পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো ভারত

এমএনএ রিপোর্ট : পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা আজ রবিবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ভারতের আভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো। এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে আজ রবিবার দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের (ডিজিএফটি) পক্ষ থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে এ খবর জানা গেছে।

সরকারি এক ঘোষণায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই এখন থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলো, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে ভারতে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে গত কিছুদিন ধরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।

ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইতে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ইতিমধ্যে কেজি প্রতি ৭০-৮০ রুপি ছুঁয়েছে, যা এক মাস আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল।  বর্ষাকালীন অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় আকাশ ছুঁয়েছে রান্নাঘরের অপরিহার্য এই মসলাটির মূল্য। বন্যাকবলিত বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে প্রতি কেজি ৬০ রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের মতো বন্যা কবলিত হওয়ায়, অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও পেঁয়াজের জোগান বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেখানেও দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

গত কয়েক মাসের তুলনায় দেশটিতে পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য কুইন্টাল প্রতি এক হাজার রুপি বৃদ্ধি পেয়েছে। চার বছরের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধিতে রেকর্ড ছুঁয়েছে মসলাটি। শুধু গত ছয় মাসেই কেজি প্রতি ২৫ রুপি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

মূল্যবৃদ্ধির আঁচ থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে, দেশজুড়ে ৫০,০০০ টন অতিরিক্ত পেঁয়াজ মজুত করেছে ভারত সরকার। রপ্তানি বন্ধ করতে এবং দাম কমাতে এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানিতে প্রতি টন ৮৫০ ডলার রপ্তানিমূল্য ধার্য করেছে ডিজিএফটি। অবশেষে আজ রবিবার দেশের আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক সর্বোচ্চ সংস্থাটি সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি অতিদ্রুত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ রবিবার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ভারত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে, যার একটি বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশে।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। যার বেশিরভাগটাই আমদানি হয় ভারত থেকে।

ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

আর ওই খবরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম রাতারাতি বেড়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক কর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে।

শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা সুভাষ বলেন, ভারত পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দেবে।

x

Check Also

আবরার হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ...

Scroll Up