প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্ম স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

এমএনএ রিপোর্ট : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মদিন ও ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা ও কিশোর বাংলা’র যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে একটি স্মারক গ্রন্থ। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন কিশোর বাংলার সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মীর মোশাররেফ হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর জীবন বড়ই বৈচিত্রময়। সংগ্রামমুখর তাঁর জীবনের বেশিরভাগ অংশই কেটেছে বাঙালির স্বাধীনতা আদায়ের জন্য জেলখানায়। নিজ জাতির জন্য এরকম লড়িয়ে নেতা দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। তাঁর গড়া বাংলাদেশ এখন পালন করছে জাতির জনকের জন্ম শতবর্ষ। তাঁকে নিয়ে রয়েছে অসংখ্য সাহিত্য। রয়েছে অসংখ্য বিশ্লেষণ। তাঁর প্রতিটা কাজ ও উদ্যোগকে জাতি স্মরণ করছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পর্যায়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান। মাত্র পঞ্চান্ন বছরের জীবনে তিনি যা কাজ করেছেন, শতবর্ষী কোনো মানুষের পক্ষেও এক জীবনে এতটা কাজ করা প্রায় অসম্ভব পর্যায়ে। কিন্তু জাতিকে সত্যিকার দিক নির্দেশনা দেওয়া, সঠিক নেতৃত্ব দেওয়া এবং বিশেষ করে পরাধীন একটি জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেওয়া কেবল বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত এ স্মারক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর বৈচিত্রময় জীবন, রাজনীতিসহ রয়েছে তাঁকে নিয়ে রচিত সাহিত্যও। প্রত্যেকটা লেখার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে শিশু-কিশোরদের কাছে। এই স্মারকগ্রন্থে দেশসেরা অনেক নবীণ-প্রবীণ বঙ্গবন্ধু গবেষক, প্রাবন্ধিক, কবি-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা লিখেছেন বেশ কিছু প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, গল্প, কবিতা, ফিচারসহ অনেক কিছু। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই লেখা হয়েছে হাজার হাজার গ্রন্থ। কিন্তু এই স্মারকগ্রন্থটিতে শিশু-কিশোরদের জন্য উপযোগী করে তোলার প্রয়াসই এই গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার মহানত্ব, স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করার ক্ষেত্রে ও ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার জন্য তাঁর যে দিকনির্দেশনা সেটিকে তুলে ধরাই এই স্মারকগ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার রয়েছে একটি অন্যরকম স্থান। এখানেই জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তাঁর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাওয়া তাঁর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মও এই টুঙ্গিপাড়াতেই।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে এই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করার মাধ্যমে  দিনটি শুরু হয়। এরপর শিশু কিশোরদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে শিশু কিশোরদের নিয়ে কেক কাটা হয়। এরপরেই ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শততম জন্ম স্মারকগ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবনের উপরে একটি আলোচনা সভা শেষে সারা দেশের জাতীয় সাংস্কৃতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম (এমপি), বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান উপদেষ্টা ও দ্যা ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কিশোর বাংলার সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মীর মোশাররেফ হোসেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার উপদেষ্টা ড. ইনামুল হক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীত শিল্পী শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পরিচালক মহিউদ্দিন মানু, সভাপতি মিয়া মনসফ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোহাম্মদ, সারা দেশের জাতীয় সাংস্কৃতিক পুরস্কারপ্রাপ্তরা ও তাদের অভিভাবকগণ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সারা দেশের সংগঠক ও কর্মীবৃন্দসহ সহস্রাধিক শিশু কিশোর।

x

Check Also

আবরার হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ...

Scroll Up