প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল

43

এমএনএ রিপোর্ট : হাওয়া ভবনে ‘র’-এর লোকজন বসে থাকতেন—প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পাবলিক পারসেপশন অন্য রকম আছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই নাকি “তাঁরা” বসে থাকেন। কারা বসে থাকেন, তা আমরা জানি না। এটা পাবলিক পারসেপশন। যদি তা-ই হয়, এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।’

আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভা শেষে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। এর আগে এক যৌথসভায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করে তা ঘোষণা করেছে দলটি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাধীনতা দিবসে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীসহ সারাদেশে শোভাযাত্রা করা হবে।

বিএনপি ২০০১ সালে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাই যদি হয়, তাহলে পরে প্রধানমন্ত্রী কার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসলেন?’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের হতবাক করেছে। যেভাবেই হোক তিনি সরকারপ্রধান। এতবড় দায়িত্বে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি তিনি কিভাবে করতে পারলেন, তা আমাদের চিন্তায় আসে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বুঝিয়ে দিয়েছেন, এদেশে বিদেশীরা বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনে কাজ করছে। এটা জাতির জন্য কতটা মঙ্গলজনক, তা দেশের মানুষ সহজেই অনুমান করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যায়, ২০১৪ সালে ভারতের ‘র’ এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। ওই নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসলেন। এরশাদকে নির্বাচনে অংশের ব্যবস্থা করলেন। তাহলে কী আমরা বুঝতে পারি ‘র’ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিল!’

গত শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারাতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও যুক্তরাষ্ট্র একজোট হয়েছিল। তখন র-এর প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের লোক বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হাওয়া ভবনে বসে থাকতেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তাঁকে সবকিছু চিন্তা করে কথা বলা দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখতে পাই না। তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে অবলীলায় মিথ্যাচার করার ফলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরও বিভক্ত হয়। দেশের মানুষের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থে যেটা বলা উচিত, সেটাই তাঁর বলা উচিত।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের প্রচুর সম্পর্ক রয়েছে। আশায় ছিলাম, তিস্তার পানি অন্তত পাব। কিন্তু আজ পর্যন্ত পাইনি। শুধু তা-ই নয়, ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে, পানি দেওয়া সম্ভব না। অথচ আমাদের দিক থেকে যা দেওয়ার, সব দিয়ে দিয়েছি। ট্রানজিট দেওয়া হয়েছে, নৌপথে বন্দর ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ একটু সুবিধাও পায়নি। উপরন্তু সীমান্তে বেআইনিভাবে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতীয় পত্রপত্রিকায় এসেছে, ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে যাচ্ছে। সেখানে কী হচ্ছে, তা বলা উচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে যায়, অর্থাৎ স্বার্থের সংঘাত ঘটে, এ ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না।’

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব যৌথসভায় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান, এমরান সালেহ, শামা ওবায়েদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।