পিলখানা হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন

এমএনএ রিপোর্ট : চাঞ্চল্যকর পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের করা আপিলের ওপর যেকোনো দিন রায় দেবেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন ও আপিল শুনানি শুরুর পর মোট ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন- মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত বিডিআর বিদ্রোহের ভিডিও ফুটেজ হাইকোর্টে প্রদর্শিত হয়। তিন কার্যদিবস ধরে আদালতে এই ভিডিও প্রদর্শন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

একই দিন সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে নিন্ম আদালতে এ মামলায় যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং খালাসপ্রাপ্ত সব আসামির বিরুদ্ধে আরও তিনটি আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

পিলখানা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ওই বছরের জানুয়ারি মাসে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

ওই ঘটনার পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই হত্যা মামলার যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলার ৮৫০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কারো কারো সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা সবাই বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। যাবজ্জীন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন।

ওই রায়ের এক বছরেরও বেশি সময় পর ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করে আসামিপক্ষ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষও খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে ও সাজা বাড়াতে আপিল করে।

এর মধ্যে পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

x

Check Also

জামিন নামঞ্জুর কারাগারে ক্যাসিনো সম্রাট

এমএনএ রিপোর্ট : ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ...

Scroll Up