পুলিশের ভাবমূর্তি জনবান্ধবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন

পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা চিরচরিতভাবেই খুব একটা ভালো না। তাই ‘বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা’—এ রকম নেতিবাচক অনেক কথারই প্রচলন রয়েছে সমাজে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত থাকার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় এই বাহিনীর ভাবমূর্তি আজ সংকটের দোড়গোড়ায়। এ অবস্থায় পুলিশের ভাবমূর্তি জনবান্ধবমুখি করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

S I Masud, Mohammadpur Thana

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণা আরো খারাপ হয়েছে, পুলিশের অপরাধপ্রবণতায় নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, নষ্ট রাজনীতি পুলিশকে আরো বেশি কলুষিত করেছে। তা সত্ত্বেও এই বাহিনীর সবাই খারাপ—এমন সরলীকরণ করা হলে তা হবে অন্যায়। এই বাহিনীতেই এখনো এমন অনেক সদস্য আছেন, যাঁরা প্রকৃত অর্থেই নিবেদিতপ্রাণ। বহু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আসলে ‘খারাপটা’ ছড়ায় বেশি। তাই এই বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্যের উগ্র আচরণ, অপরাধপ্রবণতা পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বেশি করে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিষয়টি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপলব্ধি করছেন। তাই বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনী নিয়োগ করে মন্দ পুলিশ সদস্যদের খোঁজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানোরও চিন্তাভাবনা চলছে। অনেক আগেই এই প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু করা উচিত ছিল। কারণ দিন দিন বাহিনীর কলেবর বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আন্তবাহিনী গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়মিত ও জোরদার করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

Police

পুলিশ বাহিনীর ওপর নষ্ট রাজনীতির কুপ্রভাব অনেক আগে থেকেই পড়তে শুরু করেছে। নিয়োগ-পদোন্নতিসহ অনেক ক্ষেত্রেই দলীয়করণের অভিযোগ আছে। পুলিশ বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনীতে রূপান্তরের অভিযোগও করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অপরাধসংশ্লিষ্টতাও পুলিশ বাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কেবল কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির উন্নয়ন ঘটবে—এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। এর পরও এটি করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতিসহ দায়িত্ব পালনের সামগ্রিক পরিবেশ ঠিক করতে হবে। বলা হয়ে থাকে, পুলিশে চাকরি নেওয়ার জন্য বর্তমানে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। যদি এই দাবি আংশিকও সত্য হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে কখনো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। তারা যত টাকা দিয়ে চাকরিতে ঢুকেছে, তার চেয়ে বহুগুণে বেশি টাকা উপার্জনেরই চেষ্টা করবে। আর তা করতে গিয়ে মাদক বিক্রেতা কিংবা চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীদের সঙ্গে হাত মেলাবে, নয়তো সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করবে।

কথায় বলে, ‘গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি দিলে লাভ হয় না।’ পুলিশ বাহিনীরও গোড়া ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পদোন্নতিসহ সব ক্ষেত্রে নিয়মনীতি বজায় রাখতে হবে। আশা করি, সরকার পুলিশ বাহিনীর যথাযথ উন্নয়নে সত্যিকার অর্থেই আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।

-সম্পাদক

x

Check Also

জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে এগিয়ে আসুন

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে জাকাত। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতিবছর স্বীয় আয় ...

Scroll Up