পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল ২০ শহরের পরিচিতি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বেড়েই চলছে পৃথিবীর জনসংখ্যা। ক্রমাগতহারে এ সংখ্যা বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন হিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী দুই হাজার বছর আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৭০ মিলিয়ন। ১৯৯৯ সালে ৭.৭ বিলিয়ন। আর ২২ শতকের মধ্যে ১০ বিলিয়নে পৌঁছে যাবে। ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে জাতিসংঘ পৃথিবীর জনবহুল ২০ শহরকে চিহ্নিত করেছে। আধুনিক নাগরিক জীবনের সুবিধা পেতে লাখ লাখ মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। জাতিসংঘের এক তালিকায় উঠে এসেছে পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল শহরগুলো। একনজরে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল ২০টি শহরকে।

১. টোকিও, জাপান

বর্তমান জনসংখ্যা : ৩,৭৪,৩৫,১৯১ জন

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনবহুল শহর জাপানের রাজধানী টোকিও। অবশ্য বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা গিয়ে আনুমানিক ৪ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ১৯৯০ সালে শহরটির জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২৫ লাখের কিছু বেশি। শহরটির আয়তন ৮৪৫ বর্গমাইল।

২. দিল্লি, ভারত

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,৯৩,৯৯,১৪১ জন

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহরের তালিকায় নাম রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দিল্লির জনসংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশি। দিল্লির বর্তমান জনসংখ্যা দুই কোটি ৫০ লাখের মতো। ১৪৮৪ বর্গকিলোমিটারের ১১,০০০ এরও বেশি লোক বসবাস করে। জাতিসংঘের ২০১৪ সালের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে ভারতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা সর্বাধিক হবে। এমনকি জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে পেছনেও ফেলতে পারে। পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর হিসেবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দিল্লির দখলে থাকবে। দিল্লির আনুমানিক জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন কোটি ৬০ লাখে। দিল্লি বায়ুদূষণে প্রথম।

৩. সাংহাই, চীন

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,৬৩,১৭,১০৪ জন

বিশ্বের তৃতীয় জনবহুল শহরের তালিকায় নাম রয়েছে চীনের সাংহাই। ১৯৯০ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ৭৮ লক্ষ ২৩ হাজারের কিছু বেশি। চীনের সবচেয়ে বড় শহর সাংহাই গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল হাব হিসেবেও পরিচিত। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ বলছে, সাংহাই বিশ্বের বৃহত্তম শহর যা ২০ বছরের জন্য সবচেযে দ্রুত বিকাশমান হয়েছে। ১৯৯২ -২০০৯-এর বৈশ্বিক মন্দা ছাড়া ১৯৯২ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর দ্বিগুণ অঙ্কের জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখা গেছে। এবং এখনো বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধির গতি ধীর হচ্ছে। দূষণ যেমন রয়েছে তেমনি আবাসন সমস্যাও রয়েছে এই শহরটিকে।

৪. সাও পাওলো, ব্রাজিল

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,১৮,৪৬,৫০৭ জন

সাও পাওলো শহরটি ব্রাজিলের সবচেয়ে জনবহুল ও বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী শহরটির লোকসংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজারের মতো। ১৯৩০ সাল থেকে এখানে লোকজন এসে ভিড় জমাতে থাকে। শহরে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী আছে ৫৮.২০ শতাংশ। কট্টরপন্থি আছে ২২.১১ শতাংশ। এ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোক আছে। এটি অভিবাসীদের একটি শহরও বলা যায়। ৮১% শিক্ষার্থী বলেছিলেন যে তারা বিদেশি অভিবাসীদের বংশধর। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৩ মিলিয়নে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিচ্ছে।

৫. মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,১৬,৭১,৯০৮ জন

ওয়ার্ল্ডস ক্যাপিটালসিটি ডট কম অনুসারে মেক্সিকো অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস (শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির জন্য বিশ্বে ১৮তম স্থানে রয়েছে), মেক্সিকো সিটিও বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এবং ঘনতম শহরের একটি। বিশ্বে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। প্রকৃতপক্ষে, মেক্সিকোর পুরো জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মেক্সিকো সিটিতে বাস করে। আশ্চর্যজনকভাবে প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালের পর থেকে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরটির আয়তন ১ হাজার ৪৮৫ বর্গকিলোমিটার।

৬. কায়রো, মিসর

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,০৪,৮৪,৯৬৫ জন

মিসরের রাজধানী কায়রো। শহরটি নীল নদের তীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে কমপক্ষে চতুর্থ শতাব্দী থেকে বসতি স্থাপন করেছে। তবে এই শহরের সূচনা বলা হয় প্রস্তর যুগে। ১৯৫০-এর দশকে মধ্যযুগে দুর্ঘটনা ও শহর-ধ্বংসাত্মক দাঙ্গার পরেও এই শহরের বিস্তৃতি ঘটেছে। মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া কায়রোর আকারের মাত্র ৩০ শতাংশ। জলপথে যোগাযোগ স্থাপনের সুবিধার্থে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে এ অঞ্চলটি। কিন্তু এটি সত্যিকারের উন্নতির মুখ দেখে প্রথম ফারাও মেনেসের সময়ে। বিংশ শতাব্দীতে এসে সেতু এবং বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় কায়রোতে। এত সব উন্নতির কারণে এ নগরীর জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৯২৭ সালের মাথায় এক মিলিয়ন হয়ে যায়।

৭. ঢাকা, বাংলাদেশ

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,০২,৮৩,৫৫২ জন

দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরের তালিকায় ৭ম স্থানটি দখল করেছে ঢাকা। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৩০০০ মানুষ বসবাস করছে। এছাড়া ২০০০ লোক প্রতিদিন নগরে বসবাসের জন্য আসছে। ২০১৪ সালে শহরটির জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে এর সংখ্যা ছিল ৯৮ লাখের মতো। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউশন পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকা হবে বিশ্বের তৃতীয় জনসংখ্যাবহুল শহর। ওই সময় এর জনসংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটি ৫২ লাখ। এই শহরের এক-চতুর্থাংশ মানুষের এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাসবাস করে এবং প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ বস্তিবাসী।

৮. মুম্বাই, ভারত

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,০১,৮৫,০৬৪ জন

বিশ্বের জনবহুল শহর হিসেবে এর অবস্থান ৬। মুম্বাই মূলত বিনোদনের ও আনন্দ আয়োজনের শহর। বিশেষভাবে মুম্বাই ফিল্মস্টারদের শহর আবার ক্রিকেট স্টারদেরও শহর। পর্যটকদের কাছে মুম্বাই সর্বদা স্বর্গরাজ্য।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দৃষ্টিতে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহর। জনসংখ্যা ২০১১ সালে সর্বশেষ সরকারি আদমশুমারিতে ১৩ মিলিয়নেরও বেশি। ট্রেনে করে একদিনে ৬ মিলিয়ন মানুষ এই শহরে আসা-যাওয়া করে। গত ২০ বছরে মুম্বাইয়ের জনসংখ্যা বেড়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে বাস্তবে দ্বিগুণ হয়েছে, গ্রামাঞ্চল থেকে অভিবাসীরা কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসায়। মুম্বাই ও এর আশপাশের এলাকার ৪১ শতাংশ বাসিন্দা বস্তিতে বাস করে।

৯. পেইচিং, চীন

বর্তমান জনসংখ্যা : ২,০০,৩৫,৪৫৫ জন

পৃথিবীর একটি ঝকঝকে শহরের নাম পেইচিং। প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস করে চীনের পেইচিং-এ। প্রথম দর্শনে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। চীনাদের জীবনযাত্রার মানও অনেক ভালো। এ শহরে বর্তমানে ১০০ বিলিনিয়ার বাস করছেন। এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনুকরণীয়। অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এখানে শিল্পকলার ক্ষেত্রেও ঘটেছে বিপ্লব। তবে বায়ুদূষণ এখানে অসহনীয় মাত্রায়।

১০. ওসাকা, জাপান

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৯২,২২,৬৬৫ জন

টোকিওর পাশাপাশি জাপানের ওসাকা শহরও অবস্থান করছে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহরের তালিকার শীর্ষে। প্রায় ২ কোটি ১২ লাখ ৩ জন মানুষ বাস করে এই শহরে। জনসাধারণের বসবাসের জন্য জাপান নিরাপদ জায়গা। এ জন্যই হয়তো ওসাকায় এত মানুষের বসবাস। এটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহর হিসেবে স্বীকৃত। ২০১৩ সালের পর থেকে ০.৩ শতাংশ হারে এর জনসংখ্যা কমেছে। সব ধরনের নাগরিক জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই শহরে।

১১. করাচি, পাকিস্তান

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৫৭,৪১,৪০৬ জন

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পাকিস্তানের এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা পাকিস্তানের এক সময়ের কেন্দ্র ‘মেগাসিটি’ করাচিতেই থাকে। যদিও ২০১৮-এর পর থেকে এর বাসিন্দার সংখ্যা ২.২ শতাংশ বেড়েছে। সহিংসতা অপরাধ, বৈষম্য এবং আর্থিক অস্থিতিশীলতার ফলে এখানকার জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেয়েছে। করাচিও বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৪,০০০ লোক বাস করে।

১২. চংকিং, চীন

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৫৩,৫৪,০৬৭ জন

বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধমান শহরগুলোর মধ্যে চংকিং, চীন একটি। বিশ্ব জনসংখ্যা পর্যালোচনায় উল্লেখ করলে বলা যায় এখানকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় কর্মসংস্থান খুবই কম। জীবনযাত্রার মানও আশানুরূপ নয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে এটি সবচেয়ে কম আয়তনের শহর।

১৩. বুয়েন্স আয়ারস, আর্জেন্টিনা

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৫০,৫৭,২৭৩ জন

আর্জেন্টিনার রাজধানী এই শহরটি। এখানে মাত্র ৩ মিলিয়ন লোক ২,৬৮১ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে। এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার আবাসস্থল। গত ৭০ বছর ধরেই এই শহরের জনসংখ্যার হার বেড়ে চলেছে। সচল অর্থনৈতিক অবস্থা থাকা সত্ত্বেও এখানকার মানুষ শুধু ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার কারণে শহরের বাইরে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

১৪. ইস্তাম্বুল, তুরস্ক

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৪৯,৬৭,৬৬৭ জন

বিশ্ব জনসংখ্যা পর্যালোচনা অনুযায়ী ইস্তাম্বুল, পূর্বে কনস্টান্টিনোপল সমস্ত ইউরোপের সর্বাধিক জনবহুল শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে, শহরটির অর্ধেক অংশ এশিয়াতে অবস্থিত। বিবেচনা করা হয় যে, এটি ১৫০২ সালে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল শহর ছিল। এখানেই বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর অবস্থিত। ১৯৮০ সালে শহরটির জনসংখ্যা এখানকার দ্বিগুণ ছিল। দ্রুতই মেট্রোপলিটন শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

১৫. কলকাতা, ভারত

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৪৭,৫৫,১৮৬ জন

ভারত (১.৩ বিলিয়ন) এবং চীন (১.৪ বিলিয়ন) বিশ্বের দুটি জনবহুল দেশ। সুতরাং অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ভারতীয় এবং চীনা শহরগুলো বেশ জনবহুল স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বেশ পুরনো শহর কলকাতা। ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির প্রাক্তন ট্রেডিং পোস্ট, পাশাপাশি মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তর। ভারতের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর হিসেবে কলকাতার পরিচিতি রয়েছে। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান মধ্যম।

১৬. লাগোস, নাইজেরিয়া

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৩৯,০৩,৬২০ জন

আফ্রিকার বৃহত্তম বন্দর শহর। দ্বীপপুঞ্জ দিয়ে সুরক্ষিত লাগোস শহর। ৪৫২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত রয়েছে দ্বীপমালা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানকার অধিবাসীরা এখানে এসেছেন। এই শহরের ৬৬ শতাংশ বাসিন্দাই বস্তি এলাকায় নিম্নমানের জীবনযাপন করেন। প্রধান জীবিকা মাছ শিকার। ১৯১৪ সালে নাইজেরিয়ার রাজধানী শহর ছিল লাগোস। নাইজেরিয়ার প্রদেশও বলা যায় শহরটিকে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির শহরগুলোর মধ্যে লাগোস একটি। রাজধানী না হয়েও এখন জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়েছে শহরটি। ১৯৭০ সালেও বন্দর শহরটিতে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ। মাত্র ৪৭ বছরের ব্যবধানে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে এই শহরটির জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে শহরটিতে বসবাসকারী মানুষের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এ শহরটির জনসংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৩২ দশমিক ৬ মিলিয়ন।

১৭. ম্যানিলা, ফিলিপাইন

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৩৬,৯৮,৮৮৯ জন

কয়েক বছর ধরে ম্যানিলা শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও তারপরও একেবারে কম নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ১৪,৫০০ জন মানুষ বসবাস করে। শহরের কোনো কোনো এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বিস্ময়করভাবে ৭০,০০০ জনও রয়েছে। অনেক দরিদ্র অভিবাসী জীবন-জীবিকার জন্য ম্যানিলায় চলে এসেছেন। ম্যানিলার এই জনসংখ্যা বর্তমান বৃদ্ধির হার তাদের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

১৮. তিয়ানজিন, চীন

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৩৩,৯৬,৪০২ জন

উত্তর-পূর্ব চীনের এই শহরে ১২,০০০ বর্গকিলোমিটার মূলত বন্দর। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে এর জনসংখ্যা ১৮৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাগ্যক্রমে, এর পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে মাত্র ১.৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ম্যানুফেকচারিংয়ের সবচেয়ে বড় কারখানাগুলো এই শহরেই অবস্থিত। যার কারণেই কাজের সুবিধার জন্য মানুষ এই শহরে বসবাস করছে।

১৯. রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,৩৩,৭৪,২৭৫ জন

ব্রাজিলের উপকূলে এই বিশাল শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫,৪০০ জন মানুষ বসবাস করছে। রিও টাইমস অনুসারে এটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ উপযোগী শহর। এখানকার ২০ শতাংশ মানুষের ভালো কোনো বসবাসের জায়গা নেই। এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। জনসংখ্যার দিক থেকে যদিও

পৃথিবীতে উনিশ নম্বরে আছে। যদিও জনসংখ্যা বেড়েছে ১৯৬৫ পর্যন্ত। তখন বৃদ্ধির হার ছিল ৪.২ শতাংশ। সেই হার কমিয়ে ২০১৯ সালে ০.৬১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে দেশটি।

২০. গুয়াংজু, চীন

বর্তমান জনসংখ্যা : ১,২৯,৬৭,৮৬২ জন

২০১৮ সালের পর থেকে চীনের এ শহরের জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে । দক্ষিণাঞ্চলীয় চীনা শহর পার্ল রিভার ডেল্টার শীর্ষে যে শহরটি পূর্বে ক্যান্টন নামে পরিচিত ছিল। গুয়াংজু চীনের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শহর। তিন দশক ধরে এটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা আশপাশের শহরগুলো থেকে এসে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এখানে বসবাস করছে।

x

Check Also

আজও দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ

এমএনএ রিপোর্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া ...

Scroll Up