পৃথিবীর যে স্থানটুকু জান্নাতের অংশ হিসেবে বিবেচ্য

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা শহরে মসজিদে নববীর একটি স্থানের নাম রিয়াজুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান। এ স্থান পুরো পৃথিবীর মধ্যে একেবারেই পৃথক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অতি বরকতময় একক স্থান। ভূপৃষ্ঠের কোথাও এর মতো জায়গা নেই। এখানে নফল নামাজ ও ইবাদত করার জন্য সাহাবায়ে কেরামের ভিড় লেগে থাকত সব সময়। আজো মসজিদে নববীর এ অংশ মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি লাভের মাধ্যম হয়ে আছে।
রিয়াজুল জান্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মসজিদে নববীতে নবীজির মিম্বর থেকে তাঁর হুজরা পর্যন্ত স্থান। হাদিসে এ স্থানের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ হতে একটি বাগান আর আমার মিম্বর আমার হাউজের ওপর।’ (অর্থাৎ এ মিম্বরটিই কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসারের পর স্থাপিত হবে) (সহিহ বুখারি : ১১৯৬, ১৮৮৮; সহিহ মুসলিম : ১৩৯১)
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবনে নাজ্জার (রহ.) লেখেন, অনেকের মতে, নবীজির মিম্বর ও ঘরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানের বিপরীত দিকে অবস্থিত। অনেকের মতে, স্থানটি প্রকৃতই জান্নাতের বাগান। আখেরাতে এ স্থানকে জান্নাতে রূপান্তরিত করা হবে। অনেকের মতে, এ স্থানে রহমত নাজিল হয় আর এখানে জিকিরের আসর কায়েম করলে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। সে হিসেবে এটি জান্নাতের বাগানের মতো।
হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য জান্নাতের একটি বাগান, যেখানে রহমত নাজিল হয় এবং সৌভাগ্য অর্জিত হয়; নবীজির যুগে যেমন হত। অথবা এর অর্থ হলো, এখানে ইবাদত করলে জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। সুতরাং এ স্থানকে রূপক অর্থে জান্নাত বলা হয়েছে। অথবা এ হাদীস মূল অর্থেই প্রযোজ্য হবে। এর দ্বারা প্রকৃত জান্নাত উদ্দেশ্য। আখেরাতে এ স্থানটিকে জান্নাতের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ হলো উক্ত হাদিসের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

ইমাম সামহুদী (রহ.) বলেন, শেষের মতটি আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। ইবনে নাজ্জার (রহ.) এর মতও এমন। ইমাম মালেক বিন আনাস (রহ.) ও একে বাহ্যিক অর্থে ধরে বলেছেন, ‘এ স্থান জান্নাতের একটি বাগান। একে জান্নাতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হবে। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মতো এ স্থান ধ্বংস হবে না।’ একদল আলেম ইমাম মালেক (রহ.) এর উক্ত কথা সমর্থন করেছেন।
হাদিসের দ্বিতীয় অংশ ‘আমার মিম্বর আমার হাউজের ওপর হবে’ এ কথার অর্থ হলো, কেয়ামতের দিন এ মিম্বরকেই হাউজে কাউসারের ওপর স্থাপন করা হবে। অধিকাংশ আলেমের মতে, এ মিম্বরই হাউজে কাউসারের মিম্বর হবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীস দ্বারা এ কথার সমর্থন পাওয়া যায়— ‘আমার মিম্বর জান্নাতের একটি বাগানের ওপর স্থাপিত হবে।’ (আল মুজামুল আউসাত : ৪/ ৯৬, ৩১১২)
ইমাম তাবারানী (রহ.) আবু ওয়াকেদ লাইসি (রহ.) থেকে একটি মারফু হাদীস বর্ণনা করেন— ‘নিশ্চয় আমার মিম্বরের পায়া জান্নাতে স্থাপিত হবে।’ (আল মুজামুল কাবির : ৩/২৪৫)
অনেকে বলেন, এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি যদি নবীজির মিম্বরের উদ্দেশ্যে গমন করে এবং তার কাছে ইবাদত করে, তবে এ আমল তাকে হাউজে কাউসারের কাছে পৌঁছে দেবে এবং সে হাউজের পানি পান করার উপযুক্ত বানিয়ে দেবে। (ফাতহুল বারি : ৪/১৩০)
ইবনে হাযাম (রহ.) বলেন, রিয়াজুল জান্নাহকে জান্নাতের বাগান বলা হয়েছে রূপকভাবে। কেননা একে প্রকৃত অর্থে ধরা হলে এ স্থানটি এমন হওয়া উচিত ছিল, যেমনটি জান্নাতের ব্যাপারে পাওয়া যায়। জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আপনি জান্নাতে ক্ষুধার্ত ও বিবস্ত্র হবেন না।’ (সূরা তাহা : ১১৮)
এ কথা বলার উদ্দেশ্য কেবল এতটুকু যে, নবীজির ঘর থেকে মিম্বর পর্যন্ত স্থানে নামায আদায় করা জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। যেমন সুন্দর দিনকে জান্নাতের দিন বলা হয়। এমন সাদৃশ্যপ্রদানের আরেকটি উদাহরণ হলো, হাদিসে আছে : ‘নিশ্চয় জান্নাত রয়েছে তরবারির ছায়ায়।’ (সহিহ বুখারি : ৩০২৫; সহিহ মুসলিম : ১৭৪২) যদি এ কথা প্রমাণিত হয়, হাদিসের বাক্যটি প্রকৃত অর্থেই প্রযোজ্য, তাহলেও এ ফজিলত শুধু ওই নির্দিষ্ট স্থানের ক্ষেত্রেই হবে।
মসজিদে নববীতে আগমনকারী প্রত্যেকের জন্যই উচিত হলো, মদিনায় অবস্থানকালে মসজিদের এ অংশে গুরুত্ব সহকারে ইবাদত-বন্দেগি করা। (সীরাত বিশ্বকোষ : ৪র্থ খণ্ড)
x

Check Also

পাকিস্তানে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ...

Scroll Up