পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন হাথুরুসিংহে!

40
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশের সঙ্গে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ভবিষ্যৎ পেন্ডুলামের মতো দুলছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রধান কোচ।
বিসিবি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবে না, নাকি বিদায় নেবেন হাথুরুসিংহে- এখন সেই অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। এ ব্যাপারে হাথুরুসিংহে কিংবা বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও তারা বিষয়টি প্রত্যাখ্যানও করছেন না বলে খবর ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো’র।
আবার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা দলের কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন হাথুরু। ৩১ জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন বলে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেই দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্যও হয়তো বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য পদত্যাগ করে থাকতে পারেন।
যদিও এ বিষয়ে বিসিবি থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পদত্যাগ পত্র পেয়েছে কি পায়নি, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্বশীল সূত্র কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বলছেন না।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস অবশ্য পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা অস্বীকারই করেছেন, ‘আমরা এখনো হাথুরুসিংহের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র বা এ জাতীয় কিছু পাইনি। সে জন্য আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করব।’
অর্থাৎ হাথুরুসিংহেকে দেশে ফেরাতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে, সেটার শক্ত ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। কিন্তু হাথুরুসিংহে তার বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। গত বছরের অক্টোবরে পদত্যাগপত্র প্রায় জমা দিয়েই ফেলেছিলেন লঙ্কান কোচ, যদিও সেই সিদ্ধান্ত থেকে তাকে সরিয়ে আনতে সফল হয় বোর্ড।
তবে গত জুনে গ্রাহাম ফোর্ড পদত্যাগ করলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) তাদের নতুন কোচের পদ পূরণে হাথুরুসিংহের দ্বারস্থ হয়। গত তিন মাস ধরে নাকি তাকে রাজি করাতে চেষ্টা চালাচ্ছে এসএলসি। প্রথমদিকে হাথুরুসিংহে দোটানার মধ্যে ছিলেন। তবে এখন নাকি নিজ দেশের ক্রিকেটে ফিরতে রাজি হয়েছেন বলে খবর ক্রিকইনফোর।
কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, বিসিবির মতোই বেতন তাকে দিতে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কান বোর্ড। এছাড়া দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহযোগী থিলান সামারাবিরাকে কয়েকদিন আগে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এসএলসি। তাছাড়া নিজ দেশে কাজ করার মতো স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও হয়তো আমলে নিচ্ছেন হাথুরুসিংহে।

তবে বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তির শর্তগুলোও উঠে আসছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টিতে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন হাথুরুসিংহে। ওই শর্ত অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার এক মাস আগে বিষয়টি বিসিবিকে জানাতে হবে তাকে। তাই এখনই তিনি বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন কিনা, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।
গত বছর অক্টোবরেও একবার বাংলাদেশ দলের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার চেষ্টা করেছিলেন হাথুরুসিংহে। যদিও তখন বিসিবি তাকে ছাড়তে চায়নি। তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে, তাকে যে কোনোভাবেই হোক বুঝিয়ে-সুজিয়ে আবার স্বপদে রেখে দিয়েছে। প্রসঙ্গতঃ আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তি রয়েছে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়াছাড়ির বিষয় আসলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এক মাস আগে নোটিশ দিতে হবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান কোচ হিসেবে হাথুরু দায়িত্ব নিতে পারেন, এই গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল। গত জুনে যখন লঙ্কান ক্রিকেটের প্রধান কোচ থেকে গ্রাহাম ফোর্ড দায়িত্ব ছেড়ে দেন, এরপর থেকেই নতুন একজন কোচের সন্ধানে ছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। স্বদেশি হাথুরুসিংহকেই প্রধান কোচ হিসেবে চাচ্ছিল তারা। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দেয়ার কারণে শ্রীলঙ্কার কাছে হাথুরুর চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছে। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যদি হাথুরুকে রাজি করাতে সক্ষম হয়, তাহলে এবার হয়তো বা আর বিসিবি তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পারবে না। তারওপর, হাথুরুর কোচিংমেট, বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা থিলান সামারাবিরাকেও ইতিমধ্যে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
হাথুরুসিংহের অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট সোনালী সময় অতিক্রম করছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজটি বেশ বাজেভাবে কাটে টাইগারদের। হাথুরুর অধীনেই বিশ্ব ক্রিকেটে পাকা আসন করে নিয়েছে টিম বাংলাদেশ। বিশেষ করে ওয়ানডেতে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা।
২০১৪ সালের মে মাসে চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তার সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এরই মধ্যে হাথুরুর অধীনে ঈর্ষণীয় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের শেষ ভাগে এসে জিম্বাবুয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা থেকে শুরু। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মত দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা, ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
শুধু তাই নয়, শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে টেস্ট জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল- এসবই ছিল কোচ হিসেবে বাংলাদেশকে দেয়া হাথুরুর সাফল্য। এছাড়া ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে হাথুরুর অধীনেই বাংলাদেশ সাত নম্বরে উঠে আসে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে তো ৬ নম্বরেও উঠেছিল। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নতুন করে হাথুরুর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে বিসিবি। যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপের পর।