নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশতবার্ষিকী আজ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশতবার্ষিকী আজ ১৮ জুলাই বুধবার। আজ থেকে একশ’ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা ম্যান্ডেলা। তিনি মানুষকে পথ দেখিয়েছিলেন শান্তি ও স্বাধীনতার। খবর ফার্স্টপোস্ট ও হেরাল্ড সান’র

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে সারা বিশ্বে। জাতিসংঘ ঘোষিত নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস আজ। বাংলাদেশেও ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জোহান্সবার্গে এক বিশাল র‌্যালির আয়োজন করা হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

দক্ষিণ আফ্রিকার জাতির জনক ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তার নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহলা ডালিভুঙ্গা ম্যান্ডেলা। স্কুলের এক শিক্ষক তার ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি ‘মাদিবা’ নামে পরিচিত।

ম্যান্ডেলার নব্বই বছরের জীবনকালের দীর্ঘ ২৭ বছর কেটেছে কুখ্যাত রবেন দ্বীপের কারাগারে। অথচ কারাগার থেকে বেরিয়ে সেই ম্যান্ডেলা শ্বেতাঙ্গদের ক্ষমা করে দেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে তিনি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার দিকে নজর দেন।

১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন। এরপর তিনি তার দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। এর ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তার গোত্রের দেয়া মাদিবা নামে পরিচিত।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোর সংগ্রাম তাকে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের বিশেষ দূত হিসেবে পরিচিতি এনে দেয় এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

নেলসন ম্যান্ডেলার শততমবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বিশ্বের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করবেন। জাতিসংঘ এই দিনটিকে নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মৃত্যুর পরেও বিশ্বের মানুষের মনে এখনও অমর হয়ে আছেন এই বিদ্রোহী নেতা। ম্যান্ডেলা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিজওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখেননি, প্রথম কার্যকালের শেষেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অবসর নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অবদান রাখার জন্য ম্যান্ডেলা এবং রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ককে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৯৩ সালে।

এছাড়া গত চার দশকে ম্যান্ডেলা পেয়েছেন আড়াইশ’র বেশি পুরস্কার। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি নেতাকে সম্মান জানিয়ে ২০১০ সালে জাতিসংঘ ১৮ জুলাইকে ম্যান্ডেলা দিবস ঘোষণা করে। দক্ষিণ আফ্রিকার হাউটন রাজ্যের জোহান্সবার্গে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান কিংবদন্তিদের কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা।

x

Check Also

এবার পুরান ঢাকায় চালু হচ্ছে চক্রাকার বাস

এমএনএ রিপোর্ট : চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পুরান ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা ...

Scroll Up